সংরক্ষিত মহিলা আসনে আঃলীগের মনোনয়ন কিনলেন এ্যাডঃ উমা সেন –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

জাতীয় সংসদের ৩৮ নং সংরক্ষিত মহিলা আসনের প্রার্থী হিসেবে আওয়ামীলীগের মনোনয়নপত্র কিনেছেন রাজবাড়ীর জেলা আওয়ামীলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ও নারী নেত্রী এ্যাডঃ উমা সেন। তিনি জেলা শহরের বিনোদপুরের বাসিন্দা। এম.এ (বাংলা), বিএড, এলএল.বি পাশ করা এই নেত্রী একজন আইনজীবী।
সাংগঠনিক পরিচয় :
আওয়ামী লীগে অবস্থান : বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকার ধারাবাহিকতায় ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন।  আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক পর্যায়ে বর্তমান পদমর্যাদা : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে আমাকে আইন বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। অদ্যাবধি রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।
ছাত্র জীবনে অন্য কোন সংগঠনের সাথে সম্পৃক্তা : ১৯৯০-৯১ শিক্ষাবর্ষে রাজবাড়ী সরকারী কলেজে অধ্যয়নকালীন সময়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত হই। রাজবাড়ী সরকারী কলেজ ছাত্র-ছাত্রী সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হই। পরবর্তীতে রাজবাড়ী জেলা ছাত্রলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে ১৯৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী গণ আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করি। কোন যুব, শ্রমিক, পেশাজীবী,সাংস্কৃতিক, ট্রেড-ব্যবসায়িক সংগঠনের সাথে যুক্ত থাকলে তার বিবরণ ঃ বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ রাজবাড়ী জেলা শাখার সক্রিয় সদস্য। ১৯৭১ সনে মুক্তিযুদ্ধে পরিবারের ভূমিকা ঃ মহান মুক্তিযুদ্ধে আমার পরিবারের দুইজন সদস্য সুধীর কান্ত নাগ ও অলোক কান্ত নাগ সক্রিয় অংশগ্রহণ করে। দু’জনেই মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তালিকাভূক্ত।

