রাজবাড়ীর মূলঘরে নিহত দাদী-নাতনি শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন, মামলা দায়ের –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

সদর উপজেলার পশ্চিম মূলঘর গ্রামে দাদী সাহিদা বেগম ও নাতনী লামিয়া খাতুনকে জবাই করে হত্যার ঘটনায় গতকাল শনিবার সকালে অজ্ঞাত দূর্বৃত্তদের আসামি করে রাজবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলার বাদী হয়েছেন, নিহত লামিয়ার বাবা শহিদুল ইসলাম। ময়না তদন্ত শেষে গতকাল বিকালে নিজ বাড়ীতে নামাজে জানাজা শেষে লাশ দাফন করা হয়। তবে ময়না তদন্তকারী চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দাদী ও নাতনি’র শরীরে রয়েছে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন।
এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও রাজবাড়ী থানার এসআই মেজবা উদ্দিন বলেন, ইতোমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে। আসামিদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি তাদের গ্রেপ্তার করতে কাজ চলছে। গতকাল দুপুরে ময়না তদন্তের পর লাশ দু’টি তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ময়না তদন্তের পর রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আলী আহসান তুহিন জানান, চা পাতি আকারের ভারি ধারালো অস্ত্র দিয়ে অমানবিক ভাবে দাদী ও নাতনিকে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করা হয়েছে। দাদীর গলার চার পাশের চামড়া কাটা হয়েছে, পিঠ, মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানেও রয়েছে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন। সেই সাথে তাকে ধর্ষণ করার আলামতও মিলেছে। অপরদিকে, শিশু নাতনি’র কানের নিচেই রয়েছে কুপিয়ে জখমের ৫টি চিহ্ন রয়েছে। সেই সাথে মাথাতেও রয়েছে একাধিক আঘাতের চিহ্ন।
তিনি আরো জানান, নিহতদের খাবারসহ বিভিন্ন অঙ্গের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। যা ভিসেরা রিপোর্ট তৈরীর জন্য রাজধানী ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। দুই থেকে আড়াই মাস সময়ের মধ্যে ওই রিপোর্ট তারা হাতে পাবেন। তখন এই হত্যাকান্ডের সঠিক তথ্য জানানো সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, ওই গ্রামের শাজাহান মিয়ার স্ত্রী সাহিদা বেগম (৪৫) এবং সাহিদার ছেলে সহিদুল মিয়ার মেয়ে লামিয়া খাতুন (৭) কে নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে নিজ বাড়ীতে অবস্থান করছিলেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে কোন এক সময় ওই বাড়ীতে দূর্বত্তরা প্রবেশ করে এবং দাদী সাহিদা এবং নাতনী লামিয়াকে জবাই হত্যার পর পালিয়ে যায়। গত শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত দাদী ও নাতনীতে ঘরের বাইরে না দেখে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। তারা ওই ঘরে কাছে গিয়ে রক্ত পরে থাকতে দেখে এবং ভেতরে প্রবেশ করে দেখেন দুই জনের রক্তাক্ত লাশ চৌকির উপর পরে আছে। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।

(Visited 324 times, 1 visits today)