রাজবাড়ীতে শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রা: বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের জড়িয়ে ধরে চুমু খাওয়ার অভিযোগ –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

রাজবাড়ী সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের ধর্মসী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ আব্দুল কাইয়ুম -এর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রীদের কারণে অকারণে জড়িয়ে ধরে চুমু খাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ধরণের অভিযোগের ভিত্তিতে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের পক্ষ থেকে দুই সদস্য বিশিষ্ঠ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে তদন্ত কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং ঘটনার স্বীকার ছাত্রীদের বক্তব্য লিপিবদ্ধ করেছে।
সুলতানপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার বাকাউল হোসেন বকু জানান, কাইয়ুম মাষ্টারের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ তদন্তের জন্য গতকাল সকালে ওই বিদ্যালয়ে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের দুই সদস্য বিশিষ্ঠ একটি তদন্ত কমিটির সদস্যরা আসেন। সে সময় ওই তদন্ত কমিটির সদস্যদের কাছে বিদ্যালয়ের ১৫ থেকে ১৬ জন ছাত্রী তাদের সাথে করা অশালিন আচরণের বর্ণনা তুলে ধরেন। ছাত্রীদের বক্তব্য, শাররীক ভাবে কিছুটা বড় হওয়া ছাত্রীদের কাইয়ুম মাষ্টার নানা উছিলায় আদর করেন। আদরের ছলে মূলত তিনি চুমু খাওয়াসহ ছাত্রীদের স্পর্শ কাতর স্থানে হাতও দেন। তারা কাইয়ুম মাষ্টারের ওই অনাকাংখিত আচরণে বিচলিত হলেও স্যার যদি কিছু বলে এই ভয়ে চেপে যায়। তবে তাদের মধ্যে কেউ কেউ অভিভাবকদেরও কাছে ওই সব ঘটনা বলে। তিনি আরো বলেন, কাইয়ুম মাষ্টার লম্পট শ্রেণীর একজন মানুষ। দীর্ঘ দিন ধরে তিনি এ ধরণের অনৈতিক কাজ করে আসছেন। তবে বৃত্তশালী ও এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় প্রতিবারই তিনি রক্ষা পেয়ে আসছেন। তার চাওয়া এমন শিক্ষকদেও কাছে শিশু শিক্ষার্থীরা নিরাপদ নয়। ফলে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি প্রদান করা জরুরী।
স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম বলেন, কাইয়ুম মাষ্টারের বাড়ী একই ইউনিয়নের শ্যামনগর গ্রামে। ওই গ্রামে স্কুল থাকলেও প্রায় সাত বছর আগে একই ধরণের অভিযোগে শিক্ষা অধিদপ্তর তাকে শাস্তি স্বরুপ প্রায় ২০ কিলো মিটার দুরে সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের একটি স্কুলে বদলী করে। পরবর্তীতে নানা ধরণের ততবির চালিয়ে কয়েক বছর পর নিজবাড়ী থেকে দুই কিলো মিটার দুরের ধর্মসী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলী হয়ে আসনে। তবে তার চারিত্রিক বৈশিষ্ঠের উন্নতি হয়নি। সে এ ধরণের অনৈতিক কাজ অবলিলায় করে আসছেন।
তদন্ত কমিটির প্রধান ও সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সহকারী শিক্ষা অফিসার আব্দুস সালাম জানান, গত ১১ এপ্রিল ধর্মসী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ আব্দুল কাইয়ুম-এর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়াশোনা করা এক ছাত্রী (৮) এর বড় ভাই সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। ওই অভিযোগে পত্রে, অভিযোগকারী দাবী করেন, গত ৭ এপ্রিল বিদ্যালয়ের মধ্যে সহকারী শিক্ষক আব্দুল কাইয়ুম তার বোনের সাথে অশালিন আচরণ করেছেন। যে কারণে তিনি ওই শিক্ষকের শাস্তির দাবী জানান। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি ও অপর সহকারী শিক্ষা অফিসার নাসরিন নাহার গতকাল সরজমিনে ওই বিদ্যালয়ে তদন্তে যান। খুব শিঘ্রই তারা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন।
তদন্ত কমিটির অপর সদস্য সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নাসরিন নাহার জানান, তারা অভিযোগকারীর বোনসহ অন্যান্য ক্লাসের ১৫ থেকে ১৬ জন ছাত্রীর সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন। ছাত্রীরা তাদের কাছে অভিযোগ করেছেন, শিক্ষক আব্দুল কাইয়ুম নানা কারণে তাদের শরীরে হাত দিয়ে আদর করেন এবং জড়িয়ে ধরেন চুমু খায়ে থাকেন।
তবে ওই বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল জলিল মোল্লার দাবী ছাত্রীরা ইতোপূর্বে তার কাছে কোন অভিযোগ জানায়নি। তদন্ত কমিটির সদস্যদের আগমনের খবরে বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকলেও কাইয়ুম মাষ্টারের বিরুদ্ধে ছাত্রীরা কি কি অভিযোগ করেছেন তাও তিনি শোনেননি বলে দাবী করেন।
সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নাসরিন আক্তার জানান, অভিযোগ প্রাপ্তির পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাবার পর বিস্তারিত তথ্য জানা সম্ভব হবে। তদন্ত প্রতিবেদনে সহকারী শিক্ষক আব্দুল কাইয়ুম অভিযুক্ত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সদর উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাডঃ ইমদাদুল হক বিশ^াস জানান, সহকারী শিক্ষক আব্দুল কাইয়ুমের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বেও এ ধরণের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। ওই সব অভিযোগে তার বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে। এবারের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আরো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
বিষয়টি জানতে ধর্মসী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ আব্দুল কাইয়ুমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

(Visited 1,437 times, 1 visits today)