নার্স চোখ দেখেন, ব্যবস্থাপত্র দেন গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে –

গণেশ পাল, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম : 

গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় আউটডোরের চার নম্বর কক্ষে বিভিন্ন রোগীর চোখের চিকিৎসা করছেন ঝর্ণা নামের একজন সিনিয়র নার্স (সেবিকা)। হাসপাতালে আসা রোগীদের চোখ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তিনি ব্যবস্থাপত্রও লিখে দিচ্ছেন।
হাসপাতালে কর্মরত মেডিকেল এসিস্টেন্ট মো. জাকীর হোসেন জানান, সরকারি এই হাসপাতালে একজন মেডিসিন, একজন সার্জারি, একজন গাইনি ও অবস, একজন চক্ষু, একজন কার্ডিওলজি, একজন ইএনটি, একজন শিশু, একজন চর্ম ও যৌন, একজন অর্থোপেডিক্স ও একজন এ্যান্সেথেসিয়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকার কথা। কিন্তু একজন জুনিয়র কনসালট্যান্ট (কার্ডিওলজি) ও জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অর্থোপেডিক্স) ছাড়া বাকি ৯টি পদ শূন্য রয়েছে।
গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ৫১ শয্যার এই হাসপাতালে অত্যাধুনিক একটি অপারেশন থিয়েটার রয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় সার্জন ও এনেসথেসিস্ট চিকিৎসক না থাকায় গুরুত্বপূর্ণ ওই অপারেশন থিয়েটারটি দীর্ঘ কয়েক বছর যাবৎ বন্ধ রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এক্স-রে মেশিনটি এক বছর চার মাস যাবৎ বিকল হয়ে পড়ে আছে। চিকিৎসক সংকটের পাশাপাশি অপারেশন থিয়েটার ও এক্স-রে মেশিন বিকল হয়ে থাকায় এই হাসপাতালে গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ফলে চিকিৎসা পাওয়ার সামান্যতম সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।
গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসিফ মাহমুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ প্রয়োজনীয় মেডিকেল অফিসার নেই। সেই সাথে অপারেশন থিয়েটার ও এক্স-রে মেশিনটি বিকল। রাজবাড়ী জেলা সিভিল সার্জনের মাধ্যমে বিষয়টি স্বাস্থ্য বিভাগের ডিজি ও মন্ত্রণালয়কে অনেকবার জানানো হয়েছে। কিন্তু তাতে কোন সমাধান হচ্ছে না।’
নার্স (সেবিকা) দিয়ে চক্ষু চিকিৎসা করানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই হাসপাতালে চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। তাই চক্ষু চিকিৎসায় বিশেষ ট্রেনিং করানোর পর ওই নার্সকে দিয়ে চক্ষু চিকিৎসা করানো হচ্ছে।’

(Visited 112 times, 1 visits today)