চার হত্যার পর রাজবাড়ীর আলীপুর, মূলঘর ও বাণিবহ ইউনিয়নে পাহাড়ার ব্যবস্থা –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

 

মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে রাজবাড়ী সদর উপজেলার পাশাপাশি তিনটি ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী দুই কিলো মিটার এলাকার মধ্যে দূর্বৃত্তরা চার জনকে প্রায় একই রকম ভাবে জবাই করে হত্যা করেছে। পর পর চার “সিরিয়াল কিলিং”-এর ঘটনায় আতংকিত এখন ওই জনপদের মানুষ। যা ভাবিয়ে তুলেছে জেলা পুলিশের সর্বোচ্চ কর্তাদের। যে কারণে তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে হত্যাকারীদের সনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। সেই সাথে সংশ্লিষ্ঠ তিনটি ইউনিয়নে গত শুক্রবার রাত থেকেই গ্রামবাসী, জনপ্রতিনিধি ও গ্রাম পুলিশের সদস্যরা পালাক্রামে শুরু করেছে পাহাড়ার কাজ।

জানাগেছে, গত ২ আগষ্ট রাতে রাজবাড়ী সদর উপজেলার মূলঘর ইউনিয়নের পশ্চিম মূলঘর গ্রামে দাদী সাহিদা বেগম (৪৫) ও নাতনী লামিয়া খাতুন (৭), গত ৭ আগষ্ট রাতে বাণিবহ ইউনিয়নের অটদাপুনিয়া গ্রামে গৃহবধু আদুরী আক্তার লিমা (২৫) এবং ১৬ আগষ্ট রাতে আলীপুর ইউনিয়নের বারবাকপুর পশ্চিমপাড়ায় হাজেরা বেগম (৫০) কে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে। সে সময় দূর্বত্তরা হাজেরার পুত্রবধু স্বপ্না বেগম (২৫) কে কুপিয়ে জখম করেছে।

আলীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শওকত হাসান জানান, সিরিয়াল কিলিং-এর ঘটনায় তারা শংকিত। এলাকাবাসীর মধ্যে বিরাজ করছে আতংক। ফলে গত শুক্রবার রাত থেকেই তিনি তার ইউনিয়নের ১ ও ২ নং ওয়ার্ডে পাহাড়ার ব্যবস্থা করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিসহ গ্রামপুলিশ সদস্যদের সমন্বয়ে ওই সব পাহাড়াদাররা পালাক্রমে কাজ করবে। কোন বহিরাগত ব্যক্তিকে দেখামাত্র তার পরিচয় যাচাই-বাছাই করবে এবং তথ্যে অসংগতি পরিলক্ষিত হলেই তাকে থানা পুলিশের হাতে তুলে দেবে। তিনি আরো বলেন, হত্যাকান্ড রোধের লক্ষে জনসচেনতা বৃদ্ধি করতে মাইকিংও করা হবে।

মূলঘর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবাদুল মান্নান মুসুল্লী বলেন, তারাও গত শুক্রবার রাত থেকে পাহাড়ার ব্যবস্থা করেছেন। আলীপুর ইউনিয়নের বারবাকপুর পশ্চিমপাড়ায় হাজেরা বেগম কে জবাই তার পুত্রবধু স্বপ্না বেগমকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনার পর তার এলাকার মানুষের মাঝে শঙ্কা আরো বেড়ে গেছে। যে কারণে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাতে গত শুক্রবার বিকালে ইউপি কার্যালয়ে ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও গ্রাম পুলিশ সদস্যদের নিয়ে জরুরী সভা করেছেন। ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি ওয়ার্ডে নির্বাচিত মেম্বারের নেতৃত্বে ৫জন করে পাহাড়াদার এবং গ্রাম পুলিশের দুই ভাগে বিভক্ত করা দল সারা রাত পাহাড়া দেবে। তারা রাতের বেলায় কোন অপরিচিত লোককে পেলে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করবে।

বাণিবহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ গোলাম মোস্তফা বাচ্চু জানান, বাণিবহ বাজারের ১২ জন পাহাড়াদা এবং জনপ্রতিনিধি ও গ্রামপুলিশ সদস্যদের সতর্ক করা হয়েছে। সেই সাথে তাদের পাহাড়া’র মানও বৃদ্ধি করতে বলা হয়েছে। তিনিও বলেন, জনসচেতনা বৃদ্ধির জন্য এলাকায় মাইকিং করারও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি মনে করেন, জনসচেতনা বৃদ্ধি পেয়ে এবং জনগণের সহযোগিতা নিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই সিরিয়াল কিলারদের আটক করা সম্ভব হবে।

রাজবাড়ী থানার ওসি তারিক কামাল বলেন, হাজেরা বেগম হত্যার ঘটনায় তার স্বামী বাড়ী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। যদিও নিহত হাজেরা বেগমের আহত পুত্রবধু স্বপ্না বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে এখনো পর্যন্ত ওই হত্যাকান্ড সম্পর্কে উল্লেখ করারমত কোন তথ্যই তারা পাননি। অপরদিকে, দাদী-নাতনি এবং গৃহবধু লিমা হত্যার ঘটনায় তারা তৎপরতায় ইতোমধ্যে ছয় জনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। ওই দুই মামলার অগ্রগতিও রয়েছে। পেয়েছেন নানা তথ্য। তবে পর পর এই চার হত্যাকান্ড এক সূত্রে গাঁথা কি না এবং শান্তি প্রিয় রাজবাড়ী সদর উপজেলা অশান্ত করার জন্য বহিরাগত কোন চক্র এমন নৃশংস হত্যা যজ্ঞ চালাচ্ছে কি না -এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা কোন কিছুই চিন্তার বাইরে রাখছেন না। তদন্ত কালিন উঠে আসা আরো অনেক তথ্য সামনে রেখে পুরোদমে কাজ করছেন।

(Visited 474 times, 1 visits today)