ভ্যাটেনারী কম্পাউন্ডারের ভূল চিকিৎসায় গরু রুগ্ন, বাছুরের মৃত্যু-


রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে ভ্যাটেনারী কম্পাউন্ডারের ভুল চিকিৎসায় একটি খামারের ১০টি গরু রুগ্ন পরিনত হয়েছে ও একটি বাছুর মারা যাবার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল বুধবার প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এক সদস্য বিশিষ্ঠ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বালিয়াকান্দি গ্রামের আব্দুল কাদের মোল্লার ছেলে খামারী মাসুদ মোল্লার অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন যাবত বসত বাড়ীতে ডেইরী ফার্ম স্থাপন করে ১১টি বিদেশী গাভী পালন করে আসছি। গত ১৭ দিন যাবত ৫টি গাভী এবং ১টি বাছুর অসুস্থ হলে বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রাণি সম্পদ দপ্তরে যোগাযোগ করি। এরপর প্রাণি সম্পদ অফিস থেকে ভ্যাটেনারী কম্পাউন্ডার হেনা আমার বাড়ীতে গিয়ে গাভী গুলো ও বাছুরটির নাম মাত্র প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। ওই সময় গাভী ও বাছুরের জ্বর ১০৬ ডিগ্রি থাকলেও সে কোন গুরুত্ব না দিয়ে বলে জ্বর সব সময় ১০৬ থাকে। এর মধ্যে একটি বাছুর বেশী অসুস্থ হলেও সে কোন প্রকার চিকিৎসা না দিয়ে মিথ্যা সান্তনা দেয়। গত মঙ্গলবার সকালে বাছুরটি গুরুতর অসুস্থ হওয়ার পর তার সাথে যোগাযোগ করার পরও সে কোন গুরুত্ব না দিয়ে স্বাভাবিক ভাবে নেয়। বাছুরটি বড় ডাক্তার দ্বারা চিকিৎসা করাতে বলত তাহলে আমার বাছুরটি মারা যেত না। আমার ধারণা আমার গরু গুলোর চিকিৎসা ধীরে ধীরে করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার আশায় সে ভাল চিকিৎসা করে নাই, কারণ যতবার সে আমার বাড়ীতে গেছে প্রতিবার সে এক হাজার করে টাকা নিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ভ্যাটেনারী কম্পাউন্ডার হেনার অবহেলার কারণে ও ভুল চিকিৎসায় খামারে থাকা ১১ টি গরু রুগ্নতে পরিনত হয়েছে। একটি বাছুর মারা গেছে এবং পানির দরে ৫টি বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছে। এখন ৫টি গরু আছে যার অবস্থা খুবই খারাপ। ভুল চিকিৎসার কারণে আমার ৫ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমি বিদেশী জাতের বাছুর মারা যাওয়ার দায়ে কম্পাউন্ডার হেনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও ক্ষতিপূরণের জন্য উর্ধতন কতৃপক্ষের নিকট দাবী জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে ভ্যাটেনারী কম্পাউন্ডার আবু হেনা জানান, বালিয়াকান্দি প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ে আড়াই বছর ধরে নেই উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা এবং প্রায় সাড়ে ৩ বছর ধরে নেই ভ্যাটেনারী সার্জন। যে কারণে তারাই উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের দিক নির্দেশনায় প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ে আগত পশুর চিকিৎসা সেবা প্রদান করে আসছেন। তিনি মাসুদ মোল্লার খামার প্রসঙ্গে জানান, ওই খামারে মাঝে মধ্যেই তিনি যেতেন এবং পরামর্শ প্রদান করতেন। যে বাছুরটি মারা গেছে, সেই বাছুরটির মা খোড়া রোগে আক্রান্ত। আর খোড়া রোগে আক্রান্ত গরুর বাচ্চা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এক মাসের মধ্যে মারা যায়। বাছুরটির মা’র চিকিৎসা তিনি করলেও বাছারটি’র চিকিৎসা তিনি করেননি বলেও দাবী করেন।
ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ সরকার মোঃ আশরাফুল ইসলাম জানান, ভ্যাটেনারী কম্পাউন্ডাররা সাধারণত ভ্যাটেনারী সার্জনদের সহকারী হিসেবে কজ করে থাকেন। তবে তাদের সরাসরি চিকিৎসা প্রদান করার কথা না। খামারী মাসুদ মোল্লার অভিযোগটি তিনি পেয়েছেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল বিকালে এক সদস্য বিশিষ্ঠ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে বালিযাকান্দি প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ে সদ্য যোগদানকরা ভ্যাটেনারী সার্জন শাহিনুর রহমানকে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তদন্তে দায়ী প্রমাণিত হলে ভ্যাটেনারী কম্পাউন্ডার আবু হেনার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

(Visited 70 times, 1 visits today)