রাজবাড়ীতে দাদী-নাতনি ও গৃহবধুকে জবাই এর ঘটনায় ৫ জন ৩ ও ৪ দিনের রিমান্ডে –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

 

রাজবাড়ীতে ৫ দিনের ব্যবধানে দাদী-নাতনি ও গৃহবধুকে জবাই করে হত্যার ঘটনায় পুলিশ পৃথক ভাবে ছয় জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃদের মধ্যে ৫ জনের বিরুদ্ধে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে রাজবাড়ীর ১ নং আমলী আদালত দাদী-নাতনি হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই জনকে চার দিন এবং গৃহবধু হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার তিন জনকে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড মেম্বার ওমর আলী খানের ভাই এবং ওই ওয়ার্ডের বারবাকপুর গ্রামের মৃত জিতু খানের কাঠ ব্যবসায়ী ছেলে সাত্তার খান ওরফে ছপ্পর (৪৮) ও মূলঘর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড মেম্বার শাজাহান মিজি’র ভাতিজা এবং একই ওয়ার্ডের পশ্চিম মূলঘর গ্রামের আমির হোসেন মিজি’র ছেলে ও রড মিস্ত্রী ইয়াছিন মিজি (৩৬) এবং সদর উপজেলার বাণিবহ ইউনিয়নের বড় আটদাপুনিয়া গ্রামের আব্দুল করিম মৃধার ছেলে সিরাজুল ইসলাম মিরাজ (২৩), মৃত হারেজ মিয়ার ছেলে আমির খান (৩৪), আব্দুস সাত্তার মোল্লার ছেলে মিঠু মোল্লা (৩৩) এবং বাণিবহ গ্রামের মৃত বেলায়েত হোসেনের ছেলে ও বাণিবহ ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার আরমান হোসেন ওরফে লালু মেম্বার (৩৩)।
জানাগেছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে সাত্তার খান ওরফে ছপ্পর ও ইয়াছিন মিজিকে গত ২ আগষ্ট রাতে রাজবাড়ী সদর উপজেলার পশ্চিম মূলঘর গ্রামে দাদী সাহিদা বেগম (৪৫) ও নাতনী লামিয়া খাতুন (৭) হত্যা মামলায় এবং সিরাজুল ইসলাম মিরাজ ও আমির খানকে গত ৭ আগষ্ট রাতে সদর উপজেলার বাণিবহ ইউনিয়নের বড় আটদাপুনীয়া গ্রামে দুই সন্তানের জননী আদুরী আক্তার লিমা (২৫) হত্যা মামলার সন্ধিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া সিরাজুল ইসলাম মিরাজ নিহত গৃহবধু আদুরী আক্তার লিমা ছোট দেবর ও আমির খান লিমা’র ফুপাতো দেবর। লিমাকে হত্যার ঘটনায় গত ৮ আগষ্ট রাতে তার স্বামী মিজানুর রহমান বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং দাদী-নাতনিকে হত্যার ঘটনায় গত ৩ আগষ্ট নাতনি লামিয়া খাতুনের বাবা শহিদুল মিয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
গৃহবধু লিমার ময়না তদন্তকরা রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ আলী আহসান তুহিন জানান, লিমার গলা প্রায় সবটুকুই কেটে ফেলা হয়েছে, ঘাড়ের পেছনে সামান্য একটু চামড়ার সাথে মাথাটা বেঁধে ছিলো। তবে তাকে ধর্ষণ করার কোন আলামত পাওয়া যায়নি। মূলত রক্তক্ষরণের কারণে লিমার মৃত্যু হয়েছে। তারপরও লিমার শরীরের অংশ বিশেষ ভিসেরা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ৬ দিন আগে দাদী-নাতনিকে কিছুটা একই ভাবে জবাই করা হয়েছেলো। তবে দাদী-নাতনির শরীরে ছিলো অনেক বেশি আঘাতের চিহ্ন।
এদিকে, গত শুক্রবার দুপুরে লিমার স্বামী মিজানুর রহমান বলেন, তিনি গত দুই মাস ধরে কক্সবাজারে রড মিস্ত্রীর কাজ করছিলেন। তিনদিন আগে লিমা তাকে মুঠোফোনে বলেছিল রাতের বেলায় ঘরের বাইরে দিয়ে কারা যেন ঘোড়া-ফেরা করে। যে কারণে তার ভয় হচ্ছে। আর ওই ভয়ের কারণেই লিমা পর পর দুই দিন শ^শুরের ঘরে গিয়েও থেকেছে এবং তৃতীয় দিনই ঘাতকরা তাকে জবাই করে হত্যা করেছে। তিনি আরো বলেন, লিমা হত্যার ঘটনায় পুলিশ তার আপন ভাই সিরাজুল ইসলাম মিরাজ ও ফুপাতো ভাই আমির খানকে গ্রেপ্তার করেছে। যদি তারা ঘটনার সাথে জড়িত থাকে তবে তাদের অবশ্যই বিচার হতে হবে।
অপরদিকে, সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড মেম্বার ওমর আলী খান বলেন, দাদী-নাতনি’র লাশ তিনি নিজে হাতে তুলো ময়না তদন্তের পাঠানোর জন্য পুলিশকে সহযোগিতা করেছেন। সেটা ছিলো নৃশংস হত্যাকান্ড । ফলে ওই হত্যাকান্ডের সাথে তার ভাই সাত্তার খান ওরফে ছপ্পর জড়িত থাকলে তারও বিচার হলে কোন আপত্তি থাকবে না। সেই সাথে মূলঘর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড মেম্বার শাজাহান মিজি’র বলেন, তার ভাতিজা ইয়াছিন মিজিও যদি ওই হত্যার সাথে জড়িত থাকে তবে তারও বিচার তিনি আসা করেন।
রাজবাড়ী থানার ওসি তারিক কামাল বলেন, ডিজিটাল ডিভাইস ব্যাবহার এবং প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে স্ব স্ব এলাকা থেকে গত বৃহস্পতিবার বিকালে ওই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা অতিব জরুরী। যে কারণে আদালতে তাদের বিরুদ্ধে সাত দিয়ের রিমান্ড আবেদন জানিয়ে গতকাল বিকালে তাদের পাঠানো হয়েছে। তার দাবী অল্প সময়ের মধ্যেই এই দু’টি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে।
গৃহবধু হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও রাজবাড়ী থানার এসআই বদিয়ার রহমান জানান, লালু মেম্বারকে গত রবিবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধের আদালতে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।

(Visited 1,585 times, 1 visits today)