বহালতবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছে যৌনহয়রানীকারী শিক্ষক হাবিব, অসীমকে বাঁচানোর চেষ্টা –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

রাজবাড়ীর পিটিআই-এর পরীক্ষণ বিদ্যালয়ে ধর্ম পরীক্ষা চলাকালে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রীকে যৌনহয়রানীর দীর্ঘ আড়াই মাস পর সহকারী শিক্ষক মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান মোল্লা ওরফে হাবিবের বিরুদ্ধ গত বৃহস্পতিবার বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকে একের পর এক মেডিকেল ছুটির আবেদন করে বহালতবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন ওই শিক্ষক। তবে গতকাল পর্যন্ত তার ওই ছুটি মঞ্জুর হয়নি। চলছে ছুটির আবেদনের সাথে দেয়া চিকিৎসকের সার্টিফিকেটের যাচাই-বাছাই। যদিও হাবিব রাজবাড়ী জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি’র সভাপতি হওয়ায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে চলছে এমন তালবাহানা বলে দাবী করেছেন বেশ কয়েকজন শিক্ষক।
আর হাবিবের সঠিক বিচার না হওয়ায় গত ৯ জুলাই সদর উপজেলার বার্থা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অসীম কুমার দাসও তার স্কুলের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রীকে যৌনহয়রানীর সাহস দেখান। এলাকাবাসীর তোপের মুখে পড়া অসীমের ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ এখনো তেমন কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেন নি। উল্টা জেলা শহরের কিছু সংখ্যক ব্যক্তি অসীমকে পুতপবিত্র বলে জাহির করে তাকে রক্ষার সর্বোচ্চ চেষ্টায় লিপ্ত হয়েছেন। অথচ ওই সব শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের এমপি কাজী কেরামত আলী নির্দেশ দিয়েছেন।
জানাগেছে, রাজবাড়ী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হোসনে ইয়াসমীন করিমী ইতোমধ্যেই বিভাগীয় মামলা রুজ করে সহকারী শিক্ষক মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান মোল্লা ওরফে হবিবকে পত্র দিয়েছেন। ওই পত্রে দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘আপনার বিরুদ্ধে সরকারী কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা-২০১৮ এর ২(খ) ও ২(খ) (অ) (আ) (ই) ও (ঈ) ধারায় বিভাগীয় মামলা রুজু করা হলো। একই বিধিমালার ৪(৩) (ঘ) মোতাবেক কেন আপনাকে চাকুরী থেকে বরখাস্ত করা হবে না তার সন্তোষজনক জবাব ও আত্মপক্ষ সমর্থনে আপনার লিখিত বক্তব্য পত্র প্রাপ্তির পর দশ কার্যদিবসের মধ্যে দাখিল করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো। ওই পত্রে এই বিভাগীয় মামলা দায়েরের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজবাড়ী পিটিআই-এর পরীক্ষণ বিদ্যালয়ে সংযুক্ত (ডেপুটেশনে) থাকা অবস্থায় প্রথম সাময়িক পরীক্ষা চলার সময় পঞ্চম শ্রেণীর একজন ছাত্রীকে যৌন হয়রানী, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক প্রেরিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম সাময়িক পরীক্ষার নির্ধারিত সময়সূচী(২৩ এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিল) পিছিয়ে ৯ই মে পর্যন্ত নেওয়ার জন্য তৎকালীন পিটিআই সুপারিনটেনডেন্টের নিকট দাবী জানানো ও সেই দাবী না মঞ্জুর করায় তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, সুপারিনটেনডেন্টের মৌখিক নির্দেশ অমান্য করে ২০১৭ সালের ২৬ আগষ্ট পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের সামনে সমাবেশের স্থানে বৃক্ষরোপণ, রোপনকৃত সেই বৃক্ষ যতœ সহকারে পরিকল্পিত স্থানে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে বাঁধা দেয়া এবং জেলা প্রশাসন ও অন্যান্য সংস্থার নিকট পিটিআই প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা, পিটিআই-এর মালিকে মৌখিক নির্দেশ দিয়ে পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের বারান্দার বেডে রোপিত শোভাবর্ধনকারী গাছ উঠিয়ে ফেলে সেখানে পুঁইশাকের চারা রোপণ করা, বিধিসম্মত না হলেও একই আবেদনপত্রে সংযুক্তভাবে নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করা, পিটিআই’র সুপারিনটেনডেন্টের সম্মতি থাকা সত্ত্বেও পিটিআই কর্তৃপক্ষের মাধ্যম ব্যতীরেকে শিক্ষা সফরে যাওয়ার জন্য সরাসরি জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করা, পিটিআই কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ব্যতীরেকে এবং ক্লাস না নিয়ে প্রায়ই বিদ্যালয় ত্যাগ করা, এহেন কার্যকলাপের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা বিঘিœত করা, আচরণে অনৈতিকতা, প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ভঙ্গ, কর্তব্যে অবহেলা এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি ঔদ্ধত্য প্রকাশিত হওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া সহকারী শিক্ষক মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান মোল্লা কর্তৃক ২০১৬ সালের নভেম্বরে নিজ বিদ্যালয়ের (সূর্যনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়) ৪র্থ শ্রেণীর একজন ছাত্রীকে যৌন হয়রানী করারও অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, যৌনহয়রানীর ঘটনা প্রকাশ পাবার পর থেকে সহকারী শিক্ষক মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান মোল্লা ওরফে হাবিব নিজেকে রক্ষা করতে দৌড়-ঝাপ করছেন নিয়মিত ভাবে। তিনি পিটিআই’তে মেডিকেল ছুটির আবেদন করে অসুস্থ্যতার ভান করে বহালতবিয়তে করছেন ঘোড়াফেরা। গত বুধবার সকালে তাকে জেলা শহরের সজ্জনকান্দা এলাকায় থাকা শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের এমপি কাজী কেরামত আলীর বাস ভবনে দীর্ঘ সময় অবস্থান করা এবং বিকালে সদর উপজেলার খানগঞ্জ ইউনিয়নের বেলগাছির আলীমুজ্জামান স্কুল ও কলেজে আয়োজতি অনুষ্ঠানে হাসি ঠাট্টা পাশাপাশি ওই অনুষ্ঠানে আগত অতিথিতের ছবি মোবালইফোনে তুলেতে দেখা গেছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হোসনে ইয়াসমীন করিমী জানান, পিটিআই-এর পরীক্ষণ বিদ্যালয় থেকে সহকারী শিক্ষক মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান মোল্লা ওরফে হাবিবকে ইতোমধ্যেই প্রত্যাহার করা হয়েছে। সেই সাথে তার রিরুদ্ধে বিভাগী মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এখনো তার মেডিকেল ছুটি মঞ্জুর করা হয়নি। প্রথমে যে মেডিকেল সার্টিফিকেট দিয়েছিলো তা যাচাই-বাছাই করার জন্য রাজবাড়ীর সিভিল সার্জনের কাছে পাঠানো হয়েছে। সিভিল সার্জন যদি মেডিকেল সার্টিফিকেটের পক্ষে প্রতিবেদন দেন তাহলে তার ছুটি মঞ্জুর করা হবে, আর বিপক্ষে প্রতিবেদন দিলে আরেকটি বিভাগীয় মামলা তার বিরুদ্ধে করা হবে।
রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন জানান, শিক্ষক হাবিবকে মেডিকেল বোর্ডে ডাকা হয়েছিল। সে যে অসুস্থ্য তার স্ব-পক্ষে কাগজপত্র দেবার জন্য বলা হয়েছে।

(Visited 501 times, 1 visits today)