বালিয়াকান্দির সমাধিস্থলে মীর মশাররফ হোসেনের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা –

সোহেল, রুবেলুর, ইমরান, আতিয়ার, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম দিকপাল,ঊনবিংশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ মুসলিম সাহিত্যিক, কালজ্বয়ী উপন্যাস “বিষাদ সিন্ধু” রচয়িতা মীর মশাররফ হোসেনের ১৭১ তম জন্মবার্ষিকী ছিলো গত ১৩ নভেম্বর। ওই দিন রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের পদমদী মীর মশাররফ হোসেন সমাধিতে পুস্পমাল্য অর্পন ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। তবে আজ বৃহস্পতিবার সেখানে বাংলা একাডেমির আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
বাংলা একাডেমীর ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ নাসির উদ্দিন আহমেদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, বাংলা একাডেমীর পরিচালক ডাঃ একেএম মুজাহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন, জেলা প্রশাসক মোঃ শওকত আলী, বালিয়াকান্দি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, রাজবাড়ী সরকারী কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ মোঃ ফকরুজ্জামান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুম রেজা, নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল হাসান আলী, মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি কেন্দ্রের প্রোগ্রাম অফিসার ফয়সাল আমিন প্রমুখ। সভায় একক বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ২১ শে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী সাংবাদিক আবুল মোমেন। সভা শুরুর আগে মীর মশাররফ হোসেনের সমাধীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন অতিথিরা। বিকালে
অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
প্রধান অতিথি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, রাজবাড়ী বালিয়াকান্দি পদমদীতে অবস্থিত মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি কেন্দ্রে যে সমস্যা আছে সেগুলো দ্রুত সমাধান করা হবে এবং স্মৃতি কেন্দ্রের মীরের লেখা বই কেনার জন্য ১ লক্ষ টাকার বই দেওয়া হবে। যা আগামী ১ মাসের মধ্যে।
তিনি আরো বলেন, আগামী বছর থেকে বাংলা একাডেমীর সহযোগিতায় জেলা প্রশাসনের তত্বাবধায়নে জন্ম ও মৃত্যু বার্ষিকীর অনুষ্ঠান করা হবে। কেউ মীর মশাররফ নিয়ে গবেষনা করতে চাইলে মন্ত্রণালয় থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। এছাড়া এ স্মৃতি কেন্দ্রের লোকবল সংকটের বিষয়ে দেখা হবে। মীরের লেখা ছিল সব বাস্তবধর্মী। তিনি সব সময় সমসাময়িক বিষয় তুলে ধরেছেন।
উল্লেখ্য, মীর মশাররফ হোসেন ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার লাহিনীপাড়া গ্রামের মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯১১ সালের ১৯ ডিসেম্বর রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের পদমদী গ্রামে মারা যান তিনি। পরে সেখানেই তাকে সমাহিত করা হয়।

(Visited 28 times, 1 visits today)