ডিবি পুলিশের অভিযান- অবশেষে উচ্ছেদ করা হলো রাজবাড়ীর চন্দনীতে গজিয়ে উঠা ভুয়া মাজার –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া সড়কের পাশে জেলা সদরের চন্দনী ইউনিয়নের হরিণধারা দক্ষিণপাড়া মাদারতলায় হঠাৎ করেই গড়ে ওঠা এক ভন্ডপীরের আস্তানা আগুন দিয়ে ও ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছে জেলা ডিবি পুলিশ। ওই আস্তানা গুড়িয়ে দেয়ায় স্থানীয়দের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, সেখানকার একটি বড় আকারের শিমুল গাছের নিচে কতিপয় ব্যক্তিরা বেশ কয়েক বছর ধরে মাজার স্থাপন করে। সেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বী ও মুসলিম সম্প্রদায়ের তথা কথিত ব্যক্তিরা তাদের মনবাসনা পূরণের জন্য মানত করা, হাঁস, মুরগী, ছাগলসহ নানা ধরণের পশু-পাখি ও নগদ অর্থ প্রদান করতে শুরু করেন। সাম্প্রতিক সময়ে মাজার স্থাপনকারীরা সুকৌশলে শিমুল গাছের নিচে টাইলস দিয়ে একটি “শাহ রুস্তম আলী রহমতুল্লাহ বাগদাদী মাজার শরীফ” নাম দিয়ে পুরোদমে বাণিজ্য শুরু করে। প্রতি বছরের ২৯ ফাল্গুন এখানে বার্ষিক ওরশ অনুষ্ঠানেরও প্রচলন করে। আর ওই ওরশে কুষ্টিয়ার জটা পীরের আগমন ঘটানো হয়। অজ্ঞতার কারণে আহতরা ওই জটা পীরের পায়ে সেজদা প্রদান করে মন কামনা প্রকাশ করে। জটা পীর সে সময় নজরানাসহ তার জন্য আনা উপহার হাতিয়ে নেন। প্রতি বছর এই মাজারকে কেন্দ্র করে দশ লক্ষাধিক টাকার সমাগম ঘটে। তবে মাজার স্থাপনকারীরা ওরশের দিন লোক দেখানোর ছলে কিছু অর্থ ব্যয় করে। স্থানীয় বাসিন্দা মমিন বিশ^াস সভাপতি এবং মতিন মল্লিক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ওই মাজার পরিচালনা করছেন। তারা দুই জনই একসাথে সুদি সমিতিও পরিচালনা করেন।
চন্দনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান একেএম সিরাজুল আলম চৌধুরী জানান, তিনি ওই মাজার সম্পর্কে তেমন কিছু জানেন না। মূলত স্থানীয় বাসিন্দা মমিন বিশ^াস ও মতিন মল্লিকসহ অন্যান্যরা মাজারটি পরিচালনা করে আসছেন।
মমিন বিশ^াস নিজেকে একজন কৃষক এবং ওই মাজারের শুভাকাংখি হিসেবে পরিচয় দিয়ে জানান, তিনি ও মতিন মল্লিক সুদের ব্যবসার সাথে জড়িত নন। মাজারের আয়ের হিসাবপত্র থাকে মূলত মতিন মল্লিকের কাছে। এবারও গত ১৩ মার্চ এখানে ওরশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তারা ৪৭ ডেগ খিচুরি রান্না করেছেন। হাজারো মানুষ এখানে এসে মানত করে। তারা মুরগী, হাঁস, ছাগল, চাল, ডাল, নগদ টাকাসহ নানা ধরণের উপকরণ প্রদান করে। ভক্তরা দেয়া সকল কিছুই তারা আগদের খাবারের পেছনে ব্যয় করেন। মাজার বিরোধীদের ষড়যন্ত্রেও কারণেই ডিবি পুলিশ মাজারটি ধ্বংস করেছে। যে কারণে এখন তারা আর মাজার পরিচালনা করছেন না। এলাকার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সাথে তারা কথা বলেছেন। ওই নেতৃবৃন্দ চাইলে তারা পুনঃরায় মাজারের কার্যক্রম শুরু করবেন।
জেলা গোয়েন্দা শাখার ওসি কামাল হোসেন ভুইয়া জানান, সেখানে ভুয়া মাজার স্থাপন করে নিয়মিত ভাবে সহজ-সরল মানুষের সাথে প্রতারনা করা হচ্ছিল। তাই স্থানীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তারা মাজারটি উচ্ছেদ করেছেন।

(Visited 558 times, 1 visits today)