গোয়ালন্দের জরিনাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে শ্বশুর বাড়ীর লোকজন –

আজু সিকদার,শামীম শেখ, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে মাথায় আঘাত করে এবং শ্বাসরোধে গৃহবধু জরিনা খাতুনকে (৩০) হত্যা করা হয়। এ হত্যাকান্ডকে বিষপানে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করে তার শ্বশুরবাড়ীর লোকজন। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। গত বুধবার গোয়ালন্দ ঘাট থানায় এ প্রতিবেদন এসেছে।
নিহত জরিনা খাতুন উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের দুলাল ব্যাপারী পাড়ার আলমাছ ব্যাপারীর স্ত্রী। এ দম্পতির ১০বছর বয়সী একটি মেয়ে ও ৭ বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। জরিনা ফরিদপুর সদর উপজেলার আকবর আলী মালতডাঙ্গীর ইয়াকুব আলীর মেয়ে। গত ৩ অক্টোবর তার রহস্যজনক মৃত্যু হয়।
থানা পুলিশ জানায়, ঢাকা থেকে আসা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে জরিনা খাতুনের মাথার পেছনে শক্ত কোন কিছু দিয়ে আঘাত হয়েছিল। এতে মাথায় প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। এ ছাড়া মুখ চেপে ধরায় তার শ্বাসরোধ হয়ে আসে। মস্তিস্কে অতিমাত্রায় রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।
জানা যায়, ২ অক্টোবর রাত ১টার দিকে জরিনা বিষপান করেছেন বলে তার স্বামী আলমাছ ব্যাপারী আশপাশের লোকজনকে খবর দেয়। পরে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। পরদিন ৩ অক্টোবর পুলিশ জরিনার লাশ স্বামীর বাড়ী থেকে উদ্ধার করে। এ সময় তার মুখে বিষ মাখানো ছিল। তার শ্বশুরবাড়ীর লোকজনের দাবী, স্বামী ও সন্তানের সঙ্গে অভিমান করে জরিনা বিষপানের আত্মহত্যা করেছেন।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পারিপার্শ্বিক ঘটনা বিশ্লেষন করে মনে হচ্ছে গৃহবধুকে তার স্বামী পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। পরে এ ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করে তারা। এ ঘটনায় ওই সময়ই সন্দেহজনকভাবে গৃহবধুর স্বামী আলমাছকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তিনি জেলা কারাগারে রয়েছেন।

(Visited 36 times, 1 visits today)