৮৫ কিলো মিটারের বেশির ভাগ স্থানেই ভাঙ্গন, রাজবাড়ীতে ভয়ংকর রুপে পদ্মা –

রুবেলুর, ইমরান, আতিয়ার, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

পদ্মা বিধৌত জেলা রাজবাড়ী। এ জেলার প্রায় ৮৫ কিলোমিটার অংশে রয়েছে প্রবাহমান প্রমত্তা পদ্মা নদী। সম্প্রতি জেলা সদর, পাংশা, কালুখালী ও গোয়ালন্দ উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।
জেলায় প্রতিবছর পদ্মার ভাঙ্গনে হাজার হাজার বসতবাড়ী, ফসলি জমি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদরাসা, করবস্থান, হাট-বাজারসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীতে বিলিন হয়ে যাচ্ছে। তবে ভাঙ্গন রোধে শুকনো মৌসুমে জেলা সদরের মিজানপুরে দেড় কিলোমিটার ও বরাটের ৩ কিলোমিটার এলাকায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মানের কাজ শুরু হবে বলে জানাগেছে।
জানাগেছে, চলতি বর্ষা মৌসুমে রাজবাড়ীর অংশে বয়ে যাওয়া পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে দেখা দিয়ে তীব্র স্রোত। আর এ স্রোতের কারণে তৈরি হচ্ছে ঘূর্ণন এবং ঘূর্ণনের ফলে দেখা দিয়েছে ভাঙ্গন। ইতিমধ্যে রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর, পাংশার হাবাসপুর, কালুখালীর রতনদিয়া, গোয়ালন্দের ছোট ভাকলা, দেবগ্রাম ও দৌলতদিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। ভাঙ্গনে বহু বসতবাড়ী, ফসলি জমি, বিভিন্ন স্থাপনা চলে যাচ্ছে নদী গর্ভে এবং ভাঙ্গন আতঙ্কে রয়েছে নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা। এদিকে ভাঙ্গন রোধে কিছু ভাঙ্গন স্থানে বালুর বস্তা ফেলে জরুরী ভিত্তিতে কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্থরা বলছেন ভাঙ্গন স্থানে যে পরিমান বস্তা ফেলা প্রয়োজন সেটা ফেলা হচ্ছে না। তবে গত কয়েকদিনের ভাঙ্গনে গোয়ালন্দের ছোট ভাকলা ও দেবগ্রাম ইউনিয়নের হাজার বিঘার বেশি ফসলি জমি ও হাজার হাজার বসতবাড়ী নদীতে বিলিন হলেও ভাঙ্গন রোধে নেওয়া হয় নাই কোন পদক্ষেপ।
ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থরা অভিযোগের সুরে জানান, ভাঙ্গন শুরু হলে অনেকে আসে আর ভাঙ্গন রোধে লোক দেখানোর জন্য জরুরী ভিত্তিতে কিছু বালুর বস্তা ফেলেন। এতে হয়তো তাৎক্ষনিক ভাঙ্গন রোধ হয় কিন্তু পরবর্তীতে যা তাই। সব সময় শুনি স্থায়ীভাবে নদী শাষন করা হবে কিন্তু তা কবে। বসতবাড়ী, জমি সব নদীতে চলে যাচ্ছে। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদরাসা, কবরস্থান, হাট-বাজার সহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীতে যেতে বসেছে। এখনি ভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে রাজবাড়ীর মানচিত্র ছোট হয়ে যাবে। হারিয়ে যাবে জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম।
তারা আরো জানান, নদীতে কয়েকবার বাড়ী ভাঙ্গছে, এখন ভাঙ্গলে আর যাবার জায়গা নাই। আমরা রিলিফ বা টাকা পয়সা চাই না, চাই স্থায়ী ভাবে নদী শাসন। এদিকে রাজবাড়ী শহরের নিকটে গোদার বাজার, যেখানকার তীর প্রতিরক্ষা বাঁধে ধস শুরু হয়েছে। ২৬ আগষ্ট থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গোদার বাজার নদীর তীর প্রতিরক্ষা বাঁধের প্রায় ৩০০মিটারের অধিক ধসে গেছে। এছাড়া পাংশার হাবাসপুর, কালুখালীর রতনদিয়া, সদরের মিজানপুর, গোয়ালন্দের ছোট ভাকলা ও দেবগ্রাম ইউনিয়নে বিভিন্ন গ্রামে ব্যাপক ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। ভাঙ্গন রোধে এখনই ব্যবস্থা নিতে সরকারসহ যথাযত কর্তৃপক্ষকে তারা অনুরোধ জানান ।
তারা আরো জানান, গোদার বাজার এলাকার বাঁধ হবার পর ৪ থেকে ৫ বছর কোন ভাঙ্গন ছিল না। কিন্তু শুকনো মৌসুমে নদীতে ড্রেজিং করার পর এবার ভাঙ্গতে শুরু করেছে। গত দুই সপ্তাহে গোদার বাজার এলাকার তীর প্রতিরক্ষা বাঁধে পর পর তিন বার ভাঙ্গন দেখা দিল। আজ সকালের ভাঙ্গন ছিল ভয়াবাহ। সকাল থেকেই ভাঙ্গন এলাকার ৮ থেকে ১০ টি বাড়ী সড়িয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে ভাঙ্গনের মুল কারণ ড্রেজিং। ভাঙ্গন রোধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন না করলে আর এমন ভাবে ভাঙ্গতে থাকলে এক সপ্তাহের মধ্যে রাজবাড়ী শহর রক্ষা বাঁধে গিয়ে ভাঙ্গন ঠেকবে।
রাজবাড়ীর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকাশ কৃষ্ন সরকার জানান, পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে রয়েছে তীব্র স্রোত। যার কারণে তৈরি হচ্ছে ঘূর্নন আর ঘূর্ননের ফলে দেখা দিচ্ছে ভাঙ্গন। জেলার সদর উপজেলার মিজানপুর, পাংশার হাবাসপুর, কালুখালীর রতনদিয়া এবং গোয়ালন্দের ছোট ভাকলা, দেবগ্রাম ও দৌলতদিয়া ইউনিয়নে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে গোদার বাজার ও দেবগ্রাম ইউনিয়নের ভাঙ্গনের তীব্রতা বেশি। ভাঙ্গন স্থান গুলো উর্ধতন কর্মকর্তাসহ তিনি পরিদর্শন করছেন এবং জরুরী ভিত্তিতে কিছু স্থানে বালুর বস্তা ফেলার কাজ শুরু করছেন। এছাড়া ভাঙ্গনের বিষয় ঘটনার সাথে সাথে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হচ্ছে।

(Visited 171 times, 1 visits today)