কাজ বন্ধ করলো প্রশাসন, কালুখালীতে রাস্তা সংস্কারের নামে প্রাণ গেল সহস্রাধিক তুঁতগাছের –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

উন্নত মানের রেশম গুটি উৎপাদনের অন্যতম উপকরণ হলো তুত গাছের পাতা। যে পাতা খেয়ে বেঁচে থাকে রেশম পোকা। তবে রাজবাড়ীর কালুখালীতে রাস্তা সংস্কারের নামে চন্দনা নদীর মাটি কাটার পাশাপাশি উপড়ে ফেলা হয়েছে সহ¯্রাধিক তুঁতগাছ। ফলে সেখানকার রেশম চাষীরা পরেছেন বিপাকে। যদিও তুতগাছ ধ্বংস না করার জন্য রেশম উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা আবেদন ও নিবেদন করেছেন। আর ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার বিকালে রাস্তা সংস্কারের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
কালুখালী উপজেলা এলজিইডি’র সহকারী প্রকৌশলী তৌহিদুল ইসলাম জোয়াদ্দার জানান, মাদারীপুর, শরিয়তপুর, রাজবাড়ী উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের চাঁদপুর থেকে বোয়ালিয়া পর্যন্ত চন্দনা নদীর তীরবর্তী ২ কিলো মিটার মাটির ১২ ফুট চওড়া করে পাকা রাস্তায় উন্নীত করণ কাজ শুরু করা হয়েছে। ১ কোটি ৮৩ লাখ ২৬ হাজার ৩শত ১৮ টাকা ব্যয়ের ওই কাজটি বাস্তবায়ন করছেন জেলার পাংশার নারায়রপুরের “মেসার্স উত্তম কুমার কুন্ড” নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
সরজমিনে দেখাযায়, ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নিয়োজিত শ্রমিকরা মাটিকাটা মেশিন দিয়ে চন্দনা নদী থেকে মাটি কেটে তা রাস্তাটি চওড়া করণের কাজে ব্যবহার করছে। সেই সাথে তারা ওই রাস্তার পাশে সরকারী ভাবে রোপন করা তুতগাছ তুলে ফেলছে।
বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড জেলার কালুখালী উপজেলার রেশম প্রতিপাদক এনায়েত উল্লাহ বলেন, স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে কয়েক বছর আগে জেলার কালুখালী উপজেলার মাঝবাড়ী ও বোয়ালিয়া ইউনিয়নের মোহনপুর, চাঁদপুর, ভাবানীপুর ও বোয়ালিয়া গ্রামের রাস্তার পাশ দিয়ে চারটি ব্লকে চার হাজার তুতগাছ রোপন করা হয়। ওই গাছ গুলোর উপর নির্ভর করে সে সব ব্লকের রেশম পোকা পালনকারীরা চলতি “অগ্রাণী বন্ধে” ২৫০টি রেশম ডিমের (প্রতি ডিমে ৪০০ পোকা) এক লাখ পোকা পালন করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, গত ২৪ অক্টোবর থেকে ওই রাস্তা উন্নয়ন কাজের নামে তাদের রোপন করা এক হাজার তুতগাছ তুলে ফেলা হয়েছে। গতকাল সকালে রাজশাহীর প্রধান কার্যালয় থেকে রাজবাড়ী পরিদর্শনে আসা চিফ এক্সটেশন অফিসার মাহাবুব হোসেনও বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছেন। এর আগে তারা ওই গাছ গুলো রক্ষা করার জন্য জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন। তবে কাজের কাজ হয়নি কিছুই, রক্ষা করা সম্ভব হয়নি গাছ গুলো। ফলে ওই গাছের পাতা দিয়ে তুতপোকা পালনকারী চাষীরা পড়েছেন বিপাকে। পোকা বাঁচিয়ে রাখতে দুর দুরান্ত থেকে তাদের তুতপাতা সংগ্রহ করছে হচ্ছে।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক, রাজবাড়ী জেলা পরিষদের সদস্য ও উপজেলা আওয়ামীলীগের অর্থ সম্পাদক উত্তম কুমার কুন্ড জানান, এলজিইডি কর্তৃপক্ষ যে ভাবে কাজ করতে বলেছে তিনি সেভাবেই কাজ করছেন। এলজিইডি তাকে রাস্তার নিকট বর্তী এলাকা থেকে শুধুমাত্র মাটিকাটার টাকা দিচ্ছে। ফলে তিনি নদী থেকে মাটি কেটে রাস্তায় ফেলছেন। তাছাড়া সেখানে তুতগাছ ছিলো কিনা তা তিনি জানেন না।
কালুখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া ইসলাম লুনা জানান, রেশম বোর্ডের আবেদনের প্রেক্ষিতে তিনি গতকাল বিকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং ঘটনার সত্যতা থাকায় তিনি ওই কাজ বন্ধ করেছেন।

(Visited 142 times, 1 visits today)