নৌকা’র মনোনয়পত্র সংগ্রহ করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সাইফুল –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

পঞ্চম ধাপে আগামী ১৮ জন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। যার মধ্যে রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলা পরিষদও রয়েছে। ওই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক পেতে কালুখালীর বিভিন্ন স্তরের নয় জন নেতা কেন্দ্র থেকে সংগ্রহ করেণ মনোনয়নপত্র। তবে সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে কালুখালী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান কাজী সাইফুল ইসলামকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে বলে জানাগেছে। গত রবিবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ড ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় সাইফুলের নাম ঘোষনা করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন, দলীয় মনোনয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। পরবর্তীতে দলটির উপ-দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিল্পব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এদিকে, চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন কাজী সাইফুল ইসলাম। সেই সাথে তিনি স্থানীয় এমপি, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞা প্রকাশ করেন এবং আগামী ১৮ জুনের নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যাক্ত করেছেন। তিনি মঙ্গলবার মনোনয়পত্র জমা দেবেন বলেও জানিয়েছেন।
অপর দিকে, আজ সোমবার দুপুরে কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে দলীয় মনোনয়পত্র সংগ্রহ করেছেন কাজী সাইফুল ইসলাম। সে সময় কালুখালী উপজেলা আ:লীগের সাধারণ সম্পাদক সামসুল আলম, শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক রজব আলী, রতনদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ আজিজসহ দলীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, রাজবাড়ীর ৫টি উপজেলার ৪ টিতে ৩য় ধাপে গত ২৪ মার্চ ভোট গ্রহণ করা হয়। আগামী ১৮ জুন ৫ম ও শেষ ধাপে অনুষ্ঠিত হবে কালুখালী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। ২০১০ সালে ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হয় এই উপজেলা। এবারের নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে দ্বিতীয় বারের মত অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কালুখালী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন।
রাজবাড়ী জেলার দুটি সংসদীয় আসনে উপজেলা রয়েছে ৫টি। ৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৫টি উপজেলার ৪টিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও বাঁকী রয়েছে ২০১০ সালে গঠিত হওয়া কালুখালী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন।
৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ৫ম ধাপে ১৮ জুন কালুখালী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারন করা হয়েছে বলে জানাগেছে। এ উপজেলাটি ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এবং এবারের নির্বাচনের মাধ্যমে ২য় বারের মত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে উপজেলাটিতে।
উপজেলার প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান কাজী সাইফুল ইসলাম। যিনি ক্ষমতাশীন দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কালুখালী উপজেলার শাখার সভাপতি ও জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য। এবারের নির্বাচনেউ তিনি আওয়ামীলীগের মনোনিত নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করতে চান।
কাজী সাইফুল ইসলাম এর জীবনী সুত্রে জানাযায়, তিনি কালুখালী উপজেলার মাঝবাড়ী ইউনিয়নের মাঝবাড়ী গ্রামের কাজী নুরুল ইসলামের ছেলে। ১৯৭১ সালের ২ জুন তিনি জন্মগ্রহন করেন। তার বাবা ছিল মুজিব বাহিনীর সদস্য এবং তাদের বাড়ীতে ছিল মুজিব বাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্প। শিক্ষাগত দিক দিয়ে তার বিএসএস পাশের যোগ্যতা রয়েছে। রাজনৈতিক জীবনে তিনি একজন সফল রাজনীতিবীদ। ছাত্রজীবন থেকে তিনি আওয়ামী রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। ২০০৪ সালে সাবেক বৃহত্তর পাংশা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাহিত্য ও সংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদকের দ্বায়িত্ব পালন করেন এবং ২০০৭ সালে জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভূক্তি হন। এছাড়া ২০১১ থেকে ২০১৫ সালের উপজেলা কাউন্সিলের আগ পর্যন্ত উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-আহবায়ক দ্বায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০১৫ সালের অক্টোবরে দলীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে তিনি উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতির দ্বায়িত্ব পান। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে জাতীয় নির্বাচনসহ সকল নির্বাচনে দলের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন তিনি। রাজনৈতিক জীবনে ২০০১ সালের পর চার দলীয় জোটের হামলা-মামলা, জেল, নির্যাতন উপেক্ষা করে দলকে শক্তিশালী রাখতে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। এর মধ্যে ২০০৩ ও ২০১১ সালে মাঝবাড়ী ইউপি নির্বাচনে অংশ নিয়ে দুই দুই বার তিনি ওই ইউপির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এ সময় তিনি অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন সাধারণ জনগণের জন্য। সবশেষ ২০১৪ সালের মে মাসে কালুখালীর প্রথম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামীলীগের দলীয় সমর্থিত প্রার্থী হয়ে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে দল এবং সাধারন মানুষের প্রতিনিধি হয়ে কাজ করে চলছে।
ইউপি চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে তিনি রাস্তা-ঘাট, স্কুল-কলেজ-মাদরাসা ও বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নসহ এলাকার আর্থ সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখাসহ ১ টি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। পড়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবার তিনি স্থানীয় সাংসদ মোঃ জিল্লুল হাকিমের সহযোগিতায় উপজেলার উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ শুরু করেন। ইতিমধ্যে ৩টি উচ্চ বিদ্যালয়, ১টি মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছেন। শিক্ষার মান উন্নয়নে নতুন নতুন অফিস স্থাপন, নতুন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্র নির্মাণ, থানা ভবন নির্মানের জমির ব্যবস্থা দ্রুত বাস্তবায়নে প্রদক্ষেপ গ্রহন করেছেন। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করেছেন। নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি, নারীর কর্মসংস্থানের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান তৈরি করতে উদ্ভাবনী প্রকল্প গ্রহন করেছেন। সরকার ঘোষিত সমস্ত কর্মসূচি যথাযথ ভাবে পালন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে নিরলস ভাবে কাজ করছেন। উপজেলার প্রধান মোড় চাঁদপুর বাসষ্ট্যান্ডে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ করে বঙ্গবন্ধুর চত্তর গড়ে তুলেছেন এবং সেখানেই বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পাঠাগার নির্মান করেছেন। এছাড়া বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব প্রতিবন্ধী স্কুল নির্মানের কাজ শুরু করেছেন।

(Visited 77 times, 1 visits today)