৩শ ৭০ হতদরিদ্রের ভিজিএফ’র চাল যাচ্ছে পোকার পেটে-

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

গত ঈদুল ফিতরে বরাদ্দ হওয়া ভিজিএফ-এর ৩ হাজার ৭শ কেজি চাল আজও পায়নি ৩শ ৭০টি হতদরিদ্র পরিবার। সেই চাল এখন পোকায় খাচ্ছে। জব্দ করা চালের ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত না নেয়ায় সেগুলো পোকায় খাচ্ছে। আর মরার ওপর খাড়ার ঘা হয়েছে পোকার অত্যাচার। জব্দ করা চাল যে ঘরগুলোতে রাখা সেই ঘরগুলোর মালিকসহ আশপাশের বাসিন্দারা পোকার যন্ত্রনায় অতিষ্ঠ।

সরজমিনে রাজবাড়ী সদর উপজেলার শহিদ ওহাবপুর ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের জেলা পরিষদের সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক নুর মোহাম্মদ ভুইয়ার বাড়ীতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ী ছেয়ে আছে লাখো পোকায়। ওই বাড়ীর বারান্দাদের কিছু সময় বসতে গিয়েও পড়তে হয় বিড়ম্বনায়। চেয়ার-টেবিল বেয়ে শরীরে চলে আসে ওই পোকা।
নুর মোহাম্মদ ভুইয়া বলেন, তারা এই পোকার অত্যাচারে অতিষ্ঠ। বাড়ীতে একদন্ড অবস্থান করা যায় না। সারাক্ষণ পোকা গুলো উড়ে এবং বেয়ে বেড়ায়। রাতে বিছানা ঝেড়ে মশারী টাঙিয়ে কোন রকমে রাত্রি যাপন করছেন এই বাড়ির মানুষেরা।

তিনি আরো বলেন, পোকাগুলো বিষাক্ত। ওই পোকা খেয়ে ইতোমধ্যে তার বাড়ীর ৮টি মুরগী মারা গেছে। এই পোকা এখন তার বাড়ী অতিক্রান্ত হয়ে পার্শবর্তী বাড়ী গুলোতেও প্রবেশ করেছে। বাধ্য হয়ে তিনি এই চালের সাথে সম্পৃক্তদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করেছেন। পরিস্থিতি জানিয়ে পত্রও দিয়েছেন। তবে তাতেও কোন কাজ হচ্ছে না।
জানাগেছে, রমজান মাস এবং ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ২০১৮ সালের শহীদ ওহাবপুর ইউনিয়নের মমিন বাজার এলাকার জনৈক মনো মিয়ার হলুদের মিলের একটি ঘরের মধ্যে খাদ্য অধিদপ্তরের সিলযুক্ত খালি বস্তা পরে থাকতে দেখা যায়। সেই সাথে একই ঘরের মধ্যে স্তুপ আকারে চাল ফেলে রাখতেও তারা দেখেন। বিষয়টি দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিষয়টি জানানো হয়। খবর পেয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইদুজ্জামান খান ঘটনাস্থলে যান এবং তিনি খাদ্য অধিদপ্তরের সিলযুক্ত ৩ হাজার ৭শ কেজি চাল জব্দ করেন। পরবর্তীতে ওই চাউল জেলা পরিষদের সদস্য নুর মোহাম্মদ ভুইয়ার বাড়ীর বারান্দার একটি রুমে তালায় সীলগালা করে রাখা হয়।

ওই ঘটনায় সদর উপজেলার প্রকল্পবাস্তবায়ন কর্মকর্তা এসএম মনোয়ার মাহমুদ বাদী হয়ে রাজবাড়ী থানায় স্থানীয় সাদিপুর গ্রামের আচমত আলী মন্ডলের ছেলে এবং শহিদওহাবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তোরাপ আলী মন্ডল, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও স্থানীয় রামপুর গ্রামের মোজাফ্ফর মুন্সির ছেলে মোহাম্মদ আলী এবং একই গ্রামের মোসলেম ঢালীর ছেলে মোনো মিয়া ঢালীকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ মামলা ৩ নং আসামি মোনা মিয়া ঢালীকে গ্রেপ্তার করে।


এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে মামলাটির তদন্তভার তিনি গ্রহণ করেন। এখনো মামলাটির তদন্ত চলছে। এরই মাঝে আদালতের কাছে জব্দকৃত ওই চাল বিক্রির অনুমতি চাওয়া হয়েছে। আদালত অনুমতি দিলে তা বিক্রির উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

(Visited 101 times, 1 visits today)