অবশেষে রাজবাড়ী সরকারী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক শামসুল আলমের শাস্তিমূলক বদলি-

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

প্রায় দুই মাস আগে নকল সরবরাহের অভিযোগে আটক হওয়া রাজবাড়ী সরকারী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) শামসুল আলমকে ভ্রাম্যমান আদালত দুই শত টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। ওই ঘটনার পর গত সোমবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে তাকে শাস্তিমূলক বদলী করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবারই তাকে রাজবাড়ী সরকারী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে অবমুক্ত করা হয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর মোঃ মাহাবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত পত্রে বলা হয়েছে, রাজবাড়ী সরকারী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শামসুল আলমকে আজ মঙ্গলবারের মধ্যে ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার কামারখালী সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ে যোগদান করতে। শামসুল আলমের বাবার নাম বাসু ফকির। বাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার সেনগ্রামে। তিনি বর্তমানে জেলা শহরের ২নং বেড়াডাঙ্গা এলাকার ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।
জানাগেছে, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগের লক্ষে ১৬ টি পদের বিপরীতে ৪৯৮ জন চাকুরী প্রার্থী আবেদন করে। ওই আবেদনকারীর মধ্যে গত ২৫ মে রাজবাড়ী সরকারী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের একমাত্র ভ্যেনুতে ১৪টি কক্ষে ৩৯৩ জন প্রার্থী অংশ গ্রহণ করে। এর মধ্যে ২০৮ নং কক্ষে কক্ষ পরিদর্শক হিসেবে নিযুক্ত হন একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) শামসুল আলম। তিনি ওই কক্ষের এক চাকুরী প্রার্থীকে চিরকুট লেখা নকল সরবরাহ করেন। যা দেখে সেখানে উপস্থিত নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটরা হাতে নাতে তাকে শামসুল আলমকে আটক করেন। পরবর্তীতে ১৮৬০ সালের দন্ডবিধি’র ১৮৮ ধারা মোতাবেক শিক্ষক শামসুল আলমকে দুইশত টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সেই সাথে সরকারী কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮-এর ২-এর “খ” বিধি মোতাবেক বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করা হয়। এর পর রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক মোঃ শওকত আলী ওই নির্দেশনা পত্র শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠান। যার ভিত্তিতে শামসুল আলমের বিরুদ্ধে এই শাস্তি মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলো।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, প্রায় ৯ বছর ধরে এই বিদ্যালয়ে চাকুরী করছেন। এই বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই ড্যাম কেয়ার মনভাব নিয়ে তিনি চলাচল করেন। প্রকাশ্য তিনি ক্লাসে তার কাছে প্রাইভেটপড়ার জন্য বলেন এবং তার কাছে প্রাইভেট না পড়লে ক্লাস পরীক্ষায় ফেল করান। যে কারণে বাধ্য হন ছাত্রীরা তার কাছে পড়তে। কয়েক দিন আগে শহরের ইয়াছিন উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। ওই প্রশিক্ষণে গিয়েও ফাকিবাজী করেছেন তিনি। কৌশলে নিজ বাসায় ফিরে প্রাইভেট পরিয়েছেন। যা দেখে ওই প্রশিক্ষণে আগত শিক্ষকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে বাধ্য হয়ে কর্তৃপক্ষ তাকে ওই প্রশিক্ষণ থেকে বের করে দেন।
অপরদিকে, রাজবাড়ী সরকারী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রবেশ মুখে নান্নু টাওয়ারে রয়েছে ওই শিক্ষকের এসএস হারবাল নামে একটি দোকান। যেখানে তিনি প্রপাইটার হিসেবে লিখেরেখেছিলেন “এস আলম স্যার”। ওই দোকানে বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের মাধ্যমে তাদের মা’দের ডেকে আনা হয় এবং নি¤œ মানের নানা রকম প্রসাধনী গছিয়ে দিয়ে তিনি মোটা অংকের বিল আদায় করতেন। বাধ্য হয়ে ছাত্রীর অভিভাবক টাকা নিয়ে চলে আসতেন। তবে আটক হবার পর শামসুল আলম ওই হারবালের দোকানটির সাইনবোর্ড মুছে ফেলেন এবং তা প্রায় বন্ধই করে দেন।

(Visited 795 times, 1 visits today)