সিন্ডিকেটের কারণে পানির দর, চমড়া কিনে ধরা রাজবাড়ীর মৌসুমি ব্যবসায়ীরা –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

রাজবাড়ীতে এবার পানির দরে বিক্রি হয়েছে ছাগল ও গরুর চামড়া। যে কারণে মাথায় হাত উঠেছে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের, আর পোয়া বারো হয়েছে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণকারী ব্যবসায়ীদের।
ঈদ উল আযহা’র দিন বিকাল থেকে রাত অবধি রাজবাড়ী জেলা শহরের বড়পুল চত্বর, পান্না চত্বর, ইংলিশ মার্কেট ও মিলিনিয়াম মার্কেটের সামনে ছাগল, গরুসহ অন্যান্য পশু’র চমড়া কিনছেন ব্যবসায়ী ও তাদের নিযুক্ত ফরিয়ারা। সে সময় সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে ২১টি গরু এবং ১২টি ছাগলের চামড়া ক্রয় করা মৌসুমি ব্যবসায়ী লোকমান জমাদার বলেন, কিছু লাভের আশায় তারা চার জন ওই চামড়া গুলো কিনেছেন প্রায় ২৬ হাজার টাকা দিয়ে। তবে জেলা শহরের চামড়া ক্রেতাদের কাছে তা আনতেই দাম বলে ২২ হাজার টাকা। বেশ কয়েক জন ক্রেতার কাছে ঘুরেও খুব বেশি লাভ হয়নি। এক জন্য ক্রেতা শুধু দাম বলেছে ২৩ হাজার টাকা ফলে তিন হাজার টাকা ক্ষতি হলেও বাধ্য হয়ে চামড়া গুলো তারা বিক্রি করেছেন।
একই ধরণের কথা বলছেন, সদর উপজেলার বসন্তপুর থেকে আসা মৌসুমি ব্যবসায়ী জাফর খান। তিনি বলেন, তারা দুই জন লাভের প্রায় ৫০ হাজার টাকার চামড়া কিনেছেন। তবে তাদের কোন লাভ হয়নি। উল্টা দুই হাজার টাকা ক্ষতি’র সম্মুখীন হয়েছেন।
অপর ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, বিগত দুই বছর ধরে রাজবাড়ীর ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট তৈরী করে চামড়া ক্রয় করছে। ওই সব ব্যবসায়ীদের নিযুক্ত ফরিয়ারা সরকার নির্ধারিত দরের কোন ধার ধারেনি। তারা তাদের ইচ্ছা মত পানির দরে দামরা কিনেছে। এক লাখ টাকার নিচে কেনা গরুর চমড়া প্রতি পিচ এক হাজারের নিচে এবং এক লাখ টাকার উপরে কেনা গরুর চমড়া এক হাজার থেকে এক হাজার ২শত টাকা দরে কিনেছে। আর ছাগল ও খাসি’র চামড়া প্রতি পিচ ৩০ থেকে ৫০ টাকা দরে কিনেছে। যে কারণে তারা পরেছেন বিপাকে। তারা সারা দিন নানা এলাকা ঘুরে পরিশ্রম করে চামড়া গুলো কিনেছে। যে দামে তারা চামড়া কিনেছেন, সে দামতো দুরের কথা, তার চাইতে আরো কম দম ফরিয়ারা বলছে। তার জানা মতে হাতে গোনা দুই/একজন মৌসুমি ব্যবসায়ী ছাড়া বেশির ভাগ ব্যবসায়ীকে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হতে হয়েছে। তার দাবী এ সব সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। ঈদের দিন গুলোতে ফরিয়ারা সরকার নির্ধারিত দামে চামড়া কিনছে কি না তার নজরদারী করতে হবে। তাহলেই কেবল মৌসুমী ব্যবসায়ীরা লাভবান হবে।
ফরিয়া শংকর রবি দাস বলেন, তাদের কিছু করার নেই। মহাজন তাদেরকে যে দামে চামড়া কিনতে নির্দেশ নিয়েছেন তিনি ও তার সহযোগিরা সেই দামেই চামড়া কিনছেন। যদিও তিনি স্বীকার করেছেন, রাজবাড়ীসহ অন্যান্য জেলার ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে কিনছেন এই চামড়া। ফলে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চেষ্টা করলেও পাশের জেলায় নিয়ে উচ্চ দামে চামড়া বিক্রি করতে পারবে না। তিনি বলেন, এই চামড়া তারা লবন দিয়ে সংরক্ষণ করবেন এবং ব্যবসায়ীরা তাদের সুবিধামত দামে তা ঢাকার আড়ৎদারদের কাছে বিক্রি করবেন।

(Visited 69 times, 1 visits today)