৭৫-এর পরিবর্তনের পর প্রার্থীর পরিবারের ভূমিকা : জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্ব-পরিবারে হত্যার পর আওয়ামী রাজনীতিতে সম্পৃক্ততার অপরাধে আমার পরিবারের সদস্য বিলাস কান্ত নাগকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তাকে ৯ মাসের ডিটেনশন দিয়ে ফরিদপুর জেলা কারাগারে অন্তরীন রাখা হয়। ১১ জানুয়ারী ২০০৭-এর পরবর্তী সময়ে প্রার্থীর ভূমিকা : সেনা সমর্থিত তথাকথিত তত্বাবধায়ক সরকারের শাসনামলে বেআইনীভাবে আটক জননেত্রী শেখ হাসিনার মুক্তির দাবীতে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচীর অংশ হিসেবে রাজবাড়ীর প্রতিটি সভা-সমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচীতে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং পুলিশী নির্যাতনের শিকার হই। ওই সময় বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগ রাজবাড়ী জেলা শাখার যুগ্ন আহবায়ক হিসেবে ঢাকায় নেত্রীর মুক্তি আন্দোলনের লক্ষে যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় বর্ধিত সভায় অংশ গ্রহণ করি। ২০০৭ এর সেনা সমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকারের সময় পুলিশী নির্যাতনের শিকার হন।
২০০৯ সালের ২২ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে রাজবাড়ী সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে অংশগ্রহণ করে প্রায় ৫৭ হাজার ভোট পেয়ে সামান্য ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন।
সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকার বিবরণ :
(ক) রাজবাড়ী জেলা টাউন হল কমিটির আজীবন সদস্য।
(খ) উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী রাজবাড়ী জেলা সংসদের সদস্য।
(গ) রাজবাড়ী টাউন মক্তব সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য।
(ঘ) বাংলাদেশ – ভারত সম্প্রীতি পরিষদ রাজবাড়ী জেলা চ্যাপ্টারের আইন বিষয়ক সম্পাদক।
(ঙ) বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এবং রাজবাড়ী জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ।
উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থান ঃ
(ক) ছাত্র জীবন ঃ – ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্র লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন এবং ১৯৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে বাংলাদেশ ছাত্র লীগের প্রতিটি কর্মসূচীতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯০-৯১ শিক্ষা বর্ষে রাজবাড়ী সরকারী কলেজ ছাত্র-ছাত্রী সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ মনোনীত পরিষদ থেকে বিপুল ভোটে মহিলা সম্পাদিকা নির্বাচিত হন।
১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজবাড়ী-১ (সদর-গোয়ালন্দ) আসন থেকে তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাডঃ আব্দুল ওয়াজেদ চৌধুরী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নির্বাচিত হওয়ার কিছুদিন পর এ্যাডঃ আব্দুল ওয়াজেদ চৌধুরী মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা রাজবাড়ীতে আগমন করেন। ওই সময় রাজবাড়ী সরকারী কলেজ ছাত্র-ছাত্রী সংসদের মহিলা সম্পাদিকা হিসেবে ছাত্রীদের বিশাল বহর নিয়ে মাননীয় নেত্রীকে অভ্যর্থনা জানাই। মাননীয় নেত্রীর সাথে প্রথম সাক্ষাতের ওই দিনটি আমার জীবনের স্মরণীয় দিন।
খ) যুব মহিলা লীগ গঠন ঃ যুব আন্দোলনকে বেগবান করার লক্ষে রাজবাড়ীর যুব মহিলাদের ঐক্যবদ্ধ করে ২০০৪ সালের ডিসেম্বরে রাজবাড়ীতে যুব মহিলা লীগের আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এ উপলক্ষে যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় সভানেত্রী নাজমা আপা, সাধারণ সম্পাদিকা অপু উকিল ও এ্যাডঃ ফজিলাতুন্নেছা বাপ্পী সহ অন্যান্যদের উপস্থিতিতে আয়োজিত সভায় আমি সর্বসম্মতিক্রমে রাজবাড়ী জেলা যুব মহিলা লীগের যুগ্ন আহবায়ক নির্বাচিত হই। পরবর্তী সময়ে বিএনপি-জামাত জোট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও জেলা কমিটির নির্দেশনা মোতাবেক রাজবাড়ী জেলা যুব মহিলা লীগ প্রত্যেকটি কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করে এবং আমি নিজে সভা-সমাবেশে অগ্রণী ভূমিকা পালন করি। তত্বাবধায়ক সরকারের শাসনামলে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনা কারাবন্দী থাকা অবস্থায় নেত্রীর কারামুক্তির দাবীতে ঢাকায় আয়োজিত প্রতিটি বর্ধিত সভায় আমি অংশগ্রহণ করি।
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমার প্রত্যক্ষ তত্বাবধানে রাজবাড়ী-০১ আসনের প্রতিটি ভোট কেন্দ্রের মহিলা বুথে নারী পুলিং এজেন্ট নিয়োগ করতে সক্ষম হই। এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সমর্থিত নারী ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
গ) বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ ঃ আইন পেশায় সম্পৃক্ত থাকাকালীন ২০০৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ রাজবাড়ী জেলা শাখার সদস্য হিসেবে পেশাজীবী রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হই। একই বছর বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের সদস্য পদ লাভ করি। বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে রাজবাড়ীর আইনজীবীদের ঐক্যবদ্ধ করে আইনজীবী সমিতিতে পূর্ণাঙ্গ প্যানেল বিজয়ী করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করি।
ঘ) রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক ঃ ১৯৯০ সালের ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে দীর্ঘ সময় আওয়ামী রাজনীতিতে সক্রিয় সম্পৃক্ত থাকার ফলশ্রুতিতে ২০১৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাজবাড়ী জেলা শাখার ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনের মধ্য দিয়ে গঠিত রাাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটিতে আইন বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হই এবং অদ্যাবধি স্বপদে দায়িত্ব পালন করছি।
রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে অন্যান্য সাংগঠনিক কর্মকান্ডের পাশাপাশি গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে রাজবাড়ী সদর ও গোয়ালন্দ উপজেলার প্রত্যেকটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে সভা-সমাবেশ ও প্রচারণা সহ সক্রিয় ভূমিকা পালন করি। বিশেষতঃ রাজবাড়ী পৌরসভা নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করার জন্য সভা-সমাবেশ, প্রচার-প্রচারণা ও নারী পুলিং এজেন্ট নিয়োগ এবং সদ্য সমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করি।

ব্যক্তিগত এবং সামাজিক কর্মকান্ড ঃ
ক) ব্যক্তিগত ঃ বর্তমান সরকারের প্রথম মেয়াদে আমি রাজবাড়ী জেলা কারাগার পরিদর্শনে বেসরকারী কারাপরিদর্শক এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য কমিটির সদস্য মনোনীত হই।
খ) সামাজিক ঃ রাজবাড়ীর ঐতিহ্যবাহী কাজী হেদায়েত হোসেন মেমোরিয়াল ডায়াবেটিক হাসপাতাল ও রাজবাড়ী ডায়াবেটিক এসোসিয়েশনের ট্রাষ্টি বোর্ডের আজীবন সদস্য। রাজবাড়ী রোগী কল্যাণ সমিতির আজীবন সদস্য। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ রাজবাড়ী জেলা শাখার মহিলা বিষয়ক সম্পাদক এবং বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। রাজবাড়ী টাউন হল কমিটির কার্যনির্বাহী কমিটির সদ স্য (জেলা প্রশাসক ওই কমিটির সভাপতি)। এছাড়া রাজবাড়ী পাবলিক লাইব্রেরী, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, বাংলাদেশ-ভারত সম্প্রীতি পরিষদ, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী রাজবাড়ী জেলা সংসদ, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ রাজবাড়ী জেলা শাখার সদস্য।
রাজবাড়ীর ঐতিহ্যবাহী টাউন মক্তব সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং নুরজাহান হোসেন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির প্রাক্তন সদস্য । এছাড়া রাজবাড়ীর বহু সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে ওতোপ্রোতভাবে জড়িত।
আমৃত্যু জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের একজন সৈনিক হিসেবে নারী উন্নয়নে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশ রতœ শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে কাজ করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ।

(Visited 1,066 times, 1 visits today)