ঈদের আগে যান্ত্রিক ত্রুটির ফাঁদে কমছে ফেরি সংখ্যা, দৌলতদিয়ায় নতুন ফেরি ঘাট চালু নিয়ে অনিশ্চতা-

আজু শিকদার, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

রাজবাড়ীর  গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে ঈদে অতিরিক্ত যানবাহনের সামাল দিতে দুটি নতুন ঘাটের জন্য পন্টুন আনা হলেও ঈদের আগে তা চালু হওয়া নিয়ে অনিশ্চতার সৃষ্টি হয়েছে। অপরদিকে রুটের বিকল হয়ে কমেছে ফেরির সংখ্যা। এতেকরে দেখা দিয়েছে দুর্ভোগের আশঙ্কা।
জানা যায়, গুরুত্বপূর্ন দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট দিয়ে প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ হাজার যানবাহন পারাপার করা হলেও ঈদযাত্রায় সেই পরিমান দাঁড়ায় আরো কয়েক গুন। আর ২/১ দিন পরেই ঘাটে শুরু হবে ঘরমুখো মানুষের ঢল। এই অবস্থায় বিকল হয়েছে চলাচলকারী কয়েকটি ফেরি। গত মঙ্গলবার হঠাৎ করে মাঝ নদীতে বিকল হয় রোরো (বড়) ফেরি শাহ আলী, পরেরদিন বুধবার বিকেলে রোরো ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন এবং ইউটিলিটি ফেরি রজনীগন্ধা বিকল হলে ফেরিগুলোকে পাটুরিয়ার ভাসমান কারখানা মধুমতিতে পাঠায় কর্তৃপক্ষ। এরমধ্যে বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন ফেরিটি মেরামত স্থায়ী হচ্ছে না।
সরেজমিন দেখা যায়, দৌলতদিয়ায় নতুন দুটি ঘাট চালু করতে ২ ও ৬ নম্বর ঘাটে বিআইডব্লিউটিএ’র নিজস্ব দুটি পন্টুন আনা হয়েছে। সেখানে শ্রমিকরা বালু ও ইটের খোয়া ভর্তি বস্তা ফেলে ঘাটের সংযোগ সড়ক চালুর কাজ করছে। কয়েকজন শ্রমিক জানায়, পন্টুন ও ঘাট চালাতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক লোকবল প্রয়োজন। পন্টুন ধরে রাখতে আরো প্রয়োজন আনুসাঙ্গিক সরঞ্জমাদি। এসব না থাকায় ঘাট চালু করা সম্ভব হবে না। যদি ঈদের আগেই নতুন দুটি ঘাট চালু করা সম্ভব না হয়, তাহলে যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে দুর্ভোগের আশঙ্কা রয়েছে।
কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা ট্রাকের চালক আ. রহমান জানান, ঈদের এখনও বেশ কয়েক দিন বাকী থাকলেও ফেরি সংকটে এরই মধ্যে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। তীব্র গরমের মধ্যে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের।
ফরিদপুর থেকে ছেড়ে আসা গোল্ডেন লাইন পরিবহনের সুপারভাইজার নাসির হোসেন জানান, দৌলতদিয়া ঘাটের এই ভোগান্তি আজ নতুন নয়। এখন ঢাকামুখি গাড়ির চাপ কম থাকলেও দৌলতদিয়া বসে আছি এক ঘন্টারও বেশি সময় ধরে। হয়তো আর অল্প কিছুক্ষনের মধ্যে ফেরি পেয়ে যাব।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম জানান, ঈদে ঘরমুখি হাজার হাজার মানুষ এবং যানবাহন পারাপার নির্বিঘœ করতে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ন্যূনতম ১৯টি ফেরি ও ছয়টি ঘাট চালুর সিদ্ধান্ত হয়। বর্তমানে এই নৌরুটে ১৬ টি ফেরি রয়েছে। এরমধ্যে দু’একটি ফেরিকে মাঝে মধ্যে বন্ধ করে মেরামত করতে হচ্ছে। এছাড়া নতুন করে আরো দুটি ঘাট বাড়াতে বিআইডব্লিউটিএ’র দুটি পন্টুন আনা হলেও এখন পর্যন্ত চালু করা সম্ভব হয়নি। ৬নং ঘাটটি অনেকটা প্রস্তুত হলেও এখনো ফেরি ভেড়ানোর জন্য প্রস্তুত হয়নি। তিনি আরো জানান, বিকল থাকা ফেরিগুলো ভাসমান কারখানা মধুমতিতে মেরামত করা হচ্ছে। আগামী দুই এক দিনের মধ্যে ফেরিগুলো বহরে যুক্ত হবে। এছাড়া ঈদ উপলক্ষে আরো দুটি ফেরি রুটে যোগ দেয়ার কথা রয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএ আরিচা কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম বলেন, নতুন দুটি ঘাট চালু করতে ইতিমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে লোকবল নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জমাদী সরবরাহ করে ঘাট দুটি চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

(Visited 65 times, 1 visits today)