ঈদ শেষে দৌলতদিয়ায় যাত্রী ও যানবাহনের চাপ কমলেও দুর্ভোগ কমেনি –

আজু সিকদার, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

 

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় গত কয়েকদিনের তীব্র যানজট পরিস্থিতি শনিবার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। যাত্রী ও যানবাহনের চাপ অনেকটাই কমে এসেছে। কিন্তু তাতেও সাধারন যাত্রীদের দূর্ভোগ কমেনি। মহাসড়কে ছোট যানবাহন বন্ধ থাকাতে প্রায় ৮/১০ কিলোমিটার ঘুরে ও ৫/৬ গুন বেশী ভাড়া দিয়ে তাদেরকে ঘাটে পৌঁছাতে হচ্ছে। সাথে রয়েছে দুর্ভোগ।
সরেজমিন দেখা যায়, শুক্রবারের তীব্র যানজট পরিস্থিতি শনিবার সকাল থেকে অনেকটা কমে এসেছে। আগের দিন মহাসড়কে ৮/১০ কিলোমিটার জুড়ে যানজট ও দুঃসহ গরমে কর্মস্থলগামী যাত্রীরা ছিলেন নাকাল। তবে শনিবার দুপুরের পর থেকে আবার কিছুটা চাপ বাড়তে থাকে। বিকেল চারটা নাগাদ ফেরি ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে মহাসড়কের ৩ কিলোমিটার দুরে বাংলাদেশ হ্যাচারীজ পর্যন্ত ফোরলেন সড়কের পশ্চিম পাশে দুই সারিতে অন্তত ৫ শতাধিক যানবাহন আটকে থাকতে দেখা যায়। এরমধ্যে অন্তত ২ শতাধিক যাত্রীবাহি বাস রয়েছে। পন্যবাহি ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানগুলো আটকে আছে ২/৩ দিন ধরে। তবে মহাসড়েকের পূর্বদিকের লেন পুরো ফাঁকা রয়েছে। ফেরি থেকে নেমে বা ঘাট থেকে যে কোন যানবাহন নির্বিঘেœ গন্তব্যে চলে আসছে। তবে আটকে থাকা বাসযাত্রীদের অনেককেই দীর্ঘ সময় আটকে না থেকে ঘাটের উদ্দেশ্যে হেঁটে যেতে দেখা যায়।
এদিকে ঘাট পরিস্থিতির অনেকটা উন্নতি হলেও যাত্রীবাহি পিকআপ, মাহেন্দ্র, অটোরিক্সার মত ছোট যানবাহনগুলোকে গত কয়েকদিনের ন্যায় ঘাট থেকে ৫ কিলোমিটার দুরে গোয়ালন্দ বাজার বাসস্ট্যান্ড হতে ঘুরিয়ে দিচ্ছে পুলিশ। এই যানবাহনগুলো প্রায় ৮/১০ কিলোমিটার ঘুরে চর দৌলতদিয়া হয়ে ঝুকিপূর্ণ গ্রামীণ সড়ক দিয়ে ঘাটে পৌছাচ্ছে। এই যানবাহনগুলো হতে গোয়ালন্দ মোড় থেকে যাত্রী প্রতি ১০০ টাকা এবং গোয়ালন্দ বাসস্ট্যান্ড হতে ৪০/৫০ টাকা করে আদায় করছে। যা স্বাভাবিক ভাড়ার চেয়ে ৫/৬ গুন বেশী।
অটোরিক্সা চালক লুৎফর রহমান, মাহেন্দ্র চালক আজাদ শেখ, হয়রত আলীসহ অনেকেই বলেন, গত কয়েক দিনের চেয়ে আজকে (শনিবার) ঘাটের অবস্থা অনেক ভালো। তবুও পুলিশ ঘাটে যেতে দিচ্ছে না। এতেকরে তাদেরকে দীর্ঘ পথ ঘুরতে হচ্ছে। যাত্রীদের সময় ও বেশী টাকা ব্যায় হচ্ছে।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মীর্জা একে আজাদ জানান, ঘাট পরিস্থিত শনিবার অনেকটা স্বাভাবিক থাকলেও ছোট গাড়িগুলোকে ঘাটে আসতে দেয়া হচ্ছে না। এ গাড়িগুলোকে সরাসরি ঘাটে ঢুকতে দিলে অল্প সময়ের মধ্যেই যানজট সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলাদেশ অভ্যান্তরীন নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম জানান, নৌরুটে ২০টি ফেরি দিনে সার্বক্ষনিক চলাচল করছে। রাতে রোরো ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ও ইউটিলিটি ফেরি সন্ধ্যামলতি লোকবল সংকটে বন্ধ রাখা হচ্ছে। যাত্রী ও যাত্রীবাহি যানবাহন গুলোকে গত কয়েকদিন বাড়তি চাপের কারণে অগ্রাধিকার দিয়ে পারাপার করা হয়েছে। এজন্য কিছু পন্যবাহি গাড়ি আটকা পড়ছে। এগুলো পর্যায়ক্রমে পারাপার করা হবে।

(Visited 27 times, 1 visits today)