হত্যা রহস্য উদ্ঘাটন, বালিয়াকান্দিতে দাদিকে হত্যার সময় শিশু মেয়ে শুনেছে মায়ের গলার আওয়াজ –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের হাতিমোহন গ্রামের গত শুক্রবার ভোর রাতে নুজাহান বেগম (৭০) নামে এক বৃদ্ধাকে গলাকেটে হত্যা করা হয়। তবে ওই হত্যা রহস্য এক দিনের মধ্যেই উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। পুলিশ প্রাথমিক তদন্তের শুরুতেই নুরজাহানের পুত্রবধু রোজিনা বেগম (৪০) ও রোজিনার শিশু মেয়ে পরশিয়া খাতুন (৯) কে আটক করে আদালতে সোর্পদ করে। আদালতে রোজিনা বেগম “ব্লেড দিয়ে কেটে তার শ^াশুরী নুরজাহান বেগমকে হত্যা” করার কথা স্বীকার করেছে।
এ হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও জেলার বালিয়াকান্দি থানার এসআই এসআই নূর মোহাম্মদ জানান, গত শনিবার সন্ধ্যায় রোজিনা বেগম ও শিশু পারশিয়া খাতুনকে রাজবাড়ীর ১নং আমলী আদালতের বিচারক আবু হাসান খালরুল্লাহ-এর আদালতে হাজির করা হয়। আদালতের কাছে রোজিনা বেগম বলেন, দীর্ঘ দেড় বছর ধরে নুরজাহান বেগম অসুস্থ অবস্থায় বাড়ীতে অবস্থান করছেন। অসুস্থ থাকার কারণে সে প্রায়ই বিছানায় পায়খানা ও প্রসাব করতেন এবং কারণে অকারণে নুরজাহার পুত্রবধূ রোজিনাকে ডাকাডাকি করতেন। রোজিনা তার কাছে আসতে দেড়ি করলে অথবা দেখাশোনায় অবহেলা করলে নুরজাহার তার ছেলের কাছে অভিযোগ দিতেন। এতে রোজিনার স্বামী তাকে গালাগাল করতো এবং কখনো কখনো মারপিটও করতো। যে কারণে রোজিনা তার শ^াশুড়ীর উপর ক্ষিপ্ত হন। গত শুক্রবার রাত ১টার দিকে নরজাহান পুত্রবধু রোজিনাকে ডাকে। রোজিনা ঘুম থেকে উঠে গিয়ে নুরজাহানের কাপড় বদলিয়ে দিয়ে আসে। ওই দিন ভোর ৩ টার দিকে রোজিনার স্বামী আব্দুল বারেক শেখ তার দুই ছেলে তৌহিদুর রহমান এবং তাহের শেখকে নিয়ে বাড়ী থেকে আধা কিলোমিটার দুরে থাকা ক্ষেতে ফুলকপি তুলতে যান। তারা যাবার পর ভোর ৪টার দিকে নুরজাহান পুনরায় রোজিনাকে ডাকে। রোজিনা সে সময় নখ কাটা ব্লেড (সেভিংব্লেড) দিয়ে নুরজাহানের গলায় একাধিক আঘাত করে হত্যা নিশ্চিত করে। সে সময় নুরজাহানের পাশে থাকা শুয়ে থাকা রোজিনার শিশু মেয়ে পরশিয়া খাতুন ভয়ে কাঁথার মধ্যে লুকয়ে থাকে। এর পর রোজিনা তার স্বামীকে ফেন করে বলে নুরজাহানের রুমের বিদ্যুৎ বন্ধ এবং ঘরে কারা যেন লাঠি দিয়ে আঘাত করছে। এ খবর পেয়ে স্বামী ও ছেলেরা দ্রুত বাড়ীতে ফিরে আসে এবং বিছানার উপর নুরজাহানের গলাকাটা রক্তাক্ত মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে। পরে সেখানে পুলিশ আসে এবং লাশটি উদ্ধার করে। সেই সাথে পুলিশ সদস্যরা তাকে ও শিশু মেয়েকে আটক করে। রোজিনা অনুতপ্ত হয়ে পুলিশ ও আদালতের কাছে হত্যার ঘটনা প্রকাশ করে।
অপরদিকে, শিশু পরশিয়া খাতুন তার জবানবন্দিতে আদালতকে বলে যখন তার দাদী নুরজাহানের গলা কাটা হয় তখন সে ভয়ে কাঁথা মুড়ি দিয়ে ছিলো। তবে ঘরের মধ্যে তার মায়ের কণ্ঠ সে পেয়েছে।
রাজবাড়ীর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (পাংশা সার্কেল) ফজলুল করিম জানান, ওই হত্যাকান্ডের ঘটনায় রোজিনার স্বামী আব্দুল বারেক সেখ বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে গত শনিবার বালিয়াকান্দি থানায় একটি মামলা দায়ের করে। ওই মামলা দায়ের পর পরই তারা ঘটনাস্থল রক্তমাখা ব্রেড উদ্ধার করেন। সেই সাথে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রোজিনা ও পরশিয়াকে তাদের সন্দেহ হয়। ওই দুই জনকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে বেড়িয়ে আসে হত্যা রহস্য। আদালতে ১৬৪ ধারা জবানবন্দি প্রদানের পর রোজিনাকে কারাগারে এবং পরশিয়াকে তার বাবার জিম্মায় প্রদান করে আদালত।

(Visited 267 times, 1 visits today)