নাব্যতা সংকট কাটাতে খনন করছে ৪টি ড্রেজার দৌলতদিয়ায় সরু চ্যানেলে ঝুঁকিপূর্ণ ফেরি চলাচল-

আসজাদ হোসেন আজু, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

পদ্মা-যমুনা নদীতে দ্রুত পানি কমতে থাকায় দেশের ব্যাস্ততম দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের চ্যানেলে নাব্যতা সংকটের পাশাপাশি সরু চ্যানেলে ঝুকি নিয়ে চলাচল করছে ফেরি। ওয়ান ওয়ে চ্যানেলে ফেরিতে ফেরিতে সংঘর্ষের পাশাপাশি অনেক সময় ফেরিগুলোকে চ্যানেলে প্রবেশ করতে নদীতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
গত সোমবার বিকেলে দৌলতদিয়া ঘাটের চ্যানেলে রোরো ফেরি শাহজালালের সাথে সংঘর্ষ হয় একটি ইউটিলিটি ফেরির। এতে বড় ধরনের কোন ক্ষয়ক্ষতি না হলেও মাঝে মধ্যেই এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। অপরদিকে তীব্র ¯্রােতের সাথে বয়ে আসা পলিতে ভরাট হয়ে যাচ্ছে নৌ-চ্যানেল ও ফেরিঘাট এলাকার বেসিন। নাব্যতা সংকট কাটাতে বিআইডব্লিউটিএ ৭টি ড্রেজার দিয়ে পলি খনন কাজ শুরু করেছে।
সরেজমিন সংশ্লিষ্টরা জানান, গত কয়েকদিনে পদ্মা-যমুনা নদীতে অস্বাভাবিক গতিতে পানি কমছে। সেই সাথে তীব্র ¯্রােতে বয়ে আসা পলি ঘাট এলাকার ফেরি চলাচলের চ্যানেল ও বেসিনে জমে নাব্য সংকটের সৃষ্টি হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় বিআইডব্লিটিএ’র ড্রেজিং বিভাগ ৭টি ড্রেজার দিয়ে পলি অপসারণের কাজ শুরু করেছে। ড্রেজারগুলোর মধ্যে ৪টি দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় ও ৩টি পাটুরিয়ায় কাজ করছে।
একাধিক ফেরি মাস্টার জানান, ড্রেজিং বিভাগকে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়ে দিন-রাত পলি অপসারণ করতে হবে। তা না হলে অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই এখানকার পরিস্থিতি শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী রুটের মতো হতে পারে। প্রতিদিনই পানি কমছে। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে ¯্রােতের সাথে পলি এসে জমছে চ্যানেল ও বেসিনে। স্বাভাবিক ভাবে রোরো ফেরি চলাচলের জন্য ৯-১০ ফুট পানির গভীরতা দরকার। সেখানে দৌলতদিয়া এলাকায় সর্বোচ্চ সাড়ে ৮ ফুট এবং কোথাও কোথাও আরো কম পানি রয়েছে। এখানকার প্রায় আড়াইশ ফুট দৈর্ঘ্যরে চ্যানেলটি অত্যন্ত সরু ও অগভীর হয়ে গেছে। চ্যানেলে একটি ফেরি ঢুকলে বিপরীত দিক থেকে আর কোন ফেরি ঢুকতে পারে না। তাছাড়া সরু চ্যানেল ও ড্রেজিংয়ের পাইপের সাথে প্রায়ই ফেরির পাশে ও তলদেশে ধাক্কা লাগছে। এতে ফেরির তলদেশের যন্ত্রাংশের ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
এ দিকে দৌলতদিয়ায় ড্রেজিংকৃত পলি উজানে সামান্য দুরে ফেলা হচ্ছে। যা দ্রুত ¯্রােতের টানে পূণরায় আগের জায়গাতেই ফিরে আসছে বলে অনেকেই অভিযোগ করেন।
বিআইডব্লিউটি’র ড্রেজিং বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাকির হোসেন জানান, এ বছর প্রাথমিকভাবে ২০ লক্ষ ঘনমিটার পলি অপসারণের লক্ষ্য নিয়ে ৭টি ড্রেজার দিয়ে তারা কাজ শুরু করেছেন। দৌলতদিয়া এলাকায় নাব্যতা সংকট বেশী এবং ¯্রােতে দ্রুত পলি আসতে থাকায় দিন-রাত ৪টি ড্রেজার দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। তবে পাটুরিয়ায় অপেক্ষাকৃত কিছুটা সমস্যা কম। উজানে তারা বাধ্য হয়েই পলি ফেলছেন। কিছুদিন পলি ফেলানোর পর চর সৃষ্টি হলে আর খননকৃত পলি ভেসে আসবে না। ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রাখতে তারা সর্বদা তৎপর আছেন বলে তিনি জানান।
বিআইডব্লিউটিসি’র দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক সফিকুল ইসলাম সরু চ্যানেলের কারণে ফেরি চালাতে অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্ভন করতে হচ্ছে স্বীকার করে জানান নৌরুটে পর্যাপ্ত (১৮টি) ফেরি আছে। যানবাহনগুলোও নির্বিঘেœ পারাপার হতে পারছে।

(Visited 24 times, 1 visits today)