পাংশা ও কালুখালী উপজেলার ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনের কেন্দ্র পরিদর্শন করলেন ডিসি –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক মোঃ শওকত আলী আজ শনিবার ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনের পাংশা উপজেলা ও কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্থায়ী কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
তিনি আজ মাছপাড়ার ২ টি এবং ৪ টি এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে প্রথমে দুপুর সাড়ে ১২ টায় পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনের স্থায়ী কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময়ে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আঞ্জুয়ারা খাতুন, আরএমও ডাঃ তরুন কুমার পাল, মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ নিপা নন্দী, কার্ডিওগ্রাফার সাহানুর বেগম এবং সিনিয়র স্টাফ নার্স সোনিয়া খাতুন উপস্থিত ছিলেন। এ কেন্দ্রে দুপুর সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত ৬-১১ মাস বয়সী ২১ জন শিশুকে ভিটামিন এ নীল ক্যাপসুল এবং ১২-৫৯ বয়সী ২১৭ জন শিশুকে ভিটামিন এ লাল ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়। এ কেন্দ্রে সম্মানিত জেলা প্রশাসক মহোদয় নিজেও ৩ জন শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ান। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, পাংশা উপজেলায় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনে ৬-১১ মাস বয়সী শিশুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৯ শত ১৬ এবং ১২-৫৯ বয়সী শিশুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩ হাজার ৩ শত ২৮। লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে চাহিদা অনুযায়ী ভিটামিন এ ক্যাপসুল সরবরাহ পাওয়া গেছে। বিকাল ৪ টার পূর্বেই লক্ষ্যমাত্রা অনুযায় শিশুদের ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো সম্ভব হবে বলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আঞ্জুয়ারা খাতুন জানান।
এরপর জেলা প্রশাসক দুপুর ১ টায় কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনের স্থায়ী কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময়ে এ কেন্দ্রে মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ মোঃ আব্দুর রহমান, ডাঃ তুষার কান্তি রায়, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর তালেবুর রহমান, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) শম্ভুনাথ দেবনাথ, সিনিয়র স্টাফ নার্স জনাব জাহানারা পারভীন, সোনিয়া ইয়াসমীন, জনাব তানভীন সুইটি এবং জনাব আসমা খাতুন উপস্থিত ছিলেন। এ কেন্দ্রে পরিদর্শনের সময়ে কোন শিশু কে উপস্থিত পাওয়া যায়নি। কেন্দ্রে রক্ষিত ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর টালি ফর্ম (ঞধষষু ঋড়ৎস) পরীক্ষা করে দেখা যায় যে, পরিদর্শনের পূর্ব পর্যন্ত ৬-১১ মাস বয়সী ৩ জন শিশুকে ভিটামিন এ নীল ক্যাপসুল এবং ১২-৫৯ বয়সী ৭৫ জন শিশুকে ভিটামিন এ লাল ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে।
এ কেন্দ্রে শিশু না থাকার কারণ জিজ্ঞাসাবাদকালে জানা যায়, স্থায়ী এ কেন্দ্রের আশে পাশেই একাধিক অস্থায়ী কেন্দ্র থাকায় অধিকাংশ অভিভাবকগণ তাদের শিশুদের ঐ সকল কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ায় স্থায়ী কেন্দ্রে শিশুর আগমন কম হয়েছে। কেন্দ্রটি পরিদর্শনকালীন মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) শম্ভুনাথ দেবনাথ জানান, কালুখালী উপজেলায় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনে ৬-১১ মাস বয়সী শিশুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৯ শত ৬৫ এবং ১২-৫৯ বয়সী শিশুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ হাজার ৯ শত ৯৫। লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে চাহিদা অনুযায়ী ভিটামিন এ ক্যাপসুল সরবরাহ পাওয়া গেছে। বিকাল ৪ টা নাগাদ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে তিনি জানান।
উল্লেখ্য, রাজবাড়ী জেলায় ৬-১১ মাস বয়সী ১৪ হাজার ১ শত ৫৭ জন এবং ১২-৫৯ বয়সী ১ লক্ষ ১২ হাজার ১ শত ৬৪ জন শিশুকে ভিটামিন এ নীল ও লাল ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ভিটামিন এ ক্যাপসুলের ১ লক্ষ আইইউ এর চাহিদা ১ লক্ষ ৪২ হাজার ৬ শত ৬১ এবং ২ লক্ষ আইইউ এর চাহিদা ২০ হাজার ২ শত ৮ এর বিপরীতে পর্যাপ্ত ক্যাপসুল সরবরাহ পাওয়া যায়।
ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনে রাজবাড়ী জেলায় সর্বমোট ১ হাজার ৭৪ কেন্দ্রের বিপরীতে শিক্ষকসহ স্বেচ্ছাসেবক ২ হাজার ১ শত ৪৮ জন, সরকারি স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মী ৩৯৩ জন, প্রথম সারির সুপারভাইজার ১ শত ২৮ জন এবং দ্বিতীয় সারির সুপারভাইজার ৪২ জন নিয়োজিত আছেন।
ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে স্বাস্থ্য বিভাগকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ কেন্দ্রের কার্যক্রম তদারকি করেছেন।

(Visited 51 times, 1 visits today)