যৌনহয়রানীকারী রাজবাড়ীর দু’শিক্ষক হাবিব ও অসীমকে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবী –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

সন্তানতুল্য কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের সাথে যৌনহয়রানী করা রাজবাড়ীর দুই শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জেলা প্রশাসকের কাছে স্বারকলিপি প্রদান করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। অপরদিকে, সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত প্রধান শিক্ষকদের সমন্বয় সভায়ও বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে রুপ নেয়। ওই সভায় উপস্থিত শিক্ষকরাও এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং যৌনহয়রানীকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি প্রদানের দাবী করেন।
জানাগেছে, আজ বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সমন্বয় সভা। সদর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নৃপেন্দ্রনাথ সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় ওই সভায়। সভায় সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোশারফ হোসেন, আব্দুল কাদেও ও নাছরিন নাহার, প্রধান শিক্ষক বিজেন্দ্রনাথ দাস, রেজাউল হক, হোসাইন আহম্মেদ, আঞ্জুমান আরা, রিজিয়া খানম প্রমুখ বক্তৃতা করেন। তারা বলেন, গুটি কয়েক শিক্ষককের ছাত্রীদের সাথে যৌনহয়রানীর জন্য আজ তারা সামাজিক ভাবে লজ্জিত হচ্ছে। তাই এসব নামধারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান। ওই সময় উপস্থিত দর উপজেলার বাণিবহ ইউনিয়নের বার্থা খানপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অসীম কুমার দাসকে তিরস্কারও করা হয়।

এদিকে, গত মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ রাজবাড়ী জেলা শাখার সভাপতি লাইলী নাহারের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসকের অফিস রুমে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হয়। সভা শেষে উপস্থিত নারী নেত্রী ডাঃ পূর্ণিমা দত্ত, আঞ্জুমান আরা, সাগুতা গুহ, গুলশান আরা মিতাসহ অন্যান্যরা জেলা প্রশাসক মোঃ শওকত আলীকে স্বারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কন্যা শিশুদের উপর যৌন হয়রানী মহামারীর মত ছড়িয়ে পড়ছে। বিকৃত রুচির শিক্ষক দ্বারা এ ধরণের ঘটনায় অভিভাবকরা শঙ্কিত ও সচেতন সমাজ বিক্ষুদ্ধ। গত ৯ জুলাই রাজবাড়ী সদর উপজেলার বাণিবহ ইউনিয়নের বার্থা খানপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অসীম কুমার দাস কর্তৃক পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রীকে এবং কিছুদিন পূর্বে রাজবাড়ী পিটিআই-এর পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের ডেপুটেশনের শিক্ষক নেতা হাবিবুর রহমান মোল্লা হবি কর্তৃক পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রীকে যৌন হয়রানীর ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনা গুলোর বিষয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদও প্রকাশিত হয়। অভিযুক্ত ওই দুই জন শিক্ষক এ ধরণের ঘটনা আগেও ঘটানোর অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবারই তারা এ ধরণের ঘটনা ঘটিয়ে আইনের মারপ্যাচে পাড় পেয়ে গেছে। যে কারণে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানোর পাশাপাশি এই বিকৃতরুচির শিক্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করেন।
জেলা মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডাঃ পূর্ণিমা দত্ত জানান, বিচারহীনতা ও আইনী দুর্বলতার কারণে এ ধরণের পাশবিক ও বিভৎস ঘটনা একের পর এক ঘটে চলেছে। তাই এ ঘটনা দুটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের অনতিবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান এবং জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সর্বস্তরে শিশু কন্যাসহ সকল বয়সী নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবী জানান।

(Visited 959 times, 1 visits today)