যৌনহয়রানী শিক্ষক হাবিব ও অসীমের বিচার চেয়ে রাজবাড়ী’র ডিসি’র কাছে স্বারকলিপি –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

 

 

রাজবাড়ী সদর উপজেলার বানীবহ ইউনিয়নের বার্থা খানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অসীম কুমার নাগ এবং পিটিআই পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের শিক্ষক হাবিবুর রহমান মোল্লা হাবিব-এর বিরুদ্ধে নিজ বিদ্যালয়ের ছাত্রীকে যৌন হয়রানী করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে শিক্ষক অসীম ও হাবিবের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবীতে আজ মঙ্গলবার রাতে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ রাজবাড়ী জেলা শাখার পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক মোঃ শওকত আলীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
সে সময় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, রাজবাড়ী জেলা শাখার সভাপতি লাইলী নাহার, সাধারণ সম্পাদক ডাঃ পূর্ণিমা দত্ত, নারী নেত্রী আঞ্জুমান আরা, সাগুতা গুহ, গুলশানআরা মিতা সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে নারী নেত্রীরা জেলা প্রশাসকের সাথে এ বিষয়ে মতবিনিময় করেন।

উল্লেখ্য, গত ৩০ এপ্রিল প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (পিটিআই)-এর পরীক্ষণ বিদ্যালয়ে প্রথম সাময়িক পরীক্ষার ধর্ম বিষয়ের পরীক্ষা চলছিলো। পরীক্ষা শেষে শিক্ষক হাবিবুর রহমান হাবিব ওই ছাত্রীর শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে যৌন হয়রানী করেন। ওই ঘটনার পর বিগত ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে পরিক্ষণ বিদ্যালয় খোলে গত ১৯ জুন। ওই দিন যৌনহয়রানীকারী শিক্ষক হাবিব বিদ্যালয়ে যোগদান না করে সুকৌশলে ভাইকে দিয়ে ১৫ দিনের মেডিকেল ছুটির আবেদন পাঠিয়ে দেয় পিটিআই-এর সুপারিনটেনডেন্ট নাছির উদ্দিনের কাছে। অজ্ঞাত কারণে নাছির উদ্দিন ওই ছুটির অনুমোদন করেন। সে ছুটির মেয়াদ ছিলো ৩ জুলাই পর্যন্ত। যার পর দিন ৪ জুলাই হাবিব পুন:রায় দেড় মাসের ছুটির আবেদন করেন এবং শেষ মেয়াদ ১৯ আগষ্ট। এই ছুটির আবেদনও মঞ্জুর করেছেন পিটিআই-এর সুপারিনটেনডেন্ট নাছির উদ্দিন। যে আবেদনের সাথে হাবিব দিয়েছে মেডিকেল সার্টিফিকেট। ওই সার্টিফিকেট হাবিব এনেছে রাজবাড়ী থেকে ১শত ৯১ কিলো মিটার দুরে অবস্থিত কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়াচরের হেলথ্ কেয়ার ডাগোনেস্টিক সেন্টার থেকে।
অপরদিকে, রাজবাড়ী জেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি চিরকুমার হাবিবুর রহমান মোল্লা হাবিব কর্তৃক পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রীকে যৌনহারানীর করার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সদর উপজেলার বার্থা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অসিম কুমার নাগের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে কু-প্রস্তাব দেবার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত সোমবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত এলাকার বাসিন্দারা ওই প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয়ের নিজ কক্ষের মধ্যে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে সদর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার কর্তৃক আগামী দশ দিনের মধ্যে ওই শিক্ষককে প্রত্যাহারের ঘোষনা দেয়ায় জনগণের রোষানল থেকে মুক্তিপায় ওই শিক্ষক। সদর উপজেলার বাণিবহ ইউনিয়নের বার্থা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাহাতাব হোসেন খান জানান, এক সপ্তাহ আগে দুই সন্তানের জনক এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অসিম কুমার নাগ (৪৫) পঞ্চম শ্রেণীতে পড়–য়া এক ছাত্রীকে কু-প্রস্তাব প্রদান করে। ওই বিষয়টি মেয়েটি তার মাকে বলে এবং তার মা তা অন্যান্য শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের জানান। এর পরই ওই দিন সকাল ১১টার দিকে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা সম্মিলত ভাবে বিদ্যালয় চত্বরে প্রবেশ করে। তারা ওই শিক্ষককে তার অফিস রুমের মধ্যে অবরুদ্ধ করে। সেই সাথে তারা ওই শিক্ষককে মারপিট করার চেষ্টায়ও লিপ্ত হয়। ফলে তিনি বিষয়টি সদর উপজেলা প্রথমিক শিক্ষক অফিসের কর্মকর্তাদের অবহিত করেন। শিক্ষা কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌছে আগামী দশ দিনের মধ্যে প্রধান শিক্ষক অসিম কুমার নাগকে এ বিদ্যালয় থেকে প্রত্যাহারের ঘোষনা প্রদান করলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তিনি আরো বলেন, প্রধান শিক্ষক অসিম কুমার নাগের চারিত্রক বৈশিষ্ঠ ভাল নয়। ইতোপূর্বে যত গুলো বিদ্যালয়ে তিনি চাকুরী করেছেন, সে সব বিদ্যালয়ে তিনি ছাত্রীদের যৌনহয়রানিসহ নানা রকম অঘটন ঘটিয়েছেন। ফলে তাকে ওই সব বিদ্যালয় থেকেও প্রত্যাহার করা হয়েছে।

(Visited 494 times, 1 visits today)