যৌনপল্লীতে কন্যাকে বিক্রি করতে এসে বাবা গ্রেপ্তার!-

আজু সিকদার, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

১৩ বছর বয়সী নিজের ঔরশজাত কন্যা সন্তানকে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে বিক্রি করতে এসে গ্রেপ্তার হয়েছে বাবা। ঘটনাটি শনিবার রাত সাড়ে ন’টার দিকের। গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ শিশু কন্যাকে বিক্রির চেষ্টায় তার পাষণ্ড বাবাকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে। সে সময় শিল্লী (৩৫) নামের এক যৌনকর্মীকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেফতার হওয়া বাবা নওগাঁ জেলার বাসিন্দা। আর শিল্পী নামের যৌন কর্মী নীলফমারী জেলার ডোমার উপজেলার পাংগা চৌপটি গ্রামের নজরুল ইসলামের মেয়ে। এ ঘটনায় রোববার দুপুরে গোয়ালন্দ ঘাট থানার এসআই ওলিয়ার রহমান বাদি হয়ে গ্রেফতারকৃত দুই আসামীর বিরুদ্ধে মানবপাচার আইনে মামলা দায়ের করেছেন।
বিক্রির হাত থেকে বেঁচে যাওয়া কিশোরী জানায়, তার বাবা-মায়ের অনেক আগেই বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে। বাবা ও মা দু’জনই আবার বিয়ে করে সংসার করছেন। সে কখনো দাদির কাছে, কখনো ফুপুর কাছে আবার কখনো মায়ের কাছে থাকত। এ পরিস্থিতিতে তার বাবা তাকে বলেন, “তোমার খাওয়ার খরচ দিয়ে আমি তোমাকে ঢাকায় ভালো একটি জায়গায় রেখে দিব, সেখানে তুমি ভালো থাকবে।” বাবার কথায় রাজি হয়ে গত শনিবার সে বাবার সাথে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। কিন্তু তার বাবা তাকে ঢাকা না নিয়ে সরাসরি দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে নিয়ে আসে।
বাবা সম্পর্কে জানতে চাইলে কিশোরীটি বাবাকে ক্ষমা করে দেওয়ার অনুরোধ করে। বলে, “আব্বু ভূল করে ফেলেছে। আব্বুকে ভালো হওয়ার জন্য একবার সুযোগ দেন স্যার।” এসময় নরপশু পিতার প্রতি সন্তানের ভালোবাসা দেখে উপস্থিত সকলের মধ্যে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সে কোথায় যেতে চায় জানতে চাইলে মেয়েটি জানায়, “আমি আমার মা’র কাছে যেতে চাই।”

গ্রেফতার হওয়া বাবা ও যৌনকর্মী শিল্পীর সাথে কথা বলে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া কিশোরীর বাবার দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে যাতায়াতের সূত্র ধরে যৌনকর্মী শিল্পীর সাথে পরিচয়। কিশোরীর বাবা শিল্পীকে প্রস্তাব দেয় একটি মেয়ে এনে দিলে তাকে ৮০ হাজার টাকা দিতে হবে। কিন্তু শিল্পী তাকে ৩০ হাজার টাকা দিতে রাজি হয়। এই ৩০ হাজার টাকার লোভেই পাষণ্ড বাবা তার মেয়েকে যৌনপল্লীতে বিক্রি করতে নিয়ে আসে।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মো. এজাজ শফী জানান, প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে থানা পুলিশের একটি দল গত শনিবার দিনগত রাতে ছদ্মবেশে যৌনপল্লীতে বিক্রির সময় ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে। এসময় হাতেনাতে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার হওয়া কিশোরীর নির্ভরযোগ্য কোন অভিভাবক না থাকায় আদালতের মাধ্যেমে ১৮ বছর না হওয়ার পর্যন্ত ফরিদপুরের সরকারী সেভ হোমে রাখার প্রস্তাব রাখা হচ্ছে।

(Visited 341 times, 1 visits today)