দৌলতদিয়া-নগরবাড়ী-বাঘাবাড়ী নৌরুট নাব্যতা সংকটে পদ্মায় মালবাহী জাহাজ আটকা –

আসজাদ হোসেন আজু , রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

অসংখ্য ডুবচর ও নাব্যতা সংকটে পণ্য পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া-নগরবাড়ী-বাঘাবাড়ী নৌরুটে মালবাহী জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন নৌবন্দর থেকে ছেড়ে আসা মাল বোঝাই অন্তত ২০টি জাহাজ গন্তব্যে পৌছাতে না পেরে পদ্মা নদীর দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় আটকা পড়েছে।
সরেজমিন সোমবার দুপুরে দেখা যায়, গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ফেরিঘাট থেকে অন্তত এক কিলোমিটার ভাটিতে পদ্মা নদীর বাহিরচর এলাকায় পদ্মা নোঙর করে আছে এমভি শিফন-মুন, এমভি হাসান-আল আবরা, এমভি পূর্নিমা, এমভি আবাবিল, এমভি আলম আল বাহার, এমভি বৌমনি, এমভি সবুস, এমভি রোদেলা, এমভি জুবায়ের আহাদ, এমভি কাজল দিঘি, এমভি মালা, এম মিহি কনিকা, এমভি সারিফ-বাধন, এমভি সোহান-রিয়াদসহ অন্তত ২০টি জাহাজ। আটকে থাকা জাহাজগুলো থেকে মাঝ নদীতেই শ্রমিকরা মালামাল খালাস করে সেগুলো বোলগেট ও ট্রলারে বোঝাই করছে।
আটকে থাকা জাহাজ এমভি বৌমনি’র মাষ্টার গোলাম মোস্তফা জানান, দৌলতদিয়া-বাঘাবাড়ী নৌপথের কাজীরহাট, নগরবাড়ী, বেড়া ও নাকালিয়া এলাকায় নাব্যতা সংকটের পাশাপাশি নৌপথের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য ডুবোচর সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে তাদের জাহাজগুলো দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় এসে আটকা পড়ে আছে। প্রয়োজনীয় নাব্যতা না থাকায় জাহাজগুলো গন্তব্যে পৌছাতে পারছে না। এককটি জাহাজ ১০/১২ দিন করে নদীতে আটকে থাকায় তারা চরম দূর্ভোগে শিকার হচ্ছেন। তিনি আরো জানান, জাহাজ গুলো থেকে আংশিক মালামাল আনলোড করে জাহাজের ড্রাফট কমিয়ে তারপর বাঘাবাড়ি ঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়া হবে।
আটকে থাকা জাহাজের মাল পরিবহনকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স কাটন ট্রেডার্সের প্রতিনিধি শেখ জুয়েল রানা জানান, চট্টগ্রাম থেকে সার বোঝাই জাহাজ নিয়ে তিনি সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী বন্দরে যাচ্ছিলেন। এক সপ্তাহ আগে এ এলাকায় এসে তাদের জাহাজটি নাব্যতা সংকটের কারণে আটকা পড়েছে। দু’এক দিনের মধ্যে জাহাজ থেকে মাল খালাস করতে না পারলে কোম্পানীর প্রতিদিন জাহাজ প্রতি ১০ হাজার টাকা করে ভর্তুকি দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে ২২ দিন পার হলে জাহাজ ভাড়া দ্বিগুণ পরিশোধ করতে হবে। তাই জাহাজ থেকে মালামাল দ্রুত খালাস করা হচ্ছে। এতেও অতিরিক্ত টাকা গচ্ছা যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএ’র আরিচা অঞ্চলের উপপরিচালক আ. রহিম জানান, দৌলতদিয়া-নগরবাড়ী-বাঘাবাড়ী নৌরুটে ইতিমধ্যে ড্রেজিং করা হয়েছে। বর্তমানে পদ্মা নদীর ওই এলাকায় বর্তমানে ৮ ফুট ড্রাফটের নৌযান চলাচল করতে পারছে। তবে যে জাহাজগুলো দৌলতদিয়া এলাকায় আটকা পড়েছে সে গুলোর ড্রাফট অনেক বেশি। তাই আটকে পড়া জাহাজগুলো আংশিক মাল আনলোড করে ড্রাফট ৮ ফুটের নিচে এনে চলাচল করছে।

(Visited 49 times, 1 visits today)