পাংশায় জাতীয় অধ্যাপক ড. কাজী মোতাহার হোসেনের ১২১ তম জন্ম বার্ষিকী পালিত-

মাসুদ রেজা শিশির, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

ড. কাজী মোতাহার হোসেন ছিলেন বহুমাত্রিক গুণের অধিকারী, বিজ্ঞানী, লেখক, সাহিত্যিক, পরিসংখ্যানবিদ, গণিতবিদ, উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ দাবাড়–। তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যাøয়ের শিক্ষক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনিই প্রথম পরিসংখ্যান বিভাগ চালু করেন। এমন গুণের অধিকারী মানুষ তেমন হয় না। আত্মভোলা একজন মানুষ। এমন একজন ব্যক্তি যিনি আমাদের এলাকায় জন্ম নিয়েছে। ১৯২৬ সালের দিকে মুসলিম সমাজকে জাগিয়ে তোলার জন্য তিনি আন্দোলন করেছেন। বুদ্ধিমুক্তি আন্দোলনেও দিয়েছেন নেতৃত্ব। তিনি জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে ভূষিত হয়েছেন। তিনি ছিলেন একজন সাধারণ পরিবারের সন্তান। তিনি ছিলেন অদম্য মেধাবী। প্রতি ক্লাসেই স্কলারশীপ পেয়েছেন। স্কলারশীপের টাকা বাড়িতে পাঠিয়ে দিতেন। নিজে টিউশনি করে পড়াশোনা চালিয়েছেন। বর্তমানে আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা বাবার আর্থিক দুর্বলতার দোহায় দিয়ে পড়াশোনা থেকে ছিটকে পড়ছে। গতকাল সোমবার ড. কাজী মোতাহার হোসেন কলেজ চত্ত্বরে জাতীয় অধ্যাপক, জ্ঞানতাপস, প্রগতিশীল চিন্তাবীদ,খ্যাতিমান দাবাড়–,জাতীয় অধ্যাপক মহামানষী অধ্যাপক ড. কাজী মোতাহার হোসেন এর ১২১ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশের সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবু হেনা এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, এ বছর এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে আমি খুশি নই, লেখাপড়ার দিকে নজর দেয়া হচ্ছে না। লেখাপড়ার মান বৃদ্ধির পাশাপাশি আগামীতে ফলাফল আরো ভাল করতে হবে। শিক্ষার্থীদের বহুমাত্রিক গুণের অধিকারী ড. কাজী মোতাহার হোসেন সম্পর্কে জানতে হবে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তোমরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ, তোমরা স্বপ্ন দেখতে শেখো। রাতে ঘুমের মধ্যে দেখা স্বপ্ন স্বপ্ন নয়। স্বপ্ন দেখতে হবে যে স্বপ্ন বাস্তবায়নে রাতে চোখে ঘুম আসবে না। তোমরা এমন স্বপ্ন দেখো যে স্বপ্নে দেশ ও জাতির মঙ্গল তথা নিজেদের উন্নতি হয়। আমি নারী শিক্ষার অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছি। নারীরা আজ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। বর্তমানে নারী-পুরুষ শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় সমান। নারীরা আরো এগিয়ে যাবে বলে আমি আশা করি। তিনি বলেন, আমাদের রাজবাড়ীতে ইতিপূর্বে জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করে গেছেন কয়েকজন নারী। এছাড়াও বর্তমানে রাজবাড়ীর পুলিশের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন একজন নারী। আমি গর্ববোধ করি আমি এ এলাকার সন্তান। কারণ এ এলাকায় জন্মেছেন অসংখ্য গুণী, সাহিত্যিক, লেখক ও শিক্ষাবিদ। তিনি বলেন, আমি স্বপ্ন দেখি এ দেশকে নিয়ে, এদেশের মানুষকে নিয়ে। আমি আমার জন্য কখনো ভাবিনি।
রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক মোঃ শওকত আলী’র সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এর সাবেক মহাপরিচালক ও কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি ড. এম,এ মাজেদ, পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি বিপিএম, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফকীর আব্দুল জব্বার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রেবেকা খান, পাংশা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ ফরিদ হাসান ওদুদ, পাংশা পৌর মেয়র আব্দুল আল-মাসুদ, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আব্দুল ওয়াহাব, ড. কাজী মোতাহার হোসেন কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল আজিজ প্রমুখ। এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার (পাংশা সার্কেল) মোঃ ফজলুল করিম, অফিসার ইনচার্জ মোঃ আহসান উল্লাহ, হাবাসপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আলীম মন্ডল, যশাই ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোঃ সিদ্দিকুর রহমান, বাহাদুরপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ হুমায়ুন কবীর শাকিল, হাবাসপুর কে,রাজ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নির্মল কুমার সাহা সহ বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ড. কাজী মোতাহার হোসেন কলেজ এর সাবেক অধ্যক্ষ বিকাশ চন্দ্র বসু। ড. কাজী মোতাহার হোসেন এর ১২১ তম জন্মবার্ষিকীর কেক কাটার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। এ সময় ড. কাজী মোতাহার হোসেন এর ১২১ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। আলোচনা শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

(Visited 113 times, 1 visits today)