রাজবাড়ীর সুলতানপুর মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে মাদক সেবনসহ নানা দুর্নীতির প্রমাণ পেলো তদন্ত কমিটি –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

রাজবাড়ী সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের চরশ্যামনগর দাখিল মাদ্রাসার সুপার মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি থাকাসহ নানা ধরণের দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে একাধিক তদন্ত কমিটি। ইতোমধ্যেই ওই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।
ওই তদন্ত প্রতিবেদনের বলা হয়েছে, মাদ্রাসার সুপার মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে অনিয়ন, দুর্ণীতি এবং নৈতিক চরিত্রের অবক্ষয় সম্পর্কিত অভিযোগে জেলা প্রশাসক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কর্তৃক এক সদস্য বিশিষ্ঠ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এ তদন্ত কমিটি দুটির প্রধান হিসেবে গত ১৩ সেপ্টেম্বর সরজমিনে ওই মাদ্রাসা পরিদর্শনে যান সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার পারমিস সুলতানা। পরিদর্শনকালে মাদ্রাসা সুপার কামরুজ্জামান অনুপস্থিত ছিলেন। তদন্তকালে উপস্থিত ভারপ্রাপ্ত সুপার, শিক্ষক ও কর্মচারীরা সুপারের অনিয়ম, দূর্ণীতি, নৈতিক অবক্ষয় ও মাদ্রাসায় দীর্ঘ দিন যাবৎ অনুপস্থিত থাকায় বিষয়টি তুলে ধরেন। স্থানীয় জনগণের সাথে আলাপকালে তারাও বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান। সেই সাথে ওই মাদ্রাসার সভাপতি ও সুলতানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক মিয়া জানান, সুপার অননুমোদিতভাবে দীর্ঘদিন মাদ্রাসারয় অনুপস্থিত। সুপারের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসায় সভা করা হয় এবং সভার পৃহিত সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে কামরুজ্জামানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ করা হয়। ওই মাদ্রাসার সাবেক সভাপতি জালাল উদ্দিন জানান, ইতোপূর্বে সুপার মাদ্রাসার আর্থিক অনিয়ম, মাদ্রাসার শিক্ষক ও অন্যান্যদের নিকট থেকে অর্থ গ্রহণ করেন। মাদ্রাসার আর্থিক অনিয়ম ও শিক্ষকদের কাছ থেকে গ্রহণকৃত টাকা ফেরত দেয়নি। এছাড়া জাগরণ মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের পরিচালক রেজাউল করিম টিবলু জানান, সুপার কামরুজ্জামান ওই মাদকনিরাময় কেন্দ্রে ১৭ আগষ্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভর্তি ছিলো।
অপরদিকে, গত ৯ সেপ্টেম্বর ওই মাদ্রাসার সভাপতি ও সুলতানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক মিয়ার পাঠানো কারণ দর্শনোর নোটিশের জবাব গত ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সুপারকে দিতে বলা হয়। নোটিশে সুপারের কাছে জানতে চাওয়া হয়, মাদ্রাসায় না এসে ছুটি নিয়ে সিএল লেখে স্বাক্ষর করেন কেন? মাদ্রাসার ও শিক্ষকদের টাকা পরিশোধ করেন না কেন? ২০১৫ সালের ২৬ অক্টোবর করা লিখিত অঙ্গীকারের শর্তাবলী পূরণ করেন নাই কেন? মাদক নিরাময় কেন্দ্রে আটোক ছিলেন কেন?
এ প্রসঙ্গে তদন্ত কমিটির প্রধান সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার পারমিস সুলতানা জানান, জেলা প্রশাসক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কর্তৃক দুইটা পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। যে কমিটি গুলোর প্রধান করা হয় তাকে। তিনি গত ৮ অক্টোবর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে এবং গত বুধবার জেলা প্রশাসকের প্রতিবেদন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে প্রদান করেছেন। আজ অবধি সুপার তার কাছে হাজির অথবা তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের বিষয়ে কোন উল্টর প্রদান করেননি। মূলত তার বিরুদ্ধে যতগুলো অভিযোগ আনা হয়েছে তার সবই সঠিক বলে প্রমাণিত হয়েছে।
রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাইদুজ্জামান খান জানান, ওই মাদ্রাসার ১৩ জন শিক্ষক এবং কর্মচারী সুপারের বিরুদ্ধে একটি জেলা প্রশাসকের কাছে প্রদান করে। ওই অভিযোগটি তদন্তের জন্য সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার পারমিস সুলতানাকে দায়িত্ব দেয়া হয়। ইতোমধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন তার কাছে পৌছেছে। যা খুব শিঘ্রই জেলা প্রশাসকের কাছে প্রদান করা হবে।

(Visited 300 times, 1 visits today)