কৃষি কর্মকর্তার প্রতারণায় পাংশার অর্ধশত পোঁয়াজ চাষী সর্বশান্ত –

মাসুদ রেজা শিশির/ এস.কে পাল, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম : 

ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলা কৃষি অফিসার বিনি আমিন (মানিক) এর প্রতারণায় রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার পাট্টা ইউনিয়নের পুঁইজোর গ্রামের প্রায় ৫০ জন পেঁয়াজ চাষী সর্বশান্ত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানাগেছে, সালথা উপজেলা কৃষি অফিসার বিনি আমিনের বাড়ি পাংশা উপজেলার পূঁইজোর এলাকায়। একই এলাকার হওয়ায় ভুক্তভোগী কৃষকদের সাথে পূর্ব থেকেই পরিচয় ছিল ওই কৃষি অফিসারের। সেই সুবাদে ওই এলাকার কৃষকদের কাছে প্রতি বছরই তিনি চড়া মূল্যে পেঁয়াজের বীজ বিক্রয় করে আসছিলেন। এ বছরও তিনি কিং পেঁয়াজের বীজ বলে কৃষকদের কাছে দেশী পেঁয়াজের বীজ (দানা) বিক্রয় করেন। কৃষকেরা উক্ত বীজ কিনে তা বপণ করার পর বুঝতে পারেন এটি দেশী পেঁয়াজের বীজ ছিল। যে কারণে বিঘা প্রতি প্রায় ৪০ মণ পেঁয়াজ কম উৎপাদন হয়েছে। যাতে করে কৃষকরা মূল পুঁজি হারিয়ে সর্বশান্ত হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকেরা গতকাল শুক্রবার সকালে ওই কৃষি অফিসার বিনি আমিনের গ্রামের বাড়ীতে হাজির হয়ে অবস্থান নেয়।
কৃষি অফিসারের উপস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্থ একাধীক কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কৃষি অফিসার বিনি আমিন তাদেরকে কিং পেঁয়াজের বীজ দেয়ার কথা বলে দেশী পেঁয়াজের বীজ বিক্রি করেছেন। যাতে কৃষকেরা মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। প্রতি কেজি পেঁয়াজের বীজ তিনি ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা করে তারা ক্রয় করেছে।
এ সময় কৃষক রমজান আলী, মজনু শেখ, ওবায়দুর রহমান সহ অন্যান্য কৃষকেরা আরো অভিযোগ করেন, বনি আমিন এ এলাকার মানুষ ও কৃষি অফিসার হওয়ায় আমরা সরল বিশ্বাসে তার কাছ থেকে পেঁয়াজের বীজ কিনেছি এবং প্রতারিত হয়েছি। ধার দেনা করে সার ও কীটনাশক কিনে ছিলাম। পেঁয়াজ বিক্রি করে সকল ধার দেনা পরিশোধ করার কথা ছিল। কিন্তু এ বছর পেঁয়াজ চাষ করে আমরা পুঁজি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছি। পাওনাদাররা এখন আমাদের টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দিচ্ছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনাহারে দিন কাটছে।
এ ব্যাপারে সালথা উপজেলা কৃষি অফিসার বিনি আমিন জানান, আমি সালথার স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে পেঁয়াজের বীজ কিনে এখানে বিক্রি করেছি। আমি ৩-৪ বছর ধরে আমার এলাকার কৃষকদের কাছে পেঁয়াজের বীজ বিক্রি করে আসছি। এর আগে এমন হয়নি। এ ঘটনায় আমি নিজেও প্রতারিত হয়েছি।

(Visited 118 times, 1 visits today)