প্রায় এক মাস বন্ধ অ্যাম্বুলেন্স সেবা হাসপাতাল সেবা কমিটির সভায় ক্ষোভ-

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

জ্বালানী তেল সরবরাহ না থাকায় এ্যাম্বুলেন্সে রোগী পরিবহণ বন্ধ করে দিয়েছে, জেলার ১২ লক্ষাধিক মানুষের ভরসার স্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্র ‘রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল’ কর্তৃপক্ষ। ফিলিং ষ্টেশন কর্তৃপক্ষের বকেয়া সাড়ে ২৪ লাখ টাকা পরিশোধ করা সম্ভব না হওয়ায় প্রায় এক মাস ধরে এ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন জেলার রোগী ও তাদের স্বজনরা। ফলে অতিরিক্ত মূল্য পরিশোধ করে জেলার মুমর্ষ রোগী ও তাদের স্বজনদের প্রাইভেট এ্যাম্বুলেন্স অথবা ভাড়া করা মাইক্রোবাসে ফরিদপুর ও রাজধানী ঢাকার হাসপাতাল গুলোতে যেতে হচ্ছে। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (অর্থ) কে পত্র প্রদান করা হলেও তাতে কোন অগ্রগতি নেই।

এ অবস্থায় মঙ্গলবার দুপুরে রাজবাড়ীর সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে হাসপাতাল সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়নের লক্ষে হাসপাতাল ব্যবস্থা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজবাড়ী-১ আসনের এমপি ও সাবেক শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্স বন্ধ থাকায় রোগী পরিবহণে দূর্ভোগের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। সেই সাথে দূর্ভোগ লাঘবের জন্য জরুরী ভিত্তিতে অর্থ বরাদ্দ প্রদানের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (অর্থ) অনুরোধ জানানো হয়। সভায় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফকির আব্দুল জব্বার, কমিটির সদস্য সচিব ও হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাঃ দীপক কুমার বিশ্বাস, জেলা আ:লীগের সহ-সভাপতি হেদায়েত আলী সোহরাব, রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সভাপতি খান মোঃ জহুরুল হকসহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

গতকাল সকালে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের সামনে গিয়ে দেখা যায়, সড়ক দূর্ঘটনায় গুরুতর আহত এক রোগী ও তার স্বজনরা এ্যাম্বুলেন্সের জন্য অপেক্ষা করছেন। সে সময় রোগীর স্বজন আকলিমা খাতুন বলেন, এ হাসপাতালের ডাক্তাররা জরুরী ভিত্তিতে তাদের রোগীকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিতে বলেছে। তারা ওই সময়ই হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্স খোজা শুরু করেন। ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের জানিয়েছেন, এ হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্স দুইটি জ্বালানী তেলের অভাবে চলাচল করছে না। ফলে তাদেরকে বিকল্প হিসেবে প্রাইভেট এ্যাম্বুলেন্স অথবা ভাড়া করা মাইক্রোবাস খুজতে হচ্ছে। আর ওই সব এ্যাম্বুলেন্স খুজে পেতে দেরি হওয়ায় তারা রোগী নিয়ে অপেক্ষা করছেন।
অপর রোগীর স্বজন সাইফুল ইসলাম বলেন, এ হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্সে ফরিদপুর যেতে ৭শত টাকা এবং ঢাকা যেতে ৫ হাজার টাকা লাগে। আর প্রাইভেট এ্যাম্বুলেন্স অথবা ভাড়া করা মাইক্রোবাসে টাকা লাগে প্রায় দ্বিগুন। যে কারণে সরকারী এ্যাম্বুলেন্স বন্ধ থাকায় তাদের মত প্রায় অন্যান্য রোগীদেরও অতিরিক্ত অর্থ খরচ করে ঢাকা অথবা ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানাগেছে, জ্বালানী তেল অকটেনে চলে তাদের এ হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্স দু’টি। নগদ অর্থ প্রাপ্তি না থাকায় তারা রাজবাড়ী ফিলিং ষ্টেশন থেকে ওই জ্বালানী সংগ্রহ করেন এবং সে জ্বালানী দিয়েই রোগী পরিবহণ করা হয়। ফিলিং ষ্টেশন কর্তৃপক্ষ গত ২ ফেব্রুয়ারী হাসপাতালের তত্বাবধায়ক বরাবর পাঠানো পত্রে জানিয়েছেন, ২০ ফেব্রুয়ারীর মধ্যে তাদের বকেয়া ২৪ লাখ ৫৪ হাজার ২৩ টাকা পরিশোধ না করলে জ্বালানী সরবরাহ করা সম্ভব হবে না।
হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাঃ দীপক কুমার বিশ্বাস বলেন, ফিলিং ষ্টেশন কর্তৃপক্ষের ওই চিঠি পাওয়ার পর পরই তিনি ৩০ লাখ টাকা চাহিদা পূরণের কথা জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালককে (অর্থ) পত্র দিয়েছেন। সেই সাথে বিষয়টি মৌখিক ভাবেও তিনি বিষয়টি জানিয়েছেন। তবে অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় ফিলিং ষ্টেশন কর্তৃপক্ষকে তারা টাকা দিতে পারেননি। ফলে গত ২০ ফেব্রুয়ারী থেকে এ হাসপাতালেই ওই দু’টি এ্যাম্বুলেন্স চালানো বন্ধ রাখা হয়েছে। বরাদ্দদের টাকা আসলেই এ্যাম্বুলেন্স চালানো হবে।

(Visited 110 times, 1 visits today)