মাদক সেবী সুপারকে তাড়াতে রাজবাড়ীর চরশ্যামনগর দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

মাদক সেবন, অনিয়ম, দূর্ণীতি এবং নৈতিক চরিত্রের অবক্ষয়ের অভিযোগ উঠেছে রাজবাড়ী সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের চরশ্যামনগর দাখিল মাদ্রাসার সুপার মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে। ওই অভিযোগ একাধিক তদন্ত কমিটির কাছে প্রমাণিত হবার পরও জোরপূর্বক ওই সুপার আজ মঙ্গলবার সকালে মাদ্রাসায় অবস্থানের চেষ্টা করে। আর এতে ক্ষুব্দ হয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। পরে তারা সংগঠিত হয়ে ধাওয়া করলে পালিয়ে রক্ষাপান ওই সুপার। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং ওই সুপারের শান্তির দাবীতে স্থানীয় সুলতানপুর বাজারে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করে।
মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার আব্দুল মতিন মিয়া জানান, প্রায় দুই মাস পর হঠাৎ করেই আজ সকাল ১০টার দিকে সুপার মোহাম্মদ কামরুজ্জামান মাদ্রাসায় প্রবেশ করে। এতে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্দ হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি খারাপ দেখে সুপার চলে যায়। ওই ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে মাদ্রাসা সংলগ্ন সুলতানপুর বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করে।
সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার পারমিস সুলতানা জানান, চরশ্যামনগর দাখিল মাদ্রাসার সুপার মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে পৃথক দুইটি পৃথক দুইটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং ওই কমিটির প্রতিবেদনে তার সকল কু-কর্ম উঠে আসে। তবে তার ব্যাপারে এখনো কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি।
উল্লেখ্য, জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দাখিল করেছেন, সুলতানপুর ইউনিয়নের চরশ্যামনগর দাখিল মাদ্রাসার সহকারী সুপার আব্দুল মতিন মিয়াসহ ১৩ জন শিক্ষক ও কর্মচারী।ওই অভিযোগে বলা হয়েছে, সুপার হিসেবে মোহাম্মদ কামরুজ্জামান এ মাদ্রাসায় যোগদানের পর থেকেই নানা রকম অনিয়ম করে আসছেন। বর্তমানে তা চরম আকার ধারণ করেছে। সুপার মাদ্রাসায় উপস্থিত না হয়ে হাজিরা খাতায় কয়েক দিনের স্বাক্ষর একসাথে করেন। আবার ছুটি নিলেও ছুটি শেষে ফিরে এসে ছুটি নেয়ার স্থলে পুনরায় স্বাক্ষর করেন। অপরদিকে সুপার প্রতিষ্ঠানের কাজের কথা বলে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। মাদ্রাসার কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও সুপার একের পর এক এডহক কমিটি গঠন করে চলেছেন। তবে হচ্ছেনা কোন সভা। সুপার কৌশলে মাদ্রাসার শিক্ষকদের কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ২০১৫ সালে মাদ্রাসার রিজার্ভ ফান্ডের টাকা হাতিয়ে নেয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরবর্তীতে শর্ত সাপেক্ষে নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকার নামার ভিত্তিতে তাকে পুনরায় যোগদান করানো হলেও আজ অবধি বেশিরভাগ শর্তই তিনি পালন করেননি।
ওই অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, সুপার মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের মাদকাশক্ত এবং পতিতালয়ে আসা যাওয়া করে। যে কারণে কতিপয় ঈদুল আযহার পূর্বে পতিতালয় থেকে তাকে উদ্ধার করে দাড়ি কেটে মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে আটক রাখে। মাদক সেবন এবং পতিতালয়ে গমনের বিষয়টি স্থানীয় জনগন ও মাদ্রাসার অভিবাবকদের মাছে ছড়িয়ে পরায় তারা নানা রকম প্রশ্নের সম্মখিন হচ্ছেন। সেই সাথে অভিভাবকরা মাদ্রাসা থেকে তাদের সন্তানদের অন্যত্র নিয়ে যাওয়ারও হুমকী দিচ্ছেন।

(Visited 240 times, 1 visits today)