রাজবাড়ীর বারবাকপুরে শ্বাশুরীকে জবাই করে হত্যা ও পুত্রবধুকে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় মামলা –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

 

গত বৃহস্পতিবার রাতে অজ্ঞাত দূর্বৃত্তরা রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের বারবাকপুর পশ্চিমপাড়ায় হাজেরা বেগম (৫০) কে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে। সে সময় দূর্বত্তরা হাজেরার পুত্রবধু স্বপ্না বেগম (২৫) কেও কুপিয়ে জখম করেছে। গত শুক্রবার ভোরে পুলিশ লাশ উদ্ধারের পর বিকালে ময়না তদন্তের পর তা তার পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেছেন।এ ঘটনায় নিহতের স্বামী তমিজ উদ্দিন সেখ বাদী হয়ে রাজবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

ওই দিন রাতেই রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি বিপিএম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তার সাথে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাকিব খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রেজাউল করিম, রাজবাড়ী থানার ওসি মোঃ তারিক কামাল, ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ্ আল তায়াবীরসহ জেলা ও থানা পুলিশের উদ্ধর্তন কর্মকর্তরা।

আহত পুত্রবধু স্বপ্না বেগম বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাতের খাবার খেয়ে তিনি, একমাত্র শিশু ছেলে সানি সেখ (৪) ও শ^াশুরীকে নিয়ে নিজের ঘরের খাটে শুয়ে ছিলেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ তার ঘুম ভাঙ্গে। ওই সময় তিনি দেখেন তার ঘরের আলো নেভানো এবং পাশে হাত দিয়ে দেখেন শিশু ছেলে সানি নেই, হাতের সাথে ঠান্ডা পিচ্ছল কিছু উঠে লেগে গেছে। তিনি আংকিত হয়ে পরেন এবং চিৎকারদেন। তার চিৎকারে একই ঘরের অপর পাশে থাকা শ^শুর তমিজ উদ্দিন সেখসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ছুটে আসেন। তারা লাইট জ¦ালিয়ে দেখেন খাটের উপর শ^াশুরী (হাজেরা বেগম)-এর জবাই করা লাশ পরে আছে। সেই সাথে তার নিজের বাম কাঁধ ও দুই হাতের তালু’র বেশ কিছু অংশ কুপিয়ে জখম করা। তবে কারা কি কারণে তার শ^াশুরীকে হত্যা করেছে এবং তাকে কুপিয়ে জখম করেছে তা তিনি জানাতে পারেননি।

নিহত হাজেরা বেগমের স্বামী তমিজ উদ্দিন সেখ বলেন, তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। তার বড় ছেলে হাফিজুল সেখ (আহত স্বপ্না বেগমের স্বামী) দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় চাকুরী করেন। ছোট ছেলে শহিদুল সেখ রয়েছে দুবাইতে। তার আগামী ঈদুল আযহা’র পর বাড়ী ফিরে বিয়ে করার কথা। একমাত্র মেয়ে রুমা খাতুন থাকেন তার স্বামী ও ফেনীর দাগলভূয়া থানার এসআই হান্নান মিয়ার কাছে। বড় ছেলে হাফিজুল সর্বশেষ দেড় বছর আগে ছুটিতে বাড়ী এসেছিলো। তারা যৌথ পরিবার হওয়ায় নিজবাড়ীতে বড় আকারের একটি পাকা ভবন নির্মাণের কাজও শুরু করেছেন। ঈদের আগে সে ভবনের মেরামত কাজ শেষ করার জন্য ছেলেরা তাকে ৫০ হাজার টাকাও পাঠিয়েছে। যে টাকা তার নিজ ঘরের বালিশের নিচে রেখে দিয়েছেন। তাছাড়া তার স্ত্রীর গলায় সোনার চেন ও কানে সোনার দুল থাকলেও ঘাতকরা তা নেয়নি।

তিনি বলেন, গত ২ আগষ্ট রাতে রাজবাড়ী সদর উপজেলার পশ্চিম মূলঘর গ্রামে দাদী সাহিদা বেগম ও নাতনী লামিয়া খাতুন হত্যার ঘটনা ঘটে। ওই বাড়ী তার বাড়ী থেকে মাত্র এক কিলো মিটার দুরে। অপর দিকে, গত ৭ আগষ্ট রাতে বাণিবহের অটদাপুনিয়া গ্রামে গৃহবধু আদুরী আক্তার লিমা হত্যার ঘটনা ঘটে। যে বাড়ীটি তার বাড়ী থেকে দুই কিলো মিটার দুরে। ফলে ওই দুই হত্যাকান্ডের ঘটনার পর গ্রাম বাসীর মত তারাও ছিলেন বিচলিত। যে কারণে তার স্ত্রী হাজেরা বেগমকে তিনি বড় ছেলে হাফিজুলের স্ত্রী স্বপ্না বেগম ও নাতি সানি সেখের সাথে ঘুমাতে দিচ্ছিলেন।

তিনি আরো বলেন, তিনি একজন বৃত্তশালী কৃষক। তার বাড়ীতে বহিরাগত কারও আড্ডা দেবার সুযোগ নেই। গত কয়েক দিনে তার বাড়ীতে কোন অযাচিত মানুষকেও প্রবেশ করতে দেখেন নি। ফলে কোন ভাবেই ধারনা করতে পারছেন না কারা কি কারণে তার স্ত্রীকে হত্যা এবং পুত্রবধুকে কুপিয়ে জখম করেছে। তবে তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবী জানান।

রাজবাড়ী থানার ওসি তারিক কামাল বলেন, হাজেরা বেগম হত্যার ঘটনায় তার স্বামী বাড়ী হয়ে গতকাল বিকালে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। অপরদিকে, দাদী-নাতনি এবং গৃহবধু লিমা হত্যার ঘটনায় তারা তৎপরতায় ইতোমধ্যে ছয় জনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। ওই দুই মামলার অগ্রগতিও রয়েছে। পেয়েছেন নানা তথ্য। তবে পর পর এই চার হত্যাকান্ড এক সূত্রে গাঁথা কি না এবং শান্তি প্রিয় রাজবাড়ী সদর উপজেলা অশান্ত করার জন্য বহিরাগত কোন চক্র এমন নৃশংস হত্যা যজ্ঞ চালাচ্ছে কি না -এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা কোন কিছুই চিন্তার বাইরে রাখছেন না। তদন্ত কালিন উঠে আসা আরো অনেক তথ্য সামনে রেখে পুরোদমে কাজ করছেন।

রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি বিপিএম জানান, তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে হত্যাকারীদের সনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। আশা করছেন খুব শিঘ্রই হত্যা রহস্য এবং হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।

রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক মোঃ শওকত আলী জানান, একই ধরণের হত্যাকান্ড ঘটাচ্ছে ঘাতকরা। যা আমাদের জন্য শংকার। মাত্র ১৫ দিনে চার নারী শিশু হত্যা কারও কাম্য নয়। যাতে এ ধরণের হত্যার ঘটনা আর না ঘটে সে বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হবে।

(Visited 1,070 times, 1 visits today)