রাজবাড়ীর যৌনহয়নিকারী শিক্ষক অসীম ও হাবিব বিরুদ্ধে শাস্তি কার্যকর হয়নি, ফের ডিসি’র চিঠি –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক কর্তৃক পঞ্চম শ্রেণীতে পড়–য়া রাজবাড়ীর দুই জন ছাত্রীকে যৌনহয়রানি করা শিক্ষককে শাস্তি প্রদান করা হয়। তবে ওই শাস্তি প্রদানের পত্র প্রেরণের দীর্ঘ চার মাস অতিক্রান্ত হলেও আজ অবধি ওই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নেয়া হয়নি কোন ব্যবস্থা। যে কারণে বহাল তবিয়তে রয়েছেন যৌনহয়রানিকারী ওই দুই শিক্ষক। তবে নির্দেশের পরও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে পুনরায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা-পরিচালকের কাছে পত্র প্রেরণ করেছেন রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক।
গত ৩০ জানুয়ারী প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক বরাবর পাঠানো জেলা প্রশাসকের ওই পত্রে বলা হয়েছে, রাজবাড়ী সদর উপজেলার বাণিবহ ইউনিয়নের বার্থা খানপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অসীম কুমার দাস এবং রাজবাড়ীর প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই)-এর পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হাবিবুর রহমান মোল্লার বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রীকে যৌন হয়রানি বিষয়ে ২০১৮ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে তদন্ত প্রতিবেদনসহ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা-পরিচালকের পত্র প্রেরণ করা হয়। ওই পত্রের প্রেক্ষিতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক পৃথক ভাবে একই বছরের ১০ অক্টোবর ঢাকার প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের উপ-পরিচালক এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে পত্র প্রেরণ করেন। ওই পত্রে শাস্তি স্বরুপ যৌনহয়রানিকারী ওই দুই জন শিক্ষককে “প্রশাসনিক কারণে দুরবর্তী বিদ্যালয়ে বদলির জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়”। তবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা-পরিচালকের দেয়া ওই আদেশ ঢাকার প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের উপ-পরিচালক এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অদ্যাবধি প্রতিপালন করেন নি।
এ প্রসঙ্গে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক মোঃ শওকত আলী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা-পরিচালকের আদেশ বাস্তবায়নের জন্য রাজবাড়ী জেলা শিক্ষা অফিসারকে তিনি একাধিকবার অনুরোধ করেছেন। তবে তার অনুরোধও কার্যকর করা হয়নি। এতে করে একদিকে যেমন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ অকার্যকর হচ্ছে অন্যদিকে অন্যায়কারীরা প্রশ্রয় পাচ্ছে। যা শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশের জন্য অন্তরায়। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা-পরিচালকের ওই আদেশ বাস্তবায়নের জন্য পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানান।
উল্লেখ্য, রাজবাড়ী সদর উপজেলার বাণিবহ ইউনিয়নের বার্থা খানপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অসীম কুমার দাস পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রীকে যৌনহয়রানির ঘটনায় পর সুকৌশলে সদর উপজেলা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অসাধু কর্মকর্তার সহযোগিতায় জেলা শহর সংলগ্ন মিজানপুর ইউনিয়নের বড়চর বেনিনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলীহন। বর্তমানে তিনি সেখানেই কর্মরত রয়েছেন। অপর দিকে, রাজবাড়ীর প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই)-এর পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হাবিবুর রহমান মোল্লা পঞ্চম শ্রেণীর অপর এক ছাত্রীকে যৌনহয়রানির ঘটনায় পর সুকৌশলে ভুয়া মেডিকেল সনদ দিয়ে ছুটি গ্রহণ করেন। যা পরবর্তীতে তদন্ত কমিটির কাছে ধরা পরে। সে কারণে তার বিরুদ্ধে দুই’টি পৃথক বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। বর্তমানে সে সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় রয়েছে।

(Visited 300 times, 1 visits today)