বৃটিশ আমলের ভীতের উপর নতুন ছাদ, ফের ঝুকিতে রাজবাড়ী রেলষ্টেশন ভবন –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

 

বৃটিশ আমলের তৈরী রাজবাড়ী রেলষ্টেশন ভবনের ভীতের উপর নতুন করে শুরু হয়েছে ছাদ স্থাপনের কাজ। ফলে ফের ঝুকির আশংকা দেখা দিয়েছে। সাধারণ যাত্রী ও রেলওয়ে কর্মকর্তাদের ধারণা সংস্কার না করে নতুন ভাবে ভবনটি তৈরী করলে ঝুকি মুক্ত হতো এ ভবনটি।
সংশ্লিষ্ঠরা জানান, বৃটিশ আমলে রাজবাড়ী রেলষ্টেশন স্থাপন করা হয়। আর রেলষ্টেশনকে ঘিরে পরবর্তীতে জেলা শহরের রুপান্তর হয় রাজবাড়ী। আর ওই সময়ই তৈরী করা হয় একতলা রেলষ্টেশন ভবন। যে ভবনে পরিচালিত হয়ে আসছে যাত্রী সেবার কাজ। তবে সংস্কারের অভাবে ওই ভবনের পলেস্তারা ভেঙ্গে পড়া, ছাদ চুইয়ে পানি পড়াসহ অত্যান্ত ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় চলে যায় এ ভবনটি। যে কারণে সাম্প্রতিক সময়ে পুনঃসংস্কারের কাজ শুরু করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। যার অংশ হিসেবে ভবনের একটি অংশের ছাদ ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। সেই সাথে ভেঙ্গে ফেলো ছাদের ওই ভীতের উপরই ফের ছাদ স্থাপনের কাজ করা হচ্ছে পুরোদমে।
সরজমিনে ওই কাজ পরিদর্শনে গিয়ে দেখাযায়, ওই ভবনের দরোজার উপরের অংশ ছাদসহ পর্যন্ত ভেঙ্গে ফেলেছেন নিযুক্ত ঠিকাদারের শ্রমিকরা। সেই সাথে বৃটিশ আমলে তৈরী করা ওই দেয়ালের উপরই নতুন করে গাঁথা হয়েছে ইটের গাথুনি। আর এই গাথুটির উপর ফের ছাদ স্থাপনের কাজ চলছে তখন পুরোদমে।
সে সময় ষ্টেশনের আগত বৃদ্ধযাত্রী আকবর আলী মিয়া বলেন, এক থেকে দেড়শত বছর আগে এই রেলষ্টেশন ভবন স্থাপন করা হয়েছে। অথচ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বিবেচনাহীনভাবে এই ভবনের ছাদের অংশ ভেঙ্গে ফেলে পুরোনো এই ভীতের উপর ফের ছাদ স্থাপন করতে তা তার বোধগম্য নয়। বরং পুরোনো এই ভীতের উপর তৈরী হতে থাকা ছাদের কারণে ভবনটিই হয়ে উঠবে ঝুকি পূর্ণ এবং মৃত্যুর ফাঁদ। কারণ পুরোনো ভীতের গাথুনির মেয়াদ ফুড়িয়েছে অনেক আগে। দেয়ালের কিছু কিছু ইট ও সিমেন্ট তুষের মত গুড়ো হয়ে পড়ে যাচ্ছে। ফলে ওই পুরোনো গাথুনি নতুন ছাদের ওজন সইতে আর কতদিন সইতে পারবে না, ওজনের ভারে স্বল্প সময়ের মধ্যে ভেঙ্গে পরবে তার নিশ্চিয়তা কে দেবে।
অপর যাত্রী শাহানা বেগম বলেন, মানুষ সামনের দিকে এগিয়ে যায়, আর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের এই সংস্কার কাজ দেখে মনে হচ্ছে তারা অতিতেই ফিরে যেতে পছন্দ করেন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের উচিৎ ছিলো এই একতলা ভবনটি সংস্কারের নামে পুরোনো ভীতের উপর ছাদ না করা। এই জায়গায় আধুনিকমানের একাধিক তলা বিশিষ্ঠ নতুন করে ভবন তৈরী করা। তাতে করে এই রেলষ্টেশনে যাত্রী সেবার মান বৃদ্ধি পেত এবং রেলওয়ের কর্মকর্তা কর্মচারীদের আফিসিয়াল কাজ কর্ম বিঘিœত হতো না।
সংস্কার কাজ করতে থাকা আশুলিয়ার ইনসিনেটি কনষ্ট্রেকশনের প্রতিনিধি রেজাউল মোল্লা জানান, ২৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ে নিয়ম মেনে তারা প্রায় ৩ মাস ধরে ২ হাজার ৯শত স্কায়ার ফুটের এই ভবন সংস্কারের কাজ করছেন। তাদের সিডিউলে বলা হয়েছে, পুরোনো ১৫ ইঞ্চি দেওয়ালের ভীতের দরোজার উপরের অংশ পর্যন্ত ছাদসহ ভেঙ্গে ফেলা এবং ভেঙ্গে ফেলা অংশের উপর নতুর করে আরো দুই ফুট উচ্চতা বৃদ্ধি পূর্বক নতুন ছাদ স্থাপন, নতুন দরোজা ও থাইগ্লাসের জানালা, মেঝে টাইলছ করার কাজ তারা করছেন। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই তাদের এ কাজ শেষ হবে। তিনিও মনে করেন, পুরোনো নয়, নতুন করে যদি ভবনটি নির্মাণ করা সম্ভব হতো তাহলে ভাল হতো। তবে তাদের কিছু করার বা বলার নেই। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দেয়া নির্দেশনার আলোকেই তারা এ কাজ করছেন।
রাজবাড়ী রেলষ্টেশন মাস্টার কামরুজ্জামান জানান, পুরোনো ভীতের উপর তাদের একটি ভবনের কাজ শুরু করা হয়েছে। বিষয়টা ঝুকিপূর্ণ। তাছাড়া এ রেলষ্টেশনে আরেকটি ভবন রয়েছে, সে ভবনটিও পলেস্তারা ভেঙ্গে পড়ছে, ছাদ চুইয়ে পানি পড়ছে। ফলে তারা অত্যান্ত ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় কাজ করছেন। প্রসিদ্ধ এই রেলষ্টেশনটির শ্রী বৃদ্ধিতে আরো চিন্তিত পদক্ষেপ গ্রহণেরও প্রয়োজনীতার কথা বলেন।
রাজবাড়ী রেলওয়ের সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল হানিফ জানান, পুরোনো ভীতের উপর নতুন করে ছাদ স্থপনের বিষয়টি ঝুকিপূর্ণ হবে না। কারণ তাদের প্রকৌশলীরা বিষয়টি খতিয়ে দেখেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

(Visited 105 times, 1 visits today)