যাত্রীদের জন্য নেই কোন সুবিধা, গোয়ালন্দের দু’টি রেলস্টেশনে যাত্রীদের ভোগান্তি –

আজু শিকদার, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ‘গোয়ালন্দ বাজার’ ও ‘গোয়ালন্দ ঘাট’ রেলস্টেশন দুইটিতে যাত্রীছাউনি, টয়লেট, টিউবওয়েল, বিশ্রামাগার ও বসার ব্যবস্থা পর্যন্ত নেই। এতেকরে স্টেশন দু’টিতে ট্রেন ভ্রমনে আসা যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
জানা গেছে, বৃটিশ আমল থেকে রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ গোয়ালন্দ। এখান থেকে তৎকালীন সময়ে ভারতের কোলকাতা ও শিলিগুড়িতে যাতায়াতের জন্য জনপ্রিয় মাধ্যম ছিল রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা। নৌপথে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গোয়ালন্দ স্টিমার ঘাটে নেমে যাত্রীরা ট্রেনে উঠত। বর্তমানে স্টিমারঘাট নেই, নেই কোলকাতা ও শিলিগুড়িতে সরাসরি যোগাযোগ। কিন্তু পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথ হয়ে এখনো অসংখ্য যাত্রী গোয়ালন্দ ঘাট হয়ে রেলপথে কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, রাজশাহী লাইনে চলাচল করে। কিন্তু গোয়ালন্দ ঘাট ও গোয়ালন্দ বাজার স্টেশনে এসে যাত্রীরা বিভিন্ন ধরনের ভোগান্তির শিকার হন। স্টেশন দু’টিতে দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীছাউনি, টয়লেট, টিউবওয়েল, বিশ্রামাগার ও বসার ব্যবস্থা নেই। গোয়ালন্দ বাজার রেলস্টেশনে দীর্ঘদিন ধরে স্টেশন মাস্টারসহ গুরুত্বপর্ণ বেশ কয়েকটি পদ শুন্য থাকায় এখানে সমস্যা আরো প্রকট।
সরেজমিন দেখা যায়, গোয়ালন্দ বাজার স্টেশনে প্লাটফর্মের অর্ধেকটা জুড়ে ছাউনি রয়েছে। কিন্তু ছাউনির নিচে কোন বসার ব্যবস্থা নেই। পুরুষ যাত্রীরা দাঁড়িয়ে এবং মহিলা ও শিশুরা বাধ্য হয়ে মাটিতেই বসে পড়তে বাধ্য হন। গোয়ালন্দ ঘাট স্টেশনে যাত্রী ছাউনিও নেই। স্টেশন দু’টিতে নেই কোন টয়লেট ব্যবস্থা। এতেকরে পুরুষ যাত্রীরা আশপাশের মসজিদ বা বিভিন্ন হোটেলের বাথরুমে গেলেও মহিলা যাত্রীদের পড়তে হয় চরম বিরম্বনায়। পর্যাপ্ত ছাউনি, বিশ্রামাগার বা বসার কোন ব্যবস্থা না থাকায় রোদ বৃষ্টিতে যাত্রীরা সীমাহীন দুর্ভোগ পোহান। টিউবওয়েল না থাকায় পানির কষ্টও পেতে হয় যাত্রীদের।
গোয়ালন্দ বাজার রেলস্টেশনে ট্রেনের জন্য অপেক্ষমান যাত্রী রীনা বেগম ও সামিয়া ফারহানা জানান, তাদেরকে প্রায়ই জরুরী প্রয়োজনে রাজবাড়ী যেতে হয়। রেল পথে নিরাপদ যাত্রা ও কম ভাড়ায় চলাচলের সুযোগ থাকায় ট্রেনেই বেশী চলাচল করে থাকেন। কিন্তু স্টেশনে এসে ট্রেনের অপেক্ষায় থাকাকালীন সময় খুবই দূর্ভোগ পোহাতে হয়। এখানে দ্রুত বসার ব্যাবস্থা এবং পানি ও বাথরুমের ব্যবস্থা করা দরকার।
গোয়ালন্দ ঘাট রেলস্টেশনে কথা হয় মানিকগঞ্জের মাকসুদুর রহমানের সাথে। তিনি জানান, আমি কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র। নদী পাড় হয়ে এসে গোয়ালন্দ ঘাট থেকে আন্তনগর ট্রেনে নিয়মিত যাতায়াত করি। কিন্তু স্টেশনে এসে ট্রেনের অপেক্ষায় যতক্ষন থাকি ততক্ষন বিভিন্ন ভোগান্তির শিকার হতে হয়।
স্থানীয় আতাউর রহমান মঞ্জু জানান, তিনি নিয়মিত এখান থেকে ট্রেনে যাতায়াত করেন। স্টেশনে যাত্রী সেবার তেমন কোন ব্যবস্থাই নেই। অথচ এই স্টেশন হতে রেলবিভাগ অনেক টাকা আয় করে থাকে। সেবার মান বাড়ানো হলে আরো যাত্রী বাড়ত। স্টেশনের খারাপ অবস্থার কারণে অনেক যাত্রী সড়ক পথে বাসে চলাচল করেন।
এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ ঘাট স্টেশন মাস্টার জিল্লুর রহমান জানান, তার স্টেশনটি ঘাট পয়েন্টে হওয়ার ভাঙনের আশংকায় রেলের নিয়ম অনুযায়ী প্লাটফর্মসহ অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণের নিয়ম নেই। তবে যাত্রীদের বিশ্রামাগার রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। গোয়ালন্দ বাজার স্টেশনে মাস্টার সহ অনেক পদ শুন্য। যাত্রীদের ভোগান্তিসহ সকল বিষয় উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ ভালো বলতে পারবেন।

(Visited 44 times, 1 visits today)