আজ বিশ্ব পানি দিবস: রাজবাড়ীর বেশির ভাগ নদী পানি শূন্য

ইমরান হোসেন মনিম, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

২০১৩ সালে উপাত্ত মতে বছরের ১১৫ টি দিনকে জাতিসংঘের বিশেষ দিন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। হিসেব কষলে তাই বছরের প্রায় ৩২ শতাংশ দিনই কোন না কোন বিশেষ দিন। তবে এর মধ্যে একটি দিন বাংলাদেশের মত নদীমাতৃক দেশের কাছে অধিক গুরুত্ত্ব বহন করে। আর তা হচ্ছে ২২ মার্চ, বিশ্ব পানি দিবস। “নদী বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে” অথচ রাজবাড়ীতে যে কয়েকটি নদী রয়েছে তার কোনটিতেই এখন আর সে পরিমান পানি নেই। শীতের শুরুতে নদী গুলোতে পানি প্রবাহ থাকলেও শুকনো মৌসুমে এ নদী গুলোতে আর পানি পাওয়া যায়না। রাজবাড়ী জেলাটি নদী মাতৃক হওয়ায় নদীর সাথে সখ্যতা রয়েছে এ অঞ্চলের সাধারন মানুষের। নদী তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষ এই নদীকে ঘিরেই তাদের বসবাস ও জীবন ধারণ করেন। অথচ প্রতি বছরের বন্যা ও ভাঙ্গনের কারনে এ নদীগুলো এখন আর আগের মত প্রানবন্ত নেই। প্রতিবছর বন্যা ও ভাঙ্গনের ফলে প্রচুর পরিমানে পলি পরে পদ্মা ও গড়াইসহ অন্যান্য নদী গুলো তার নাব্যতা হড়িয়ে ফেলছে। এর ফলে নদী থেকে আগে যে পরিমান মাছ পাওয়া যেত তা আর এখন পাওয়া যায়না। ফলে জেলেদের কষ্ঠে দিন চলছে। এসব নদীগুলোকে আকড়ে ধরে বেঁচে থাকা মানুষগুলো নদীগুলোকে খনন করে চলাচলের উপযোগি করে তোলার অনুরোধ জানান।
রাজবাড়ীতে উল্লেখযোগ্য নদীগুলো হলো পদ্মা, গড়াই, চন্দনা, হড়াই ও কুমারসহ অন্যান্য ছোট নদী। ওই সব নদী গুলোর মধ্যে পদ্মা ও গড়াই নদীতে স্বল্প পরিমান পানি থাকে। প্রতিবছর বন্যা ও নদী ভাঙ্গনের কারনে প্রচুর পরিমানে পলি ও বালি মাটি এসে এসব নদীগুলো ভরাট হয়ে যাচ্ছে। যে কারনে পানি প্রবাহ ও যান চলাচলে নদীর গতি পথে বাঁধা হয়ে দাড়াচ্ছে। এর মধ্যে জেলায় পদ্মা নদীর ৮৫ কিলোমিটার দীর্ঘ্য এলাকার রয়েছে। এ পাঁচটি নদীর আয়তন রয়েছে প্রায় ১৪ হাজার ৬শত ৫৪ হেক্টর বিস্তৃত এলাকা নিয়ে প্রবাহিত। অথচ এখন আর আগের মতসেই জৌলুস নেই এসব নদী গুলোর, কোন রকমে চলছে এর প্রবাহ। পদ্মা নদীতে কিছুটা পানি থাকলেও বাকি নদী গুলো এখন ধুধু বালু চর। নদী গুলো এখন চরাঞ্চলে পরিনত হয়েছে। এই নদীগুলোর সাথে সংশ্লিষ্টরা জীবন যাপন করছেন কষ্টে।
এলাকাবাসি ও জেলেরা বলেন, এক সময় এ নদী অনেক গভির ছিল প্রচুর পানি থাকত বিভিন্ন ধরনের মাছ মাছ পাওয়া যেত, এখন পলি পরে নদী ভরাট হওয়ায় আগের মত আর মাছ পাওয়া যায়না। অন্যদিকে নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে বন্যায় ও নদী ভাঙ্গনের ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন তারা। এলাকাবাসির দাবি, নদী খনন করা হলে পানি ও মাছ পেতে কোন সমস্যা