রাজবাড়ীর কালুখালীতে দূর্গা পূজার মন্ডপে প্রতিমা ভাংচুর –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার সাওরাইল ইউনিয়নের বিশই সাওরাইল গ্রামের দূর্গাপূজার মন্দিরে প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। গত রবিবার রাতের কোন এক সময় অজ্ঞাত পরিচয়ের দূর্বৃত্তরা ওই মন্দিরে প্রবেশ এ প্রতিমা গুলো ভাংচুর করেছে বলে সংশ্লিষ্ঠরা জানিয়েছেন।
আজ সোমবার দুপুরে সরেজমিনে ওই মন্দিরে গিয়ে যায়, ভেঙ্গে ফেলা মূর্তি গুলো মেরামত করছেন নির্মাতা পলাশ কুমার পাল। তিনি বলেন, গত রবিবার তিনি প্রতিমা গুলো নির্মাণ ও সাজসজ্জার কাজ শেষে করে ছিনাইদহের শৈলকুপার বাড়ীতে চলে যায়। গতকাল সকালে সংবাদ পান এই মন্দিরের প্রতিমা গুলো দূর্বৃত্তরা ভেঙ্গে ফেলেছে। সে কারণে তিনি পুনরায় এখানে এসেছেন এবং ভেঙ্গে ফেলা প্রতিমা গুলো মেরামতের কাজ করছেন। তিনি আরো বলেন, দূর্বৃত্তরা দূর্গা মূর্তির একটি হাত, লক্ষি মূর্তির মাথা, সিংহ মূর্তির নাক, কার্তিক ঠাকুর মূর্তির দুইটি হাত, ময়ুর মূর্তির গলা, স্বরস্বতি মূর্তির হাত, হাঁস মূর্তির গলা, গণেশ ঠাকুর মূর্তির সুর ও চার হাত ভাংচুর করেছে।
মন্দির কমিটির সভাপতি তুষার দাস রাজবাড়ী বার্তা ডট কমকে  জানান, রাত ৩টার পরে অজ্ঞাত দূর্বৃত্তরা মন্ডপে প্রবেশ করে এ প্রতিমা গুলো ভাংচুর করেছে। তবে কারা কি কারণে এই মূর্তিগুলো ভাংচুর করেছে তা তিনি বলতে পারেননি।
এদিকে, খবর পেয়ে গতকাল সকালে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক মোঃ শওকত আলী, পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি বিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাকিব খান, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (পাংশা সদর) ফজলুল করিম, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কাজী সাইফুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) সাদিয়া ইসলাম লুনা, অফিসার ইনচার্জ এসএম আবু ফরহাদ, সাওরাইল ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম আলী, জেলা পুজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অশোক বাগচি, সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ্ত চক্রবর্তী কান্ত, হিন্দু বৈদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জয়দেব কর্মকার, সাংগঠনিক সম্পাদক স্বপন কুমার দাস, তনয় চক্রবর্তী শম্ভু, নির্মল কুমার সাহাসহ অন্যান্যরা ঘটনাস্থলে এসে পরিদর্শন করেন।
জেলা পুজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ্ত চক্রবর্তী কান্ত রাজবাড়ী বার্তা ডট কমকে  বলেন, অস্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টি করতে একটি দূর্বৃত্তরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। যারাই ঘটাক না কে অপরাধীদের খুজে বের করে তাদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে।
পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি বিপিএম রাজবাড়ী বার্তা ডট কমকে বলেন, সেখানে দু’টি হিন্দু পরিবারের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। তাছাড়া অন্য কোন বিষয় রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে অপরাধী যে হোকনা কে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
জেলা প্রশাসক মোঃ শওকত আলী রাজবাড়ী বার্তা ডট কমকে বলেন, ওই মন্দিরের পাশে প্রায় ৭০ বছরের পুরোনো আরেকটি মন্দির রয়েছে। তবে ওই মন্দিরসহ জমি বিক্রি হয়ে যাওয়া নিয়ে সেখানে বেশ কিছু দিন ধরেই বিরোধ রয়েছে। ওই মন্দিরটিতে এবার আর পূজার আয়োজন করা হয়নি। যে কারণে অল্প কিছু সংখ্যক দরিদ্র পরিবার কয়েকশত গজ দুরে প্রথম বারের মত মন্ডপ তৈরী করে সেখানে পূজার আয়োজন করে। আর রাতে আধারে অজ্ঞাত দূর্বৃত্তরা সেখানে প্রবেশ করে প্রতিমা ভাংচুর করে। তিনি আরো বলেন, পূজা যাতে ওই সব পরিবার গুলো সুন্দর ভাবে পালন করতে পারে সে কারণে তাৎক্ষনিক তিনি প্রতিমার কারিগরকে ডেকে আনা এবং ব্যয়ের ৫০০ কেজি চাউল বরাদ্দ প্রদান করা হয়।

(Visited 629 times, 1 visits today)