শহীদওহাবপুরের চেয়ারম্যান তোরাপ আলীসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ১ –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

ঈদ উপলক্ষে হতদরিদ্রদের জন্য প্রদান করা ভিজিএফ-এর ৩হাজার ৭ শত কেজি চাল আতœসাৎ ও পাচারকরী ইউপি চেয়ারম্যানকে পাশে পেয়েও আটকের ব্যবস্থা করেননি রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহি অফিসার। যে কারণে ঘটনার পর মামলা দায়ের করা হলেও ইউপি চেয়ারম্যান আতœগোপনে চলে যাওয়া গতকল মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্তও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। যার ফলে এলাকায় বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
জানাগেছে, গত বৃহস্পতিবার বিকালে শহীদওহাবপুর ইউনিয়নের মমিন বাজার এলাকার জনৈক মনো মিয়ার হলুদের মিলের একটি ঘরের মধ্যে খাদ্য অধিদপ্তরের সিলযুক্ত খালি বস্তা পরে থাকতে দেখা যায়। সেই সাথে একই ঘরের মধ্যে স্তুপ আকারে চাল ফেলে রাখতেও তারা দেখেন। বিষয়টি দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিষয়টি জানানো হয়। খবর পেয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইদুজ্জামান খান ঘটনাস্থলে যান এবং ৩ হাজার ৭শত কেজি চাল জব্দ করা।
শহীদওহাবপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিন খান জানান, রমজান মাস এবং ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শহীদওহাবপুর ইউনিয়নের এক হাজার ৪শত ৪২টি হত দরিদ্র পরিবারের মধ্যে ভিজিএফ-এর চাল বিতরণের উদ্যোগ নেয়া হয়। এর মধ্যে ইউপি চেয়ারম্যান তোরাপ আলী মন্ডল ৩৭০টি হতদরিদ্র পরিবারকে বঞ্চিত করে ওই চাল গোপন বিক্রি করে দেয়, যে চাল ওই হলুদেও মিল থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সরকারের ভাল উদ্যোগ প্রশ্নবৃদ্ধ হয়েছে। তাই তিনি এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার দাবী জানিয়েছেন।
ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও রাজবাড়ী জেলা পরিষদের সদস্য নুর মোহাম্মদ ভুইয়া জানান, চাল জব্দ করার সময় ওই হলুদের মিলে ইউপি চেয়ারম্যান তোরাপ আলী মন্ডল উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয়রা যাচ্ছিলেন ইউএনও তোরাপ আলী মন্ডলকে আটক করুক অথবা পুলিশ ডেকে এনে তাদের কাছে সোর্পদ করুক। অথচ ইউএনও তেমনটি না করে গরীবের চাল আতœসাৎকারী ইউপি চেয়ারম্যানকে প্রকাশ্য বলেছেন, “চেয়ারম্যান সাহেব আপনার সাক্ষাৎকার আমি গ্রহণ করেছি, এখন আপনী এখানে না থেকে চলে যান।” ইউএনও’র নির্দেশনার সুযোগে ইউপি চেয়ারম্যান সকলের সামনে দিয়ে আতœগোপনে চলে যায়। এতে এলাকা বাসীর মাঝে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। অথচ চাল আতœসাত ও পাচারের ওই ঘটনার পর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইউপি চেয়ারম্যানকে প্রধান আসামি করে রাজবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এখন পুলিশ ইউপি চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে। যদি ইউএনও ঘটনার সময় ইউপি চেয়ারম্যানকে চলে যাবার নির্দেশ না দিতেন তাহলে পুলিশকে আর কষ্ট করতে হতো না। তারা ঘটনাস্থল থেকে ওই চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করতে পারতেন।
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইদুজ্জামান খান, ঈদ উপলক্ষে ওই ইউনিয়নের এক হাজার ৪শত ৪২টি হত দরিদ্র পরিবারের মধ্যে ভিজিএফ-এর চাল বিতরণ করার কথা ছিলো। তাহলে হলুদ মিলের ঘরে এই চাল আসলে কিভাবে। যে কারণে তিনি ইউপি চেয়ারম্যান তোরাপ আলী মন্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন।
ইউপি চেয়ারম্যানকে কাছে পেয়েও তাকে আটক না করার কারণ জানতে চাওয়া হলে ইউএনও বলেন, সেখানে কোন পুলিশ সদস্য ছিলো না, তাছাড়া তিনি ভ্রাম্যমান আদালতও পরিচালনা করেন নি। ফলে ইউপি চেয়ারম্যান তোরাপ আলী মন্ডলকে আটক করেননি। পরবর্তীতে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এখন পুলিশ ওই চেয়ারম্যানকে পুলিশ গ্রেপ্তার করবে।
রাজবাড়ী থানার ওসি তারিক কামাল জানান, সদর উপজেলার প্রকল্পবাস্তবায়ন কর্মকর্তা এসএম মনোয়ার মাহমুদ বাদী হয়ে ওই ইউনিয়নের সাদিপুর গ্রামের আচমত আলী মন্ডলের ছেলে ও ইউপি চেয়ারম্যান তোরাপ আলী মন্ডল, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও স্থানীয় রামপুর গ্রামের মোজাফ্ফর মুন্সির ছেয়ে মোহাম্মদ আলী এবং একই গ্রামের মোসলেম ঢালীর ছেলে মোনো মিয়া ঢালীকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। ইতোমধ্যেই মামলা ৩ নং আসামি মোনা মিয়া ঢালীকে গ্রেপ্তার করা সম্বব হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ঘটনাস্থলে প্রধান আসামি ছিলেন। একটু সদিচ্ছা থাকলেই সেখান থেকে ওই আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হতো। তারা না করায় এখন তাকে গ্রেপ্তার করতে অভিযান চালাতে হচ্ছে।

(Visited 1,123 times, 1 visits today)