দৌলতদিয়ায় যৌনকর্র্মীকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় আটক আসামীর আদালতে স্বীকারোক্তি –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে রোববার রাতে নীলা (২৩) নামের এক যৌনকর্মীকে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় সোমবার বিকেলে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ মামলার এজাহার ভুক্ত ৩ নং আসামী আকলিমা আক্তারকে (৪০)ওই রাতেই গ্রেফতার করে। সে পল্লীর আলেয়া বাড়ীওয়ালীর ভাড়াটিয়া এবং স্থানীয় আইয়ুব মোল্লার কথিত স্ত্রী।
গোয়ালন্দ থানার ওসি এজাজ শফি জানান, পুলিশ মঙ্গলবার আসামী আকলিমাকে রাজবাড়ীর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট লাবনী আক্তারের আদালতে হাজির করলে আকলিমা নীলার হত্যাকান্ডে তার জড়িত থাকার এবং অপর আসামীদের জড়িত থাকার ব্যাপারে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। আসামীরা জোরপূর্বক টাকা ছাড়া নীলার সাথে ফুর্তি করে এবং নীলা তার প্রাপ্য টাকা দাবী করে অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় তাকে খুন করা হয়েছে বলে আকলিমা জানিয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রোববার সন্ধ্যার দিকে পল্লীর আকলিমা আক্তারের কথিত স্বামী আইয়ুব মোল্লা ৫জন যুবককে নিয়ে নীলার ঘরে নিয়ে আসে। সেখানে আইয়ুব নীলার বাসার কাজের মহিলা আন্না বেগমকে দিয়ে ওই বাড়ীর তিশা নামের আরেকটি মেয়েকে ডেকে আনে। কিন্তু কথায় বনিবনা না হওয়ায় তিশা নিজের ঘরে ফিরে যায়। পরে নীলার ঘরে দীর্ঘ সময় উচ্চ শব্দে গানবাজনা চলতে থাকে। তারও কিছুক্ষণ পর কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আশপাশের মহিলারা নীলার ঘরের দরজার ফাঁক দিয়ে মেঝেতে নীলাকে উলঙ্গ ও রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। খবর পেয়ে শম্পা বাড়ীওয়ালী আকলিমা বাড়ীওয়ালীর বাড়ীতে গিয়ে আইয়ুব মোল্লার খোজ করে জানতে পারেন সে এবং আরো কয়েকজন কিছুক্ষণ আগে এ বাড়ীতে রক্ত মাখা পোশাকে ঢোকে। পরে তারা হাত-পা ধুয়ে ও একটি ব্যাগ হাতে করে বেরিয়ে যায়।
এদিকে, গত ২০ ডিসেম্বর দিনগত রাত ১০টার দিকে শিরিন নামের এক যৌনকর্মীকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করা হয়। স্থানীয়রা ঘরের মধ্যে চিৎকারের শব্দ শুনে শিরিনের ঘরে দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে শিরিনকে গলাকাটা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। এ সময় স্থানীয়রা শিরিনের কথিত প্রেমিক লিখনকে ঘরের মধ্য থেকে রক্তাক্ত ছুরিসহ আটক করে পুলিশে দেয়।এদিকে যৌনপল্লীতে পরপর এ দুটি ঘটনায় যৌনকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

(Visited 541 times, 1 visits today)