রাজবাড়ীতে পুলিশ সদস্যের-এর পা’ধরে ক্ষমা চেয়ে রক্ষা পেল কথিত সাংবাদিক রিজু –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

ভোটার স্মাট কার্ড বিতরণী কার্যক্রমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং পুলিশ কর্মকর্তাকে শাররীকভাবে লাঞ্চিত করেছে রেজাউল করিম রিজু (৪৭) নামে কথিত সাংবাদিক। ওই ঘটনার পর লাঞ্চিত হওয়া সেই পুলিশ কর্তার পা ধরে ক্ষমা চেয়ে মুচলেকা দিয়ে এ যাত্রায় রক্ষা পেয়েছেন তিনি। রিজু রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপুর ইউনিয়নের গাজিপাড়া গ্রামের মৃত শেখ তমিজ উদ্দিনের ছেলে।
খানখানাপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত বুধবার সকালে স্থানীয় সুরাজ মোহেনী ইনস্টিটিউটে ভোটার স্মাট কার্ড বিতরণী কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছিল। সে সময় নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে রিজু তার খেয়াল খুশি মত লাইন ভেঙ্গে স্লিপ সংগ্রহ করে দিচ্ছিল। বিষয়টি দেখে সেখানে এগিয়ে আসেন কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তা এএসআই মেজবা। তিনি রিজুকে এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে নিষেধ করেন। ওই নিষেধ শুনে রিজু ক্ষিপ্ত হয় এবং এএসআই মেজবাকে শারীরকভাবে লাঞ্চিত করেন।
খানখানাপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের আইসি পুলিশ পরিদর্শক শহীদ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা রিজুকে আটক করে রাজবাড়ী থানায় নিয়ে আসেন।
খানখানাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম লাল জানান, রিজু কোন পত্রিকার সাংবাদিক তা তিনি জানেন না। সে খানখানাপুর বাজারের থাকা একাধিক সুদি সমিতি’র নিয়ন্ত্রক, পত্রিকার এজেন্ট এবং ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তবে সে বিশাল বড় একজন সাংবাদিক হিসেবে সব সময় নিজেকে জাহির করে। তাকে গত বৃহস্পতিবার রাজবাড়ীর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই সময় তিনি ও সদর উপজেলার পাঁচুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেনও উপস্থিত ছিলেন। সে সময় রিজু পুলিশ সুপারের কাছে তার কৃত কর্মের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং এএসআই মেজবা’র পা জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি করে। এক পর্যায়ে রিজু’র তার পক্ষ হয়ে তিনি মুচলেকা দিয়ে তাকে ছাড়ানোর ব্যবস্থা করেন। তিনি আরো বলেন, রিজুর কারণে তার সম্মানের ব্যাপক হানি হয়েছে। রিজু আর সাংবাদিকতা এবং মানুষের সাথে খারাপ আচরণ করবে না মর্মে অঙ্গিকার করে।
ওই ঘটনার পর গতকাল শুক্রবার বিকালে রিজুর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে তার ছেলে মেহেদী হাসানের ফোনটি খোলা পাওয়া যায়। সে সময় মেহেদী জানায়, ভোটার স্মাট কার্ড বিতরণী কার্যক্রম চলাকালে তার বাবার সাথে পুলিশের কথাকাটাকাটি হয়। যে কারণে পুলিশ তার বাবাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে গত বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ তার বাবাকে ছেড়ে দিয়েছে। তার বাবা খানখানাপুরের একাধিক সুদি সংগঠনের সাথে জড়িত বলেও সে জানায়।
পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি বিপিএম বলেন, রিজু কিছু দিন পূর্বে খানখানাপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের আরেকজন এএসআই নুরুজ্জামানের সাথেও খারাপ আচরণ করেন। যে কারণে সে সময় তার বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়রীও করা হয়। তার পরও সে সংশোধন হয়নি। সে পুনরায় এএসআই মেজবা’র সাথে খারাপ আচরণ করে। যে কারণে তাকে আটক করা হয়। তবে এএসআই মেজবা’র পা পা জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি ও ক্ষমাপ্রার্থনা এবং এ জাতীয় কাজ আর করবে না মর্মে মুচলেকা দেয়ায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এর পর আর যদি সে পুলিশ অথবা সাধারণ মানুষের সাথে এমন ঘটনা ঘটনায় তা হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

(Visited 1,885 times, 1 visits today)