রাজবাড়ী সদরে ১০টাকা কেজির চালে পোকার বসতি-

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

কার্ডধারী হতদরিদ্রদের মাঝে ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রির জন্য এবার যে চাল সরবরাহ করেছে খাদ্য অধিদপ্তর তা নিম্নমানের ও প্রায় খাবার অনুপোযোগি। সেই সাথে বেশির ভাগে চালের মধ্যে দৌড়া-দৌড়ি করে পোকা আর পোকা। এ অবস্থায় কার্ডধারীরা অনেকটা বাধ্য হয়েই কিনছেন ওই চাল।
জানাগেছে, এ বছর রাজবাড়ীতে ১০ টাকা কেজি চাল বিতরন শুরু হয়েছে মার্চ মাস থেকে। চলবে এপ্রিলের পুরো মাস জুরে। আগামী অক্টবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর এই তিন মাস হত দরিদ্রদের মাঝে চাল বিতরন করবে সরকার। একজন কার্ড ধারী হতদরিদ্র ১০ টাকায় ৩০ কেজি চাল কিনতে পারবে মাসে ১ বার করে। কিন্তু গত দুই মাসে যে সব সুবিধা ভোগীরা ১০ টাকা কেজি চাল নিচ্ছেন তার বেশির ভাগ চাল পোকায় খাওয়া, নষ্ট ও দুর্গন্ধ চাল দেওয়া হচ্ছে। এসব চাল একবারেই খাওয়ার উপযুক্ত না।
সংশ্লিষ্ঠরা জানান, রাজবাড়ী সদর উপজেলার পাঁচুরিয়া, খানখানাপুর, মূলঘর, বসন্তপুর, খানগঞ্জসহ ১৪টি ইউনিয়নের ২৯ জন ডিলারের মাধ্যমে ৩ শত ৭৮মেট্রিক টন চাল বিতরন করা হচ্ছে এপ্রিল মাস জুড়ে। ১০ টাকা কেজি বিক্রিত চালের অবস্থা ১৪টি ইউনিয়নের সব জায়গায় একই। প্রতিটি বস্তায় ৩০ কেজি চাল ভর্তি অবস্থায় প্রত্যেক কার্ড ধারীদের জন্য দেওয়া হচ্ছে। হতদরিদ্ররা চাল নিতে এসে ডিলারদের বলেন ভালো চাল দিতে, কিন্তু সব বস্তার চালই একই ধরনের। পুরাতন ও বেশিদিন গোডাউনে থাকার কারনে এসব চাল এখন খাওয়ার অনুপোযোগী হয়ে গেছে। সব ডিলারদের চালের ধরন একই রকম ,গন্ধ ,সাদা ও লালচে, ঘোলাটে, পোকা যুক্ত হওয়ার কারনে হত দরিদ্ররা এখন চাল কিনে খেতে পারছেন না। ডিলারদের ঘরে পোকা ধরা ও ঘোলা চাল দেখে ক্রেতারা তা কিনতে চাননা।
চাল ক্রেতা নিলুফা বেগম বলেন, এবারের যে চাল দেওয়া হচ্ছে, সে চাল কোন ভাবেই খাবার উপযোগী না। নষ্ট, গন্ধ ও পোকায় ধরা চাল। তার পরও উপায় নে দেখে তারা টাকা দিয়ে কিনছেন ওই চাল। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ওই চালের ভাত রান্নার পর ফেলে দিতে হচ্ছে। বাড়ীর ছেলে মেয়েরা ওই চালের ভাত খেতে চায় না। ফলে মুরগী, ছাগল ও গরুকে দিচ্ছে তারা।
বসন্তপুর ইউনিয়নের ডিলার শাহিন ফকির ও খানখানাপুর ইউনিয়নের ডিলার নাজিমুদ্দিন, মূলঘর ইউনিয়নের ডিলার শহিদ মন্ডল বলেন, খাদ্য গুদাম থেকে এ মাসে যে চাল সরবরাহ করা হয়েছে তা ভালো না। ক্রেতারা নানা অভিযোগ করছে এই নষ্ট চাল কিনতে এসে। চালে পোকা ধরে গেছে। গন্ধ চাল কেউ টাকা দিয়ে নিতে চায় না।
স্থানীয় খাদ্য সরবরাহ গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (খাদ্য পরিদর্শক) মোঃ আবুল কালাম বলেন, রাজবাড়ীতে ২৯ জন ডিলারের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে। এ কার্যক্রম শুধু ইউনিয়ন পর্যায়ে ডিলারদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন হয়ে থাকে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ নাকচ করে তিনি বলেন, যারার বলছেন এ চাল খাবার উপযোগি নয়, তারা আসলে সঠিক বলছেন না। কারন বেশি দিন গোডাউনে চাল থাকার কারনে চালের চেহারা খানিকটা ঘোলা হয়েছে। তাতে তেমন কোন সমস্যা হবে না।

(Visited 40 times, 1 visits today)