রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে দালাল চক্র সক্রিয়, গ্রামপুলিশের স্ত্রী আটক –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

 

প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল থেকে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের সহযোগিতা করার অভিনয় করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল কেন্দ্রীক গড়ে উঠেছে দালাল চক্র। এ চক্রের সদস্যরা সরকারী ভাবে বিনামূল্যে এ হাসপাতালে সিজার হওয়ায় এক রোগীর কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টাকালে হাতেনাতে আটক হয়েছে। আটককৃত দালাল নারীর নাম জনতা রানী দাস (৩৫)। তিন মেয়ে ও এক ছেলে সন্তানের জননী জনতা রানী সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের গ্রামপুলিশ সদস্য শ্রীকান্ত দাসের স্ত্রী।
জানাগেছে, জেলার প্রায় ১৪ লক্ষাধিক মানুষের স্বাস্থ সেবা গ্রহণের প্রধান কেন্দ্রস্থল “রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল”। যে কারণে এ হাসপাতাল কেন্দ্রীক গড়ে উঠেছে সক্রিয় দালাল চক্র। যদিও এ দালাল চক্রের সাথে হাসপাতালের কতিপয় অসাধু কর্মচারীদের রয়েছে যোগসাজস। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসায় তারা একাধিকবার ওই সব দালালদের সতর্ক করেছেন। তার পরও দালালরা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন। গত সোমবার এ হাসপাতালে আসেন সদর উপজেলার খানখানাপুরের জনৈক রুবেলের সন্তান সম্ভবা স্ত্রী সোনিয়া (২০)। সোনিয়া প্রথমবারের মত সন্তান সম্ভাবা হওয়ায় বাবা ও স্বামীর পরিবারের হতদরিদ্র পরিবারের সদস্যরা ছিলেন বিচলিত। তাদের হাসপাতালে আসার পর থেকেই পিছু নেন দালাল জনতা রানী দাস। তিনি সোনিয়াকে হাসপাতালে ভার্তি, গাইনী চিকিৎসককে দেখানো এবং কিছু পরীক্ষা নিরিক্ষায় সহযোগিতা করেন। সেই সাথে হাসপাতালে সিজার হতে গাইনী ডাক্তারকে চার হাজার টাকা দিতে হবে বলে জানায়। রোগীর স্বজনরা তাকে সাড়ে তিন হাজার টাকা দেবের কথা বলেন। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে যখন সোনিয়ার সিজারের কাজ করছিলেন চিকিৎসকরা তখন জনতা রানী ওই টাকা পরিশোধ করার জন্য রোগীর স্বজনদের তাগাদা দিতে শুরু করেন।
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ আলী আহসান বলেন, তিনি অপারেশন থিয়েটার থেকে বের হয়ে আসার পথে জনতা রানীর টাকা দাবীর কথা শুনে ফেলেন। সে কারণে তিনি সেখানে দাঁড়ান এবং হাতেনাতে তিনি জনতা রানীকে আটক করে থানা পুলিশের হাতে তুলে দেন। তিনি বলেন, এটা সরকারী হাসপাতাল। এখানে সিজার হওয়া রোগিদের টাকা লাগেনা। অথচ সহজ সরল রোগী ও তাদের স্বজনদের এলোমেলো বুঝিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয় এক শ্রেণীর দালালরা। ইতোপূর্বেও দালাল জনতা রানীকে তিনি সতর্ক করেছেন এ ধরণের প্রতারনা না করতে। জনতারমত আরো কয়েকজন দালাল এ হাসপাতাল কেন্দ্রীক রয়েছে। আর ওই সব দালালদের সহযোগিতা করার জন্য এ হাসপাতালে চাকুরীরত একজন কর্মচারীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। যে কারণে বিষয়টি হাসপাতালের তত্ববধায়ক দীপক কুমার ও রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন রহিম বক্সকে জানানো হয়েছে।
জনতা রানী দাস বলেন, তার স্বামী একজন গ্রামপুলিশ সদস্য। আর তিনিও একটি এনজিও কর্মী সেজে মানুষকে সহযোগিতা প্রদান করেন। তিনি সিজারিয়ান রোগী সোনিয়ার সাথে সাড়ে ৩ হাজার টাকার চুক্তি হবার কথা স্বীকার করেন।

(Visited 626 times, 2 visits today)