রাজবাড়ী বার্তা’র রিপোর্ট দেখে নিলয়ের পড়াশোনার দায়িত্ব নিলেন এসপি, জানালেন ফুলেল শুভেচ্ছা –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

দ্বিতীয় শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত তার রোল নম্বর ১। পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণীতে জিপিএ-৫। ভাল ফলাফলের রেশ এখনো কাটেনি। রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলা শহরের রতনদিয়া রজনীকান্ত উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষাতেও পেয়েছে জিপিএ-৫। বলছিলাম অত্যান্ত মেধাবী ছাত্র নিলয় কুমার নন্দির কথা। তাকে নিয়ে গত ১২ মে জেলার সবচেয়ে জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল
রাজবাড়ী বার্তা ডট কম -এ প্রকাশিত হয়েছে “উচ্চ শিক্ষার বাঁধা ডিঙ্গাবে কিভাবে মেধাবী নিলয়” এই শিরোনামে একটি নিউজ। ওই নিউজের প্রেক্ষিতে নিলয়ের পড়াশোনার সকল দায়িত্ব নিয়েছেন, রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি বিপিএম,পিপিএম।
আজ সোমবার সকালে রাজবাড়ীর পুলিশ লাইনের ড্রিল সেডে অনুষ্ঠিত হয় জেলা পুলিশের মাসিক কল্যান সভা। ওই সভায় ডেকে আনা হয় নিলয় ও তার বাবা জেলার রতনদিয়া গ্রামের হত দরিদ্র বাতাশা বিক্রেতা নব কুমার নন্দীকে। সেখানে মেধাবী নিলয়কে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং তার পরিবারের সদস্যদের জন্য মিষ্টি প্রদান করেন পুলিশ সুপার। সেই সাথে পুলিশ সুপার নিলয়ের কলেজে ভর্তি, বই ও কলেজ ড্রেস তৈরীর ব্যয়ভার গ্রহণের ঘোষনা দেন। ওই সময় আনন্দে কেদেঁ ফেলেন নিলয় এবং তার বাবা।
রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি বিপিএম,পিপিএম রাজবাড়ী বার্তা ডট কম ও এ রিপোর্টারের প্রশংসা করে বলেন, তারা নিলয়ের মত একজন মেধাবী ছাত্রীকে তুলে ধরছে। ফলে তিনিও নিলয়ের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগে পেয়েছেন। তিনি নিলয়কে ঢাকার সাভার ক্যান্টরমেন্ট কলেজে ভর্তির চেষ্টা করার জন্য বলেছেন। সেখানে ভর্তি হতে যে ব্যয় তার পুরোটাই তিনি দেবেন। শুধু তাই নয় নিলয়ের এই ভালো ফলাফলের ধারা অব্যহত থাকলে তারও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও ঘোষনা দেন। তিনি আরো বলেন, ব্যক্তিগত ভাবে তিনি বেশ কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রীকে তাদের পড়াশোনার খরচ চালাচ্ছেন। এর মধ্যে কয়েকজন পড়াশোনা শেষ করে কর্মজীবনেও প্রবেশ করেছেন।
চোখের আনন্দ অশ্রু মুছতে মুছতে নিলয় বলেন, আমি রাজবাড়ী বার্তা ডট কম-এর কাছে চির কৃতজ্ঞ।
রাজবাড়ী বার্তা ডট কম তার সংবাদটি প্রকাশ করায় রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার তাকে ডেকে এনেছেন, আদর করেছেন, মিষ্টি ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং তার কলেজে পড়াশোনার দায়িত্বও নিয়েছেন। এতে তিনি আনন্দিত। এখন অনেকটা নিশ্চিন্ত মনে কলেজে ভর্তি হতে পারবেন এবং পড়াশোনা করতে পারবেন। তিনি আরো বলেন, পুলিশ সুপারের নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকার সাভার ক্যান্টরমেন্ট কলেজে ভর্তির জন্য আবেদন করেছেন। আশা করছেন তিনি ওই কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তির্ণ হয়ে সেখানে পড়ার সুযোগ পাবেন।
নিলয় জানায়, তার বাবা অত্যান্ত দরিদ্র একজন মানুষ। তবে তিনি তার তিন ভাই বোনের পড়াশোনার প্রতিযতœশীল। সমর্থ না থাকলেও কখনো তাদের পড়াশোনায় বাঁধা হয়ে দাঁড়াননি। যে কারণে তার বড় বোন নিশিতা নন্দী এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে এবং প্রথম শ্রেণীতে পড়ছে ছোট ভাই নিন্ময় নন্দী। আর তার মা মাধবী রানী নন্দীর আগ্রহের নেই কোন কমতি। তার বাবা রতনদিয়া বাজারের বাতাশা ও চা-পান বিক্রি করেন। নুন আনতে পানতা ফুরায় অবস্থা তাদের। যে কারণে বাবার দোকানে বসা এবং ৪ থেকে ৫টি প্রাইভেট পড়িয়ে নিজের পড়াশোনার খরচ নিজেই জোগার করে আসছে নিলয়। এসএসসি পরীক্ষার মধ্যেও সে চার জনকে প্রাইভেট পড়িয়েছে। সে তার শিক্ষক ও বাবা-মার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানায়, সকলের সহযোগিতা ছাড়া এমন ফলাফল করা সম্ভব নয়।
নিলয়ের মা মাধবী রানী নন্দী জানান, নিলয় অত্যন্ত মেধাবী। ওর রোল নম্বর কখনো ২ হয়নি। অথচ ওকে তিনি দু’বেলা দু’মুঠো ভাল খাবার খাওয়াতে পারেন নি। দিতে পারেন নি ভালো পোষাক। বই, কলাম, খাতা সব কিছুই নিলয় প্রাইভেট পড়িয়ে টাকা রোজগার করে কিনেছে। উল্টা মাঝে মধ্যে সে পরিবারের সদস্যদের পেছনেও অর্থ ব্যয় করেছে।
রাজবাড়ী বার্তা ডট কম -এর প্রতি কৃতজ্ঞ প্রকাশ করে নিলয়ের বাবা নব কুমার নন্দীকে বলেন, নিলয়ের উচ্চ শিক্ষা নিয়ে তিনি ছিলেন চিন্তিত। কারণ তার ছেলে অত্যন্ত মেধাবী। তবে তারতো নেই কোন সমর্থ। উচ্চ শিক্ষার জন্য যে পরিমান ব্যয় করা দরকার তার কিছুই নেই তার। অথচ কালের কণ্ঠ তার ছেলের ভাগ্যেও চাকা ঘুরিয়ে দিয়েছে। রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার তার ছেলের পড়াশোনার ভার গ্রহণ করেছে। একজন বাবার এর চাইতে আর সুখের খবর কি থাকতে পারে। তিনি পুলিশ সুপারের দীর্ঘয়ু কামনা করেন।
নিলয়ের শিক্ষক নাজমুল হাসান মামুন জানান, বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র নিলয়। ওর মেধা ও অধ্যবশায় অতুলোনীয়। যে কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তার প্রতি ছিলেন অত্যান্ত যতœশীল। তারা গর্বিত নিলয়কে নিয়ে। তবে নিলয়ের কলেজে পড়া নিয়ে তারা ছিলেন চিন্তিত। আর সেই চিন্তা দুর করেছেন রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার। তিনিও পুলিশ, সুপারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সেই সাথে
রাজবাড়ী বার্তা ডট কমকে জানান অন্তরের অন্ত স্থল থেকে শুভকামনা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আইয়ুব আলী জানান, পরীক্ষার বোর্ড ফি ছাড়া কখনো কনো অর্থ নিলয়ের কাছ থেকে তারা নেননি। সেই সাথে বিদ্যালয়ের বিজ্ঞানের শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকরাও প্রায় বিনামূল্যে নিলয়কে পড়িয়েছে। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় তার বিদ্যালয় থেকে ২৭১ জন শিক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করে। এর মধ্যে ২০০জন পাস করেছে এবং নিলয়সহ ৩জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।

(Visited 2,043 times, 1 visits today)