রাজবাড়ীর ৩ উপজেলায় আঃলীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীরা চাঙ্গা –


রাজবাড়ী বার্তা ডট কম : উপজেলা পরিষদের বিদ্রোহী প্রার্থীদের ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ভাবে কোন কঠোর নির্দেশনা না থাকায় চাঙ্গা ভাব বিরাজ করছে রাজবাড়ীর তিন উপজেলার আঃলীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মাঝে। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন থেকে প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে। আর প্রতীক পাওয়ার তারা চষে বেড়াচ্ছেন ভোটের মাঠ।
ওই সব বিদ্রোহী প্রার্থীরা জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশিন চাচ্ছে এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হবে উৎসব মুখোর। তাছাড়া বিএনপি’র প্রার্থীরা নেই এ নির্বাচনে। যে কারণে এ নির্বাচনে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মূলত প্রার্থী হয়েছে আ:লীগ এবং আ:লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা অংশ নিচ্ছেন। তাই এ নির্বাচনে যেই বিজয়ী হোকনা কেন, সেতো আ:লীগের নেতারাই বিজয়ী হচ্ছেন। ফলে তারা দলীয় প্রার্থীকে ছাড় দেয়াতো দুরের কথা, নির্বাচন থেকে এক চুলও নড়বেন না। বরং দলীয় প্রার্থীকে পরাজিত করে বিজয়ীর বেশে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সামনে গিয়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন তারা।
জানাগেছে, তৃতীয় ধাপে রাজবাড়ী জেলার কালুখালী উপজেলা ব্যতিত সদর, গোয়ালন্দ, পাংশা ও বালিয়াকান্দি উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যেই এই চারটি উপজেলায় ১০জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মনোনয়পত্র বৈধ বলে ঘোষনা করে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে গোয়ালন্দ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আ:লীগের কোন বিদ্রোহী প্রার্থী নেই। তবে সদর উপজেলায় আঃলীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও রাজবাড়ী পৌর আঃলীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফি-এর বিপরীতে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন জেলা আওয়ামীলীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এসএম নওয়াব আলী এবং জেলা আঃলীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এ্যাডঃ ইমদাদুল হক বিশ^াস। পাংশা উপজেলায় আঃলীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও উপজেলা আঃলীগের সভাপতি একেএম শফিকুল মোর্শেদ আরুজের বিপরীতে বিদ্রোহি প্রার্থী হিসেবে উপজেলা আঃলীগের সহ-সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান ফরিদ হাসান ওদুদ মন্ডল। বালিয়াকান্দি উপজেলায় আঃলীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আবুল কালাম আজাদ বিপরীতে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে উপজেলা আঃলীগের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক ও রাজবাড়ী-২ আসনের এমপি মোঃ জিল্লুল হাকিমের চাচাতো ভাই মোঃ এহসানুল হাকিম সাধন প্রতিদ্বন্দীতায় লিপ্ত হয়েছে। এছাড়া বালিয়াকান্দি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (প্রাতীক আম) মোঃ আশরাফ মোল্লাও প্রার্থী হয়েছে। তবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন, জেলার গোয়ালন্দ উপজেলায় আঃলীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী, বর্তমান চেয়ারম্যান ও জেলা আঃলীগের সদস্য এবিএম নুরুল ইসলাম। সেখানে কোন বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকলেও প্রতিদ্বন্দী প্রার্থী হিসেবে অবস্থান করছিলেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান প্রার্থী ও উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি হামিদুল হক বাবলু। তবে তিনি প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছেন। যে কারণে বিনাপ্রতিদ্বন্দীতায় গোয়ালন্দ উপজেলায় আঃলীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী, বর্তমান চেয়ারম্যান ও জেলা আঃলীগের সদস্য এবিএম নুরুল ইসলাম নির্বাচিত হয়েছেন। গত ৮ মার্চ রিটানিং অফিসার তাকে বিনাপ্রতিদ্বন্দীতায় নির্বাচিত ঘোষনা করে প্রজ্ঞাপনও জারি করেছে।
পাংশা উপজেলায় আঃলীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী একেএম শফিকুল মোর্শেদ আরুজ জানান, তার এলাকায় ইতোমধ্যে নির্বাচনী আমেজের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি যাচ্ছেন এখন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। ফলে তিনি বিজয়ের ব্যাপারে পুরোপুরি আশাবাদী।
তবে বিদ্রোহী প্রার্থী ও পাংশা উপজেলা আঃলীগের সহ-সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান ফরিদ হাসান ওদুদ মন্ডল জানান, বাংলাদেশ আঃলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কদের বিদ্রোহী প্রার্থীদের ব্যাপারে দলীয় কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে না বলে জানিয়েছেন। ফলে বিদ্রোহী প্রার্থীদের এবার দলীয় কোন শৃঙ্খলের মধ্যে পড়তে হচ্ছে না। তাই নির্বাচন থেকে সড়ে তিনি যাবেন না। অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচন হলে বিপুল ভোটে তিনি বিজয়ী হবেন। যে কারণে তিনি ঘরে বসে নেই, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের সর্বত্র চালাচ্ছেন প্রচারনা। যাচ্ছেন ভোটারদের বাড়ী বাড়ী।
বালিয়াকান্দি উপজেলায় আঃলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোঃ এহসানুল হাকিম জানান, আগামী ২৪ মার্চ হবে তার উপজেলা পরিষদের নির্বাচন। তাছাড়া পাংশা, কালুখালী ও বালিয়াকান্দি উপজেলা নিয়ে গঠিত রাজবাড়ী-২ আসনের এমপি ও জেলা আঃলীগের সভাপতি মোঃ জিল্লুল হাকিমও কয়েক দিনের মধ্যেই তুরস্ক ও জার্মানী সফরে যাবেন। দেশে ফিরবেন তিনি আগামী ২৮ মার্চ। ফলে তিনি তার মত করে এই নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করছেন। মাঠে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। তাই বিপুল ভোটে তিনি বিজয়ী হবেন এটাই তার কামনা।
সদর উপজেলার দুই বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী এসএম নওয়াব আলী এবং এ্যাডঃ ইমদাদুল হক বিশ^াস জানিয়েছেন, আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হবার লক্ষ নিয়েই তারা এগুচ্ছেন। প্রতীক বরাদ্দ না পেলেও যাচ্ছেন তারা সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। যদিও ভোটাররা নিরাশ করছেন না, দিচ্ছেন তাদের ভোট দেবার প্রতিশ্রতি। ফলে তারা বিপুল ভোটে হবেন বিজয়ী, এমনটাই তাদের আশা।

(Visited 1,068 times, 1 visits today)