রাজবাড়ীতে যৌনহয়রানীকারী শিক্ষক অসীমের কুকর্ম ফাঁস, ঘটনা সত্য বলছে তদন্ত কমিটি-

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

রাজবাড়ী সদর উপজেলার বাণিবহ ইউনিয়নের বার্থা খানপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অসীম কুমার দাস কর্তৃক পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রীকে যৌনহয়রানীকারী করার সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। সেই সাথে ওই তদন্ত কমিটির কাছে উঠে এসেছে তারা বহুবিধ কুকর্মেও ফিরিস্থি। অথচ এখনো অসীমের ব্যাপারে নেয়া হয়নি কোন ব্যবস্থা বরং নিজ বাড়ী থেকে দুরত্ব কম হওয়া সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের বড় চর বেনিনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলী করা হয়েছে তাকে।
অভিভাবকরা বলছেন, এমন কুকর্ম করা শিক্ষককে যে বিদ্যালয়েই পাঠানো হোকনা কেন, ওই শিক্ষক অনৈতিক এ ধরণের ঘটনা ফের ঘটাবে। অসীমের কাছে মেয়ে শিশু শিক্ষার্থীরা নিরাপদ নয়। তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যা কিনা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
এদিকে, প্রধান শিক্ষক অসীম কুমার দাসের বিরুদ্ধে চলছে একের পর এক তদন্ত কার্যক্রম। সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যেই প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এ তদন্ত কমিটির প্রধান ও সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান শাহিনুর আক্তার বিউটি জানান, অভিযোগের পক্ষে ওই ছাত্রীর মা, বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকরা লিখিত বক্তব্য প্রদান করেছেন। ওই ছাত্রীর মা লিখেছেন, অসীম তার মেয়েকে বলেছে “আমি যদি মসুলমান হতাম তাহলে আমি আমার ছেলের সাথে বিবাহ দিতাম”। আর সহকারী শিক্ষকরা লিখেছেন, যে মেয়েকে নিয়ে কথা উঠেছে “অসীম প্রায়ই অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা গল্প করতো। সহকারী শিক্ষকরা কোন কাজে অফিস কক্ষে গেলে অসীম চুপ হয়ে যেত। অসীম ছাত্রীদের অশালীন ও বাজে কথা বলে। মেয়েরা অন্যান্য শিক্ষকদের কাছে অভিযোগ দেয়। সহকারী শিক্ষকরা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির মাধ্যমে অসীমকে সতর্ক করার চেষ্টা করলে সে শিক্ষকদের উল্টা অনৈতিক কথা বলে। অসীম বলে ‘যে সব মহিলা চাকরী করে তাদের দুই স্বামী, এক বস স্বামী, দুই নিজের স্বামী’। ওয়াস ব্লাকের মটর নষ্ট হওয়ায় শিক্ষার্থীদের দূর্ভোগ হয়, অথচ অসীমকে বলায় সে উল্টা অপমান করে। এছাড়া টিফিনের সময় পাশে থাকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মেয়েদেও ডেকে এনেও গল্প করে। তারা আরো বলেন, যে মেয়েটির নিয়ে অভিযোগ উঠেছে তা সঠিক। তারা প্রধান শিক্ষক অসিমের আন্ডারে চাকরী করতে চান না।” এতো অভিযোগের পরও গত বৃহস্পতিবার অসীমকে সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের বড় চর বেনিনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলী করা হয়েছে।
সদর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নৃপেন্দ্রনাথ সরকার জানান, প্রধান শিক্ষক অসীম কুমার দাসকে একই দিন প্রাথমিক ভাবে বদলী করা হয়েছে। তাছাড়া তার বিরুদ্ধে একাধিক তদন্ত কমিটির কাজ করছে। ওই তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে স্বল্প সময়ের মধ্যেই তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ৩০ এপ্রিল রাজবাড়ী পিটিআই-এর পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের তৎকালিন ডেপুটেশনের থাকা শিক্ষক হাবিবুর রহমান মোল্লা হবিও পঞ্চম শ্রেণীর অপর এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানী করে।ওই ঘটনার পর শিক্ষক হাবিবুর রহমান মোল্লা হবি মেডিকেল সনদ দিয়ে প্রতারনা মূলক ছুটির আবেদন করায় তার বিরুদ্ধে আরো একটি বিভাগীয় মামলা দায়ের এবং সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

(Visited 822 times, 1 visits today)