কর্মস্থলগামী মানুষের চরম দূর্ভোগ, দৌলতদিয়ায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি –

আজু সিকদার, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

 

দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার অসংখ্য মানুষ ঈদ শেষে একযোগে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে। এতেকরে দৌলতদিয়া ঘাটে যাত্রী ও যানবাহনের বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ঘাট এলাকায় রোববার মহসড়কে নদী পারের অপেক্ষায় আটক পড়েছে ছোট-বড় প্রায় সহ¯্রাাধিক যানবাহন।
কর্তৃপক্ষের দাবি, গত শুক্রবার থেকে ফের শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে নাব্যতা সংকটে রোরো (বড়) ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতেকরে ওই রুটের পারাপার হওয়া যানবাহনগুলো নদী পার হতে দৌলতদিয়ায় আসছে। আবার দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি সংকটের পাশাপাশি নদীতে তীব্র ¯্রােতের কারণে ফেরিগুলো স্বাভাবিক ভাবে চলতে পারছে না। প্রতিটি ফেরির ট্রিপ দিতে স্বাভাবিকের চেয়ে সময় বেশী লাগছে। এ সব কারণে ঘাট এলাকায় যানবাহনগুলো আটকা পড়ছে। ঈদের দিন পর্যন্ত ২০টি ফেরি নৌরুটে যানবাহন পারাপার করলেও রোববার ১৮টি ফেরি চলাচল করে। গত ২২ আগস্ট রোরো (বড়) ফেরি শাহ পরানকে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি রুটে স্থানান্তর ও অপর রোরো শাহ আলী যান্ত্রিক ত্রুটিতে তিনদিন ধরে বিকল হয়ে পাটুরিয়ার ভাসমান কারখানায় মেরামতে রয়েছে।
সরেজমিন রোববার দুপুরের পর দৌলতদিয়া ঘাট ঘুরে দেখা যায়, ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোয়ালন্দ বাজার বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত অন্তত ৭ কিলোমিটার জুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারিতে যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস ও ব্যাক্তিগত গাড়িসহ সহ¯্রাধিক যানবাহন ফেরির অপেক্ষায় আটকে আছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, যানবাহনের সারি দীর্ঘ হলেও ফেরি চলাচল স্বাভাবিক থাকায় যানবাহন গুলোকে দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে হচ্ছে না।
এদিকে দীর্ঘ যানজটের কারণে লঞ্চ পারাপার পরিবহনের অনেক যাত্রীকে ঘাট থেকে কয়েক কিলোমিটার দূর থেকে দীর্ঘপথ পায়ে হেঁটে লঞ্চঘাটে পৌঁছাতে হচ্ছে। এতে ব্যাগ-বোঝা নিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নারী, শিশু ও বৃদ্ধ যাত্রীদের।
দর্শনা ডিলাক্স পরিবহনের চালক নাসির উদ্দিন জানান, তিনি যাত্রী বোঝাই করে রোববার বেলা ১১টার দিকে এসে মহাসড়কে সিরিয়ালে আটকা পড়েন। বেলা প্রায় আড়াইটা বাজে এখনো দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দুরে আছি। জানিনা আরো কতক্ষন পরে ফেরির নাগাল পাব। তীব্র গরমে বাসের মধ্যে থাকা যাত্রীরা চরম দূর্ভোগ পোহাচ্ছে।
গোপালগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা দিগন্ত পরিবহনের চালক আলমগীর হোসেন জানান, প্রায় সাড়ে ৩ ঘন্টা যাবত দৌলতদিয়ায় এসে সিরিয়ালে আটকা আছি। কিন্তু আমাদের চোখের সামনে দিয়ে টাকার বিনিময়ে ডানপাশ দিয়ে এসি বাস সহ অনেক গাড়ি সরাসরি ফেরি ঘাটে চলে যাচ্ছে। এতে আমরা ভোগান্তির পাশাপাশি আর্থিক ভাবেও চরম ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি।
এদিকে যাত্রীবাহি যানবাহনের চাপে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট দিয়ে পাকা মালবাহি ট্রাক পারাপার এক প্রকার বন্ধ রয়েছে। ঈদের আগে-পরে ৬দিন বন্ধ থাকার পর ঘাটে এসে দুইদিন পরও অসংখ্য ট্রাক ফেরির নাগাল পায়নি। মাগুরা থেকে চট্টগ্রাম গামী স্প্যান আয়রনবাহী ট্রাক চালক শাহিন মিয়া ও রুবেল সরদার জানান, তারা দুইদিন আগে ঘাটে এসেও নদী পার হতে পারেননি। আরো দুইদিন পরও ফেরির নাগাল পাবেন কিনা সন্দেহ রয়েছে। অথচ দালালদের মাধ্যমে ১৪৬০ টাকার টিকিট ২০০০ টাকা দিয়ে কিনে বসে আছি।
ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আবুল হোসেন জানান, যাত্রীদের কিছুটা দুর্ভোগ কমাতে তারা ছোট গাড়িগুলোকে বাইপাস সড়ক দিয়ে এবং অন্যান্য গাড়িগুলোকে ফোরলেন সড়ক দিয়ে দুই সাড়িতে ঘাটে যাওয়ার ব্যবস্থা করছেন। এ অবস্থায় অপচনশীল পন্যবাহি ট্রাক পারাপার একেবারেই সীমিত করা হয়েছে।
বিআইডব্লিটিসি’র দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) সফিকুল ইসলাম জানান, নৌরুটে ১৮টি ফেরি চলাচল করছে। পাঁচটি ফেরিঘাট সচল রয়েছে। অতিরিক্ত যানবাহন ও নদীতে স্রোতের কারণে যানবাহন আটকা পড়ার ঘটনা ঘটছে।

(Visited 85 times, 1 visits today)