মসজিদের বারান্দায় হচ্ছে প্রথম সাময়িক পরীক্ষা ! –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

ঝড়ের তান্ডবে ক্ষতিগ্রস্থ স্কুল মেরামত না হওয়ায় রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের পূর্ব উড়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে মসজিদের বারান্দায়। গত মঙ্গলবার সকাল থেকে ওই বিদ্যালয়সহ সদর উপজেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শুরু হয় প্রথম সাময়িক পরীক্ষা। গতকাল বুধবারও একই ভাবে নেয়া হয়েছে পরীক্ষা। অন্যান্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভালো ভাবে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করলেও এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার সময়ও পোহাচ্ছে দূর্ভোগে।
জানাগেছে, ১৯৭০ সালে ওই বিদ্যালয়টি স্থাপন করা হয়। সে সময় প্রমত্ত পদ্মা নদী কয়েক কিলো মিটার দুরে থাকলে এখন তার তা স্কুল ভবন লাগুয়া। বিদ্যালয়টিতে ১৬৮ জন শিক্ষার্থীও জন্য ৭ জন শিক্ষক থাকলেও গত ৩১ মার্চ ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ হবার পর দুইজন শিক্ষককে অন্য স্কুলে বদলী করেছে কর্তৃপক্ষ। ঝড়ে বিদ্যালয়টির টিনের চাল উড়ে যায়। সেই সাথে বিদ্যালয়ের ভবনটির দেয়ালের ক্ষতি হয়। ফলে বিদ্যালয়টির অফিস কার্যক্রম ও পাঠদান কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। কয়েকদিন পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও বর্তমানে শিক্ষার মান বজায় রাখতে বিদ্যালয়ের মাঠের গাছের নিচে, পাশ^বর্তী জামে মসজিদ এবং পরিত্যক্ত বরাট-১ উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ক্লাস ও পরীক্ষা নিচ্ছেন শিক্ষকরা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মর্জিনা খাতুন আন্না বলেন, পদ্মার ভাঙ্গনে কয়েক বছর ধরে বিদ্যালয়টি ভাঙ্গন ঝুঁকিতে ছিলো। এবার ঝড়ে বিদ্যালয়ের টিনের ছাউনি উড়ে গেছে। শ্রেনী কার্যক্রম পরিচালনা করার মতো পরিবেশ না থাকায় গাছের নিচে, পাশ^বর্তী জামে মসজিদ এবং পরিত্যক্ত বরাট-১ উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ক্লাস ও পরীক্ষা নিচ্ছেন তারা। গতকাল প্রথম ও তৃতীয় শ্রেণীর ইংরেজি, দ্বিতীয় শ্রেণীর চারুকারু এবং চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীর বাংলা পরীক্ষা নেয়া হয়েছে।
বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আসজাদ হোসেন আরজু বলেন, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ বিদ্যালয়টির মেরামত কাজ চলছে। টিন প্রাপ্তির জন্য জেলা প্রশাসকের ত্রণ শাখায় আবেদন করা হয়েছে। কাজ শেষ করে শ্রেনী কক্ষে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করার ব্যবস্থা করা হবে। পড়াশুনার মান বজায় রাখতে শিক্ষকরা নানা স্থানে ক্লাস নিচ্ছেন।
সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার বলেন, বিষয়টি উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সেই সাথে সংস্কার কাজও করা হচ্ছে। আশা করছেন দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে।
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাইদুজ্জামান খান বলেন, ইতোমধ্যে ২৫ হাজার টাকা বরাদ্দা প্রদান করা হয়েছে। তবে বিদ্যালয়টি পদ্মা নদীর ভাঙ্গনের কারণে অত্যান্ত ঝুকির মুখে। ফলে তারা চেষ্টা করছেন বিদ্যালয়টি অন্যত্র স্থানান্তরের।

(Visited 95 times, 1 visits today)