হবেনা। সরকারের কাছে নদী খননের কাজের জন্য অনুরোধ জানান এলাকাবাসি। শুকনো মৌসুমে নদীগুলো শুকিয়ে চৌচির হয়ে যায়। তবে সরকার নদীকে বাঁচাতে চাইলে মেঘা পরিকল্পনা করে প্রতি বছর ড্রেজিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। আর দেশ ও দেশের মানুকে বাঁচাতে হলে নদী শাষন অতি জরুরী এবং নদী বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে বলেও জানান।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মজিনুর রহমান বলেন, নদী ও প্রাকৃতিক জলাশয় গুলো পলি পরে প্রচুর পরিমানে ডুবোচর সৃষ্টি হয়েছে যার ফলে মৎস্য উৎপাদন কমেগেছে। তবে মাছের উৎপাদন অব্যাহত রাখতে হলে পলি পড়া জ্বলাশয়গুলোকে পূনঃ খনন করতে হবে। পানি থাকায় মাছের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। চাপ সৃষ্টি হচ্ছে মাছ উৎপাদনে। তবে ইলিশ মাছের উৎপাদন অব্যাহত রাখতে হলে ব্যাপক আকারে প্রকল্প গ্রহনের মাধ্যমে নদী খনন করতে হবে।
জেলা প্রশাসক মোঃ শওকত আলী বলেন, রাজবাড়ী জেলাটি পদ্মা ও গড়াই নদী বেষ্টিত, এ জেলাটির এক পাশ দিয়ে পদ্মা ও অন্য পাশে গড়াই নদী প্রবাহমান রয়েছে। তবে এ দুটি নদী ভাঙ্গনে রাজবাড়ী জেলাটি ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে। প্রতিবছরই এ জেলার পাঁচটি উপজেলা নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে বাড়ি ঘর ও ফসলি জমি বিলিন হচ্ছে। বন্যায় প্রচুর পরিমান পলি মাটি এ দুটি নদী বয়ে আনে জমিগুলো উর্বর হয় এতে ফসলের আবাদ ও উৎপাদন ভালো হয়।
তবে তিনি সমস্যার কথাও বলেন, উজান থেকে প্রচুর পরিমান পলি মাটি ও বালি এসে নদী গর্ভে স্তুপ আকারে এসে প্রতিনিয়ত চর পরে যাচ্ছে এবং রনদীর ধারন ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। এর ফলে শুষ্ক মৌসুমেযে পরিমান পানি নদীতে থাকার কথা সে পরিমান পানি থাকছেনা যে কারনে বর্ষা মৌসুমে নদীর দুই কুল ছাপিয়ে বন্যা ও নদী ভাঙ্গনের সৃষ্টি হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, নদীকে বাঁচাতে পারলেইদেশকে বাচানো সম্ভব এবং নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে হলে প্রতি বছর ড্রেজিং করার প্রয়োজন। এর ফলে নদীর ধারন ক্ষমতা বাড়বে নদীর পানি প্রবাহ সঠিক ভাবে থাকবে এবং বর্ষামৌসুমে আমরা বন্যার হাত থেকে রক্ষা পাব। আর শুষ্ক মৌসুমে নদীতে যে পানি থাকবে তা দিয়ে সেচ কার্য সহ যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করা যাবে। তবে ৮৫ কিলোমিটার প্রমত্ব পদ্মা নদী খনন করা প্রয়োজন। একই ভাবে গড়াই নদীও চর পরে নদীর ধারন ক্ষমতা কমে গেছে, সেটারও দেখভাল করা দরকার। এই ভাবে পদ্মা ও গড়াই নদীকে রক্ষার মাধ্যমে রাজবাড়ীবাসীকে রক্ষা ছাড়াও এর সুফল সারাদেশের পাবে বলে মনে করেন তিনি।

(Visited 63 times, 1 visits today)