রাজবাড়ীর ৪ সিরিয়াল কিলিং-এর ঘটনা উদঘাটন, তিন হত্যাকারী গ্রেপ্তার, এসপি’র ব্রিফিং –

জাহাঙ্গীর হোসেন, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে রাজবাড়ী সদর উপজেলার পাশাপাশি তিনটি ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী দুই কিলো মিটার এলাকার মধ্যে দূর্বৃত্তরা চার জনকে কুপিয়ে মর্মান্তিক ভাবে হত্যা করা হয়। ওই হত্যার রহস্য উদঘাটন নিয়ে এলাকায় ছিলো নানা গুঞ্জন আর জল্পনা-কল্পনা। অবশেষ সেই প্রতিক্ষার সমাপ্তি ঘটেছে। রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি বিপিএম-এর দাবী পৃথক আঙ্গীকে হয়েছে হত্যা গুলো। তবে তারা দ্রুত সময়ের মধ্যেই চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকান্ড গুলোর রহস্য উন্মোচন করতে পেরেছেন।

আজ রবিবার দুপুরে পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় এক প্রেসব্রিফিং। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাকিব খান, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ফজলুল করিম, জেলা গোয়েন্দা শাখার ওসি কামাল হোসেন ভুইয়া, পুলিশ পরিদর্শক জিয়ারুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি বিপিএম বলেন, ফোরমার্ডারের ঘটনায় তারা দিনরাত পরিশ্রম করেছেন। অহেতুক কাউকে তারা নাজেহাল করেননি। সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আট জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারেরকৃতদের তথ্যের ভিত্তিতে উঠে এসেছে হত্যারহস্য। গত ২ আগষ্ট রাতে রাজবাড়ী সদর উপজেলার পশ্চিম মূলঘর গ্রামে দাদী সাহিদা বেগম (৪৫) ও নাতনী লামিয়া খাতুন (৭) হত্যারহস্য তারা জানতে পারলেও আরো তা কয়েকদিন পরে প্রকাশ করা হবে। তবে গত ৭ আগষ্ট রাতে বাণিবহের অটদাপুনিয়া গ্রামে গৃহবধু আদুরী আক্তার লিমা (২৫) হত্যা হয়েছে কথিত সীমানা পিলার নিয়ে। লিমার স্বামী সীমানা পিলার জমা রেখে কাজে চলে গিয়েছিলো। আর তাদের গ্রুপের লোকজন স্বামীর অবর্তমানে লিমার কাছ থেকে সীমানা পিলার হাতিয়ে নিতেই এই হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে। ঘটনার পর লিমাকে জবাইকরা ছুড়িও উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, গত ১৬ আগষ্ট রাতে দূর্বত্তরা আলীপুর ইউনিয়নের বারবাকপুর পশ্চিমপাড়ায় হাজেরা বেগম (৫০) কে জবাই করে হত্যা করে এবং তার পুত্রবধু স্বপ্না আক্তার (২৫) কে কুপিয়ে জখম করে। এ মামলাটি জেলা গোয়েন্দা শাখা তদন্ত করে। তদন্ত করাকালিন সময়ে ঘটনার পর চিকিৎসা সেবা দিয়ে পুত্রবধু স্বপ্না আক্তারকে তার শ^শুরালয়ে পাঠিয়ে দেন। তবে স্বপ্নারপ্রতি তারা নজরদাবী বৃদ্ধি করেন। এরই মাঝে স্বপ্নাকে ১৬৪ ধারায় স্বাকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদানের জন্য গত শনিবার হাজির করা হয় রাজবাড়ীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আবু হাসান খায়রুরুল্লার আদালতে।

জেলা গোয়েন্দা শাখার ওসি কামাল হোসেন ভুইয়া বলেন, হাজেরা হত্যার ঘটনায় গত ৭ সেপ্টেম্বর ঘাতক সোহেল মিয়াকে মাদারীপুর থেকে এবং কবির হোসেনকে তার বাড়ীর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেই সাথে হত্যার কাজে ব্যবহৃত ছোড়াও তারা উদ্ধার করেছে। সোহেলের বিরুদ্ধে মাদক ও চুরির একাধিক মামলা রয়েছে। সে মূলত একজন ছিনতাইকারী। বর্তমানে স্বপ্না, সোহেল ও কবির কারাগারে রয়েছে। সোহেল তার সহযোগি কবিরের সহযোগিতায় হাজেরাকে গলা কেটে হত্যা করে।

স্বপ্নার জবানবন্দিতে উঠৈ এসেছে নির্মম হত্যার বিবরণ। চোখ রাখুন, আসছে স্বপ্নার স্বীকারোক্তি  —–

(Visited 3,202 times, 10 visits today)