কালুখালী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন, সাইফুলকে পুনঃরায় চান ৪২ নেতা, সভানেত্রীর কাছে আবেদন –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

পঞ্চম ধাপে আগামী ১৮ জুন অনুষ্ঠিত হবে রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলা পরিষদের নির্বাচন।
ওই নির্বাচনকে সামনে রেখে শুরু হয়েছে প্রচার প্রচারনা। তবে প্রচারনা ও দলীয় সমর্থনের দিক দিয়ে এগিয়ে রয়েছেন, কালুখালী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কাজী সাইফুল ইসলাম।
তাকে মনোনয়ন দিতে ইতোমধ্যেই একাট্টা হয়েছেন, দলীয় নেতা, বীরমুক্তিযোদ্ধা ও ইউপি চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। গত ৫ মে তারা বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভানেত্রী বরাবর একটি আবেদনপত্রও পাঠিয়েছেন। ওই আবেদনপত্র বলা হয়েছে, উপজেলা নির্বাচনকে সামনে রেখে কিছু সংখ্যক স্বার্থন্বেষী ও কুচক্রী ব্যক্তি রাজনৈতিক ফয়দা হাসিলের জন্য কালুখালী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কাজী সাইফুল ইসলামের নামে বিভিন্ন জায়গায় অন্যের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ দাখিল করেছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি। পক্ষান্তরে কাজী সাইফুল ইসলাম ২০১৪ সালে স্থানীয় দলীয় মনোনয়নে নতুন এই উপজেলায় বিপুল ভোটে প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, বিদ্যুতায়ন, সুশাসন ও নারীর ক্ষমতায়ন প্রতিষ্ঠাসহ বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব প্রতিবন্ধি স্কুল ও বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্য, বঙ্গবন্ধু পাঠাগার, বঙ্গবন্ধু চত্বর নির্মাণ, শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের জায়গার ব্যবস্থাসহ ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণে নিরলস ভাবে কাজ করে আসছেন। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে তার পিতা মুজিব বাহিনীর সদস্য ছিলেন এবং তার বাড়ীতে মুজিব বাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্প ছিলো। কাজী সাইফুল ইসলাম উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করার পর হইতে বিগত সবকটি নির্বাচনে দল শতভাগ সফলতা অর্জন করেছে ও দলীয় কার্যক্রম গতিশীল হয়েছে। বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে উপজেলার সবকটি ইউনিয়নেই নৌকা মার্কার প্রার্থী বিজয়ী হয়েছে। যা জেলার মধ্যে রেকর্ড। বিগত জেলা পরিষদ নির্বাচনে কালুখালী উপজেলা আওয়ামীলীগ সর্বোচ্চ রেকর্ড করেছে এবং ১৯৯৬ সালের নির্বাচন হতে বিগত সবকটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার ভূমিকা অত্যন্ত বলিষ্ঠ। তাই তিনি আগামী ৫ম ধাপের উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পেলে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবেন। তাই তাকে পুনঃরায় মনোনয়ন দিলে উপজেলার সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের প্রত্যাশা পূরণ হবে।
এ আবেদনের অনুলিপি দেয়া হয়েছে, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, দপ্তর সম্পাদক, ঢাকা ্িভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে।
যদিও কাজী সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, দলীয় মনোনয়ন পেলেই শুধুমাত্র তিনি আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যানপদে প্রতিদ্বন্দীতা করবেন। তিনি আরো বলেন, গত ৪ মে উপজেলা আঃলীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা আঃলীগের সভাপতি ও রাজবাড়ী-২ আসনের এমপি মোঃ জিল্লুল হাকিম। সভায় দলের সিংহ ভাগ নেতা-কর্মী তাকে দলীয় মনোনয়ন প্রদান করার জন্য অনুরোধ করেছেন। সে সময় জিল্লুল হাকিম পরবর্তীতে গনতান্ত্রিক উপায়ে প্রার্থীর তালিকা কেন্দ্রে পাঠাবেন বলেও জানান। সেই সাথে গত ৫ মে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, বীর মুক্তিযোদ্ধা, দলীয় ইউনিয়নের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, বিভিন্ন বাজার বণিক সমিতির প্রধানরা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী বরাবর লিখিত আবেদন প্রদান করেছেন। তিনি ২০০১ সালের পর ৪ দলীয় জোট সরকার কর্তৃক মামলা, জেল ও বিভিন্ন নির্যাতনের শিকার হলেও তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করেছেন। ২০০৩ ও ২০১১ সালে তিনি আওয়ামীলীগের মনোনয়নে বিপুল ভোটে দুই বার মাজবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান ও ২০১৪ সালে কালুখালী উপজেলার প্রথম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। এলাকার প্রতিটি উন্নয়নে তার ব্যাপক অবদান রয়েছে।
জেলা নির্বাচন অফিসার ও কালুখালী উপজেলা নির্বাচনের রিটানিং অফিসার হাবিবুর রহমান জানান, তৃতীয় ধাপে রাজবাড়ী সদরসহ জেলার পাংশা, বালিয়াকান্দি ও গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অত্যান্ত সুষ্টু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ওই নির্বাচন তারা সম্পূর্ণ করেছেন। ফলে এ নির্বাচনের অভিজ্ঞাতা নিয়ে আরো সুন্দর এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কালুখালী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ২১ মে মনোনয়পত্র সংগ্রহের শেষ দিন। বাছাই ২৩ মে, ৩০ মে প্রত্যাহার এবং ১৮ জুন হবে নির্বাচন।

(Visited 1,007 times, 1 visits today)