বালিয়াকান্দিতে ট্রেন-নছিমন সংঘর্ষে ৪জন নিহতের ঘটনায় দু’টি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

 

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুরে চলন্ত ট্রেনের সাথে শ্রমিকবাহি নছিমনের সংঘর্ষে চার জন নিহত ঘটনায় জেলা প্রশাসক ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ পৃথক দুই তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২ দিকে জেলার কালুখালী থেকে একটি মেইল ট্রেন গোপালগঞ্জের ভাটিয়াপাড়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ওই ট্রেনটি জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের শোলাকুড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পৌছায়। তবে ওই সময় সেখানকার সড়কে কোন গেটম্যান না থাকায় পাশ^বর্তী ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার চরনওপাড়া রাজ্জাক জুট মিল থেকে বাড়ীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা স্যালো ইঞ্জিন চালিত শ্রমিকবাহি একটি নছিমন সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামের শহীদ শেখের ছেলে সরোয়ার শেখ (২০), এলেম সরদারের ছেলে ও গাড়ির চালক ইমরান সরদার (২২), জামালপুর ইউনিয়নের তুলশীবরাট গ্রামের শুকুর আলী শেখের ছেলে শাকিল শেখ (২০) নিহত হয়। আহত হয়েছে, জামালপুর ইউনিয়নের তুলশি বরাট গ্রামের আলেক মৃধার ছেলে ফজলু মৃধা (৩০), পাশ^বর্তী আলোকদিয়া গ্রামের হারুন শেখের স্ত্রী পপি খাতুন (৩৫), তুলশীবরাট গ্রামের জহুরুল মিয়া স্ত্রী রাফেজা বেগম (২২), মিঠুন বিশ্বাসের স্ত্রী শেফালী বেগম (২৪), বিল্লাল মন্ডলের স্ত্রী আছিয়া বেগম (২৫) সহ ওই গাড়িতে থাকা আরো ১১ জন শ্রমিক। আহতদের মধুখালী উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে যাওয়া হয়। তবে সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে এক জনকে রেখে অন্য সবাইকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়ে। সেখানে নিয়ে যাবার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মজনু মৃধাকে মৃত বলে ঘোষনা করেন।
বেঁচে যাওয়া আহত শ্রমিক পপি খাতুন জানান, রাজ্জাক খান জুট মিলের ১৪ জন শ্রমিক কাজ শেষে ওই গাড়ীতে বাড়ী ফিরছিলেন। ট্রেন আসা দেখে চালককে একটু পরে যাবার জন্য অনুরোধ করে শ্রমিকরা। তবে চালক তাদের কথায় কর্ণপাত না করে আরো দ্রুতগতিতে গাড়িটি চালায়। আর ওই সময়ই ট্রেনের সাথে তাদের বহণকারী গাড়ির সংঘর্ষ হয়। ট্রেনের সামনের অংশে বেঁধে গাড়িটি প্রায় আধা কিলো মিটার দুরে চলে যায়। ওই সময় যে যেভাবে গাড়ি থেকে বের হবার চেষ্টা করে।
মধুখালী হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ কবির হোসেন জানান, ১ জনকে রেখে ৯ জন আহত রোগীকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহতদের মধ্যে ৩/৪ জনের অবস্থা আশংকা জনক বলেও তিনি অবহিত করেন।
বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ একেএম আজমল হুদা জানান, খবর পেয়ে তারা ও বালিয়াকান্দি ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার তৎপড়তা চালান এবং পরিস্থিতি শান্ত করেন। ঘনাস্থল রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক মোঃ শওকত আলী, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (পাংশা সার্কেল) ফজলুল করিম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাসুম রেজা পরিদর্শন করেছেন।
চার জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে রাজবাড়ী রেলওয়ে পুলিশর এসআই আনিছুজ্জামান জানান, তারা যাবার পূর্বেই স্থানীয়রা লাশ গুলো নিয়ে গেছে। তার পরও একটি লাশের তারা সুরতহাল করতে সক্ষম হয়েছে।
তবে ওই ট্রেনের চালক চালক মাহফুজুর রহমান মোবাইল ফোন রিসিভ করলেও এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
রাজবাড়ী রেলওয়ের উপ-সহকারী প্রকৌলশলী (এইএন) মোঃ আব্দুল হানিফ জানান, রেলওয়ের তিন ধরণের গেট থাকে। যে গেট দিয়ে নছিমনটি রেললাইনে উঠেছে ওই গোটটি বৈধ একটি গেট। তবে সেটা “আন ম্যান ছাড়া” গেট। নিয়ম অনুযায়ী আন ম্যান ছাড়া গেট নিয়ে পথচারীদের নিজ দায়িত্বে পারাপার হতে হয়। তিনি আরো বলেন, গতকাল বিকালে রেলওয়ে পাকশি’র এটিও’কে প্রধান করে ৫ সদস্য বিশিষ্ঠ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটি দ্রুত সময়ের মধ্যেই তাদের তদন্তকাজ শুরু করবে।
ঘনাস্থল ও নিহতদের বাড়ী পরিদর্শন শেষ রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক মোঃ শওকত আলী জানান, নিহত প্রতিটি পরিবারকে সরকারীভাবে ২৫ হাজার টাকা করে প্রদান করা হবে। এছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি ও শিক্ষা) আলমগীর হুছাইনকে প্রধান এবং বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাসুম রেজা ও রাজবাড়ী রেলওয়ে থানার ওসি আকবর হোসেনকে সদস্য করে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

(Visited 25 times, 1 visits